নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা

ছয় মাসে মামলা নিষ্পত্তি না হলে ব্যবস্থা নেবে মনিটরিং সেল

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১১ মে ২০১৭, ১৮:০৬আপডেট : ১১ মে ২০১৭, ১৮:০৬

হাইকোর্ট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি না হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মনিটরিং সেল গঠন করার নির্দেশনা দিয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়েছে। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি জেবিএম হাসান স্বাক্ষরিত দশ পৃষ্ঠার রায় বৃহস্পতিবার (১১ মে) প্রকাশ করা হয়। রায়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে এই সেল গঠন করতে বলা হয়।

ওই সেলের প্রধান হিসেবে রেজিস্ট্রার জেনারেল নিজেও থাকতে পারেন। যদি তিনি না থাকেন, তাহলে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রারকে ওই সেলের প্রধান করতে বলা হয়েছে।

আইনজীবী কুমার দেবুল দে সাংবাদিকদের জানান, ‘এ রায় বাস্তবায়ন হলে নারী ও শিশু নির্যতন দমন আইনে বিচারাধীন মামলা দ্রুত নিস্পত্তি হবে।’

প্রকাশিত রায়ে বলা হয়েছে, এই মনিটরিং সেল ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি না হওয়া নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের মামলার বিষয়ে বিচারক, পাবলিক প্রসিকিউটর ও তদন্তকারী কর্মকর্তার পাঠানো প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অধঃস্তন আদালত সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের কমিটির কাছে একটি প্রতিবেদন দাখিল করবেন। এ মনিটরিং সেলে আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব অথবা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মর্যাদার দু’জন প্রতিনিধি রাখতে বলা হয়।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি না হলে কেন হয়নি তার কারণ উল্লেখ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারককে এক মাসের মধ্যে একটি প্রতিবেদন সুপ্রিম কোর্টে পাঠানোর বিধান রয়েছে। একইসঙ্গে মামলার পাবলিক প্রসিকিউটর ও তদন্তকারী কর্মকর্তাকেও অনুরূপ প্রতিবেদন সরকারের নিকট দাখিলের নির্দেশনা রয়েছে।

কিন্তু বিচারক, পিপি ও তদন্তকারী কর্মকতা কেউই এই বিধান যথাযথভাবে পালন করছেন না। এই বিধানটি যথাযথভাবে পালনের লক্ষ্যে একটি মনিটরিং সেল গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

স্ত্রীকে হত্যার দায়ে মিলাদ হোসেন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গত বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি চট্রগ্রামের রাংগুনিয়া থানায় একটি মামলা করা হয়। ঘটনার দিনই তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন। ওই বছরের শেষের দিকে মামলাটি চট্রগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ বিচারের জন্য যায়। চলতি বছরের ২১ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। অভিযোগ গঠনের পর সাত মাসেও কোনও সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ সম্ভব হয়নি। আইনানুযায়ী মামলাটি ১৮০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি না হওয়ায় আসামির জামিন চেয়ে আবেদন করেন আইনজীবী কুমার দেবলু দে। গত ১ নভেম্বর ওই জামিন আবেদনের শুনানির সময় আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হয়। এরপর আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের মামলা ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি না হলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিধান প্রতিপালন করতে এই মনিটরিং সেল গঠনের নির্দেশ দিয়ে এ রায় দেন।

/এমটি/ইউআই/এসএমএ/

আরও পড়ুন
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা যাবে না

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
বিশ্বের সেরা ১০০ উপন্যাস : বাছাই ও বির্তক
বিশ্বের সেরা ১০০ উপন্যাস : বাছাই ও বির্তক
ঢাকায় পৌঁছেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান 
ঢাকায় পৌঁছেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান 
পুলিশের নজরবন্দি আইভী
পুলিশের নজরবন্দি আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি