Vision  ad on bangla Tribune

প্রস্তাবিত বাজেট ভোট নষ্টের বাজেট: ফিরোজ রশীদ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট১৫:৩০, জুন ২০, ২০১৭

 

কাজী ফিরোজ রশীদ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ভোট নষ্ট করার বাজেট বলে অভিহিত করেছেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ। মঙ্গলবার বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি এ মন্তব্য করেন।

কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘আগামী বছর তো ভোট। এটা কি ভোটের বাজেট দিলেন নাকি ভোট নষ্ট করার বাজেট দিলেন? ভোটারদের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করলেন আর তারপর তাদের কাছে ভোট চান, দেশের মানুষ কি এতই পাগল?

তিনি আরও বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এটা তার জীবনের শ্রেষ্ঠ বাজেট। কিন্তু এটা মানুষের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়েছে। আমার মতে এই বাজেট হচ্ছে ২০১৭ সালে জনগণের জন্য শ্রেষ্ঠ তামাশা। এটা কোনও বাজেট হয়নি। অর্থমন্ত্রীর আছে আমরা ক্ষমা চাই। আপনার কাছে আমরা আর বাজেট চাই না। আপনি কী বাজেট দিয়েছেন?’

ব্যাংক আমানতের ওপর আবগারি শুল্কারোপের সমালোচনা করে জাপা এমপি বলেন, ‘ব্যাংকে টাকার ওপর আবিগারি শুল্ক বাড়ালেন। আবগারি শুল্ক ধরা হয় মদ-গাজা-আফিম-ভাং-বিড়ি-সিগেরেট তামাকের ওপর। আমার নিজের টাকা আমি ব্যাংকে গচ্ছিত রাখছি। তার ওপর কর বসিয়ে দিলেন। এখন আসল নিয়ে টানাটানি। সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমালেন। ব্যাংকে টাকা রাখা যাবে না। সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবে না জনগণ। কোথায় রাখবে টাকা? এটা জনগণের ওপর কী ধরনের জুলুম?’

অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে আর অর্থমন্ত্রী তাদের প্রকেটশন দিয়ে যাচ্ছেন। উনাদের তিনি কেন প্রকেটশন দিচ্ছেন? অনেকগুলো ব্যাংক তার আমানত খেয়ে ফেলেছে। জনগণের কাছ থেকে আখের রসের মতো ছিবড়িয়ে ছিবড়িয়ে ট্যাক্সের টাকা আদায় করবেন। আর সেই টাকা নিয়ে ব্যাংকের লুটপাটের ভর্তুকি দেবেন। জনগণ ঠেকছে আপনাকে এই টাকা দিতে? গরীবের ওপর ট্যাক্স বসাবেন আর লুটেরাদের প্রটেকশন দেবেন। এটা তো জনগণ মেনে নেবে না। ভাত দেবার জো নেই, কিলানোর গোসাই।’

অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘ব্যাংক খাতের লুটপাটের সঙ্গে কারা জড়িত? আপনার যদি সৎ সাহস থাকে সংসদে তাদের নাম প্রকাশ করুন। আপনার সেই সৎ সাহস নেই। শেয়ার মার্কেট নিয়ে কেলেঙ্কারির পর ইব্রাহীম খালেদ একটি রিপোর্ট দিয়েছিলেন। তাতে সবই আপনার নিজেদের লোকের নাম এলো। প্রকাশ করলেন না কেন? ব্যবস্থা নিলেন না কেন? একদিন জনগণ কিন্তু ঠিকই ব্যবস্থা নেবে।’

বিড়ির ওপর উচ্চহারে কর আরোপের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘গরীবের বিড়ির ওপর ১০ শতাংশ ট্যাক্স বসিয়েছেন। আর বড় লোকের সিগারেটের ওপর  বসিয়েছেন ২ শতাংশ। এটা গরীবের ওপর কী ধরনের অবিচার? এটা তো মহাজুলুম, মাঘমাসের কনকনে শীতে বড় লোকেরা কম্বল গায়ে দিয়ে ঘুমিয়ে থাকে। আর ওই কাক ডাকা ভোরে কৃষকরা যখন ফসল উৎপাদনের জন্য লাঙ্গল নিয়ে ক্ষেতে যায় তখন ওই বিড়িই থাকে তাদের একমাত্র সম্বল। শীতে তাদের রক্ত জমাট বেঁধে আসে। তখন তারা বিড়ি ফুঁকায়। বিড়ি না খেলে তারা চাষ করতে পারে না।’

বাজেট নিয়ে মন্ত্রীদের সমালোচনার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘অবাক লাগে যখন দেখি মন্ত্রীরা এই সংসদে দাঁড়িয়ে বাজেটর সমালোচনা করছেন। এই বাজেট তো আপনারা মন্ত্রীসভায় পাস করে এসেছেন। আর এখন সমালোচনা করছেন। সমালোচনার নৈতিক অধিকার কি আপনাদের আছে?’

কৃষি যন্ত্রের ওপর ভ্যাট আরোপের সমালোচনা করে ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘কৃষি যন্ত্রপাতির ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট ধরা হয়েছে। কৃষক কীভাবে বাঁচবে? এতে সেচযন্ত্রের দাম বেড়ে যাবে। কৃষক একটি পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষ করে, ধান মাড়াই করে আবার সেটা দিয়ে ভটভটি চালায়। শ্যালো মেশিন দিয়ে জমিতে পানি দেয় আবার আওয়ামী লীগের নৌকাও কিন্তু ওই শ্যালো মেশিনে চলে। এই শ্যালো মেশিনের ওপর ভ্যাট বসাবেন নৌকা কিন্তু চলবে না। নৌকার ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাবে।’

ব্যাংকের মালিকরা জনগণকে ঠকিয়ে সেই টাকার অংশ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দান করছেন উল্লেখ করে ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘ব্যাংকের মালিকরা প্রায়ই প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে মুক্ত হস্তে শত শত কোটি টাকা দান করেন। বছরে প্রায় ৮/১০ বার তাদের বড় বড় ফটো ওঠে। একজনকে দেখি, ইয়া বড় দাঁড়ি! গিয়ে ফটো উঠাচ্ছেন এবং প্রধানমন্ত্রীকে টাকার বস্তা দিয়ে যাচ্ছেন। খুবই শুভ উদ্যোগ এটা। কিন্তু তারা যে টাকা দিচ্ছেন এটা তো তাদের নয়। এই টাকা জনগণের। জনগনের জামানতের লভাংশ কম দিয়ে, বিভিন্ন কারণে অকারণে সার্ভিস চার্জ কেটে নিয়ে শত শত কোটি আয় করছেন। আর সেই টাকা অকাতরে দান করে পরের ধনে পোদ্দারি করছেন। এটা অনৈতিক। এটি তদন্ত করতে একটি টিম করা দরকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই ব্যবসায়ীদের দুটো হাত থাকে। একটা থাকে প্রধানমন্ত্রীর দিকে। আরেকটা থাকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দিকে। এটা হচ্ছে তাদের ব্যবসার কৌশল।’

সরকারি দলকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘নতুন স্লোগান উঠেছে উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ। সত্যিই তো সময় এখন আপনাদের। যা ইচ্ছা তাই খাবেন। যা ইচ্ছা তা বলবেন। দয়া করে ক্ষমতার অপব্যবহার করবেন না। ক্ষমতা আছে বলেই কাউকে আঘাত আর অপমাণিত করবেন না। আজ আপনি অনেক শক্তিশালী। মনে রাখবেন সময় আপনার থেকে অনেক শক্তিশালী এবং সময় খুব ভালো প্রতিশোধ নিতে পারে। আপনার ক্ষমতার দম্ভে কেউ এখন চুপ থাকলে তার মানে এই নয় যে তার কষ্ট হয়নি। বুঝতে হবে সে সময়ের অপেক্ষা করছেন মাত্র।’

ইসলাম ধর্ম নিয়ে কিছু লোকের মন্তব্য অপ্রতাশিত উল্লেখ করে তিনি বলে, ‘এখন ইসলাম নিয়ে সমালোচনা করা কিছু লোকের ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। টিভি টক শোতে গিয়ে ইসলামের সমালোচনা করা হয়। এ দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ মুসলমান। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে ভিমরুলের চাকে ঢিল ছুড়বেন ন। ফলাফল ভালো হবে না। ৯০ শতাংশ মানুষের অনুভুতির ওপর আঘাত দেওয়ার অধিকার আপনাদের কেউ দেয়নি।’

/ইএইচএস/এসএনএইচ/

samsung ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ