শহীদ মিনারে শহীদুল হক মামাকে শেষ শ্রদ্ধা

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৪ জুলাই ২০১৭, ১৩:১৫আপডেট : ০৪ জুলাই ২০১৭, ১৩:১৫

 

শহীদ মিনারে রাখা হয় শহিদুল হক মামার লাশ মুক্তিযুদ্ধকালে মামা গেরিলা বাহিনীর প্রধান সুইডেনপ্রবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল হক মামাকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে বিদায় জানালেন সহযোদ্ধা, অনুরাগী ও পরিবারের সদস্যরা। মঙ্গলবার সকালে শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষ তার মরদেহে শ্রদ্ধা জানান। গত ৩০ এপ্রিল এই বীর মুক্তিযোদ্ধা কাতারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান (ইন্না লিল্লাহি… রাজিউন)।  মৃত্যুর পর তার লাশ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল থেকে ঝিরঝির বৃষ্টি উপেক্ষা করে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের মানুষ, অ্যাক্টিভিস্টসহ তার সহযোদ্ধারা উপস্থিত হতে শুরু করন শহীদ মিনারে। শুরুতে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাকে সেখানেই রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে ‘গার্ড অব অনার’দেওয়া হয়। এরপরই একে একে ফুল দিয়ে নীরবতা পালন করে শেষ বিদায় জানান তাকে। গার্ড অব অনার দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছাদুজ্জামান খাঁন কামাল, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, মুক্তিযোদ্ধা বিচ্ছু জালাল প্রমুখ।

শ্রদ্ধা জানানো শেষে বিচ্ছু জালাল বলেন, ‘শহীদুল হক সবসময় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছেন। তার মতো সাহসী ভূমিকায় থাকা মানুষ চলে যাওয়া সমাজের অপূরণীয় ক্ষতি হয়।’

১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের গেরিলা কমান্ডার, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট সমাজকর্মী শহিদুল হক মামার মরদেহ মঙ্গলবার ভোরে কাতার এয়ারওয়েজের একটি বিমানে বাংলাদেশে পৌঁছায়। এরপর সকাল সাড়ে ১০ টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়। পরে দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদুল জামিয়ায় নামাজে জানাজা শেষে তাঁকে জন্মস্থান রূপনগরে নিয়ে যাওয়া হবে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। পরে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

শহীদ মিনারে শহীদুল হক মামাকে শেষ শ্রদ্ধা এর আগে সোমবার স্থানীয় সময় বিকালে কাতারের দোহার আবু হামোর মসজিদে তার প্রথম নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়। এতে অংশ নেন কাতারের বাংলাদেশি কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা।

উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধকালে ২ নম্বর সেক্টরের মেলাঘর ইউনিটের প্রধান শহীদুল হকের পরিচয় হয়ে দাঁড়ায় মামা বাহিনীর মামা হিসেবে। তিনি মিরপুরের শেষ যুদ্ধের সাক্ষী। সে সময় বিহারিদের দখলে থাকা দুর্ভেদ্য ঘাঁটি মিরপুর মুক্ত করেন শহীদুল হক। একাত্তরের এই গেরিলা যোদ্ধা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে করা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের দ্বিতীয় সাক্ষী ছিলেন। অসুস্থ অবস্থায় তিনি দিনের পর দিন ট্রাইব্যুনালে এসেছেন কেবল নিজ চোখে বিচার দেখবেন বলে।

দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে কাতারের ওয়াকরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ৩০ জুন দুপুরে না ফেরার দেশে চলে যান করেন শহীদুল হক মামা। তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

/ইউআই/এসএনএইচ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশ ম্যাচে প্রথমবার থাকছে ভিএআর 
সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশ ম্যাচে প্রথমবার থাকছে ভিএআর 
বিদুৎ-জ্বালানির দাম কমানোর দাবি এনসিপির
বিদুৎ-জ্বালানির দাম কমানোর দাবি এনসিপির
ভৈরবে রেলপথ অবরোধ: ৫টি ট্রেন মাঝরাস্তায় আটকা, চলাচল ব্যাহত
ভৈরবে রেলপথ অবরোধ: ৫টি ট্রেন মাঝরাস্তায় আটকা, চলাচল ব্যাহত
‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে নোবেল দিলে সেটা তারেক রহমান পাবেন’
‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে নোবেল দিলে সেটা তারেক রহমান পাবেন’
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি