Vision  ad on bangla Tribune

পদ্মা সেতুর স্প্যান বসানোর প্রস্তুতি চলছে, উপস্থিত থাকতে পারেন প্রধানমন্ত্রী

শফিকুল ইসলাম২৩:১৪, জুলাই ১৭, ২০১৭

 

পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজপদ্মার দুই পাড়জুড়ে (মাওয়া ও জাজিরা) চলছে পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ। রোদ, বৃষ্টি ও ঢেউয়ে সঙ্গে লড়াই করে দেশি-বিদেশি শ্রমিক-প্রকৌশলীরা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এই মহাযজ্ঞ। তদারকিতে যুক্ত রয়েছে সেনা বাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল। চলতি বছরের জুনের শেষ দিকেই এই সেতু দৃশ্যমান করতে স্প্যান বসানোর কথা থাকলেও তা হয়ে ওঠেনি। টেকনিক্যাল কাজগুলো শেষ না হওয়ায়, চলতি মাসেও সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন সেতু সংশ্লিষ্টরা। তবে আগস্টের মধ্যে পদ্মা সেতু দৃশ্যমান করতে দুই পিলারের মধ্যে স্প্যান বসানোর জন্য তোড়জোড় চলছে। তবে দিন-ক্ষণ ঠিক না হলেও আগস্টের যেকোনও দিন আনুষ্ঠানিকভাবে স্প্যান বসানোর কাজ উদ্বোধন করার প্রস্তুতি রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থেকেই জাজিরা পয়েন্টে স্থাপিত দু’টি পিলারের ওপর পদ্মা সেতুর স্প্যান বসানোর কাজ শুরু করবেন।  

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিমুহূর্তে সেতু নির্মাণের কাজ তাদরকি করছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি সময় পেলেই ছুটে যাচ্ছেন পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকায়। কথা বলছেন, প্রকৌশলী, বিশেষজ্ঞ ও শ্রমিকদের সঙ্গে। খোঁজ-খবর নিচ্ছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন অগ্রগতি কাজের।

সংশ্লিষ্ট সেতু বিভাগ সূত্র জানায়, পদ্মার অন্যপ্রান্ত জাজিরা পয়েন্টে চলছে পাইল ড্রাইভ, মাওয়া পারে ট্রাস ফেব্রিকেশন ইয়ার্ডে চলছে স্টিলের কাঠামো ও স্প্যান জোড়া দেওয়ার কাজ। পিলারের ওপরে গাড়ি চলাচলের জন্য বসানো হবে এই স্প্যানগুলো। দেখা গেছে, মাওয়া চৌরাস্তার দক্ষিণে বিস্তৃত প্রকল্প এলাকার ট্রান্স ফেব্রিকেশন ইয়ার্ডে চলছে প্রায় তিন হাজার টনের একেকটি স্প্যান তৈরির কাজ।

সেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক সূত্রে জানা গেছে, প্রকৌশলীরা জানান, সেতুর মোট ৪২টি পিলারের মধ্যে এখন কাজ চলছে ১৬টির। পিলার বসবে পাইলের ওপর এবং মোট পাইল ২৪০টি। এর মধ্যে ২৮টি পাইলের কাজ পুরোপুরি এবং ৫৭টির কাজ অর্ধেক সম্পন্ন হয়েছে। পদ্মা সেতুতে মোট পিলারের সংখ্যা ৪২টি। এর মধ্যে মাওয়া প্রান্তে ২১টি ও জাজিরা প্রান্তে ২১টি। এসব পিলারের ওপর বসানো হবে স্প্যান। স্প্যানের ওপর ঢালাই দিয়ে গাড়ি চলাচলের জন্য উপযোগী করা হবে।

সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জানা গেছে, জাজিরায় ৩৭ নম্বর পিলারের নিচে রড বেঁধে ক্যাপ লাগানো শুরু হয়েছে। জাজিরা প্রান্তে ৩৭ নম্বর থেকে শুরু হবে স্প্যান বসানোর কাজ। তা একে একে পাতা হবে ৪২ নম্বর পিলার পর্যন্ত। সেখানে শুরু হয়েছে কংক্রিট ফেলার কাজ। ৩৮ নম্বর পিলারে ক্যাপ লাগানোর কাজও শুরু হয়েছে। ৩৭ থেকে ৪২ নম্বর পিলার পর্যন্ত ক্যাপ লাগানো শেষ হলেই এসব পিলারের ওপর বসানো শুরু হবে স্প্যান। নির্মাণাধীন পিলারগুলোর ওপর প্রথম দফায় কমপক্ষে পাঁচটি স্প্যান (স্টিলের কাঠামো) বসানোর প্রস্তুতি চলছে।

এখন পর্যন্ত চীন থেকে আটটি স্প্যানের আনুষাঙ্গিক যন্ত্রপাতি মাওয়ায় এসেছে। এর মধ্যে ছয়টি স্প্যান তৈরি করা হয়েছে। এর বাইরেও আরও দু’টি স্প্যান তৈরি হচ্ছে। চীন থেকে আরও ২০টি স্প্যানের যন্ত্রপাতিসহ আনুষঙ্গিক উপকরণ আসছে। জুলাইয়ের শেষের দিকে এগুলোর একটি চালান মাওয়ায় আসবে নৌপথে। গত মাসেও এসেছে চালান।  

জানা গেছে, মাওয়ায় এরই মধ্যে চার লেনের সংযোগ সড়ক ও টোল প্লাজার কাজ শেষ হয়ে গেছে। জাজিরায় শেষ হয়েছে চার লেনের সংযোগ সড়কের কাজ, টোল প্লাজা নির্মাণও শেষের দিকে। প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মূল সেতুর কাজ এগিয়েছে ৪৪ শতাংশ। পুরো প্রকল্পের কাজের অগ্রগতিও গড়ে ৪৪ শতাংশ।

প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, ‘গত বছর আগস্টের প্রথম সপ্তাহে স্প্যানের মূল কাঠামো ও সংযোজক সরঞ্জামাদি চীনের সিংহোয়াংদাওয়ের কারখানা থেকে প্রকল্প এলাকায় আসতে থাকে। মংলা বন্দর থেকে বার্জে চাঁদপুর হয়ে প্রকল্প এলাকায় আনা হয়েছে। স্প্যানের মূল কাঠামো জোড়া লাগিয়ে তৈরি করা হচ্ছে স্প্যান।’ তিনি আরও জানান, ‘প্রতিটি স্প্যান ১৫০ মিটার দীর্ঘ। স্প্যানগুলোর ওপর কংক্রিটের সমতলের সড়কের ওপর চলবে যানবাহন। প্রকল্প এলাকায় স্থাপিত পরীক্ষাগারে ওজন সক্ষমতাসহ বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা শেষে স্প্যানগুলো বসানো হবে। প্রতিটি স্প্যানের গড় ওজন ২ হাজার ৯০০ টন।’

পদ্মা সেতু প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এমন কর্মকর্তারা জানান, বিশ্বের অন্যতম খরস্রোতা নদীগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের পদ্মা অন্যতম। এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া থেকে শরীয়তপুরের জাজিরার মধ্যে ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার সেতু প্রকল্প অংশে পদ্মা আরও তীব্র খরস্রোতা।  গত ৩০ জুনের মধ্যে স্প্যান বসানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে তীব্র স্রোতের কারণে খুঁটি বসানোর কাজ শেষ করা যায়নি।

প্রকৌশলীরা জানান, নদীর তলদেশে মাটির স্তরের গঠন নিয়ে জটিলতা রয়েই গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বর্ষায় নদীর প্রবল স্রোত। এসব প্রতিকূলতা জয় করে মূল সেতুর পাইলিংয়ের কাজ চলছে। জাজিরা অংশে সব পিলারের পাইলিংয়ের মাটি পরীক্ষার কাজও শেষ হয়ে গেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ  চলছে। আমি নিজে বিষয়টি দেখভাল করছি। প্রতি সপ্তাহেই আমি প্রকল্প এলাকায় গিয়ে সেতু নির্মাণের অগ্রগতির খোঁজ-খবর নিচ্ছি। আশা করছি, শিগগিরই বিশ্ববাসীর সামনে  পদ্মা সেতু দৃশ্যমান হবে। নির্ধারিত সময়েই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘সময়-সুযোগ মিলে গেলে সেতুতে প্রথম স্প্যান বসানোর কাজটি প্রধানমন্ত্রী নিজের হাতে শুরু করতে পারেন।’

আরও পড়ুন: আগস্টে জাজিরা প্রান্তে দৃশ্যমান হবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু

/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ