ঈদে কোরবানির পশু জবাই করতে হবে নির্দিষ্ট স্থানে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৭:৫৫, জুলাই ১৯, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:১৩, জুলাই ১৯, ২০১৭

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। (ফাইল ছবি)ঈদুল আজহার দিনে রাস্তার ওপরে পশু কোরবানি না করে সিটি করপোরেশনের নির্দিষ্ট স্থানে পশু জবাইয়ের জন্য জনসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেছেন, কোনও কারণে নির্দিষ্ট স্থানে যেতে কারও সমস্যা হলে নিজ বাড়ির পরিত্যক্ত জায়গা অথবা আঙ্গিনায় তা করতে হবে। আজ বুধবার বিকালে স্থানীয় মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আসন্ন ঈদুল আজহার জামাত, কোরবানির পশুর হাট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অগ্রগতি সম্পর্কিত এক সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।
এসময় ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হক, দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক, চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আজম নাছির, নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী, ওয়াসার এমডি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় মেয়ররা অভিযোগ করেন, কয়েক বছর ধরে অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও ঈদুল আজহার দিনে রাস্তার ওপরে পশু কোরবানি থামানো যাচ্ছে না। এতে সড়কগুলো বর্জ্যে ভরে যাচ্ছে এবং সিটি করপোরেশনগুলোর চেষ্টা সত্ত্বেও সময়মতো সব বর্জ্য সরানো যাচ্ছে না। ফলে নগরবাসীকে দুর্গন্ধময় পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে মেয়রদের পক্ষ থেকে ঈদের দিনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সুপারিশ করা হয় সভায়। কিন্তু এ প্রস্তাবে সবাই একমত হননি।

সভায় উপস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক (জেআইইউ) মাহমুদা খানম উৎসবের দিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা না করার পক্ষে মত দেন। তিনি যুক্তি দেন, ওইদিন রাস্তায় যারা কোরবানি দেবেন তাদের অনেকের হাতে ধারালো অস্ত্র থাকবে। এ সময় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

এ কথায় একমত হয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, উৎসবের দিন আনন্দকে ম্লান করবে এমন কোনও আইনি কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হবে না।

সভায় বৃষ্টির পানিতে পশুর রক্ত মিশে যাওয়ার উল্লেখ করে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ‘গতবছর কোরবানির ঈদে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। সেদিন তুমুল বৃষ্টি ছিল। ফলে কোরবানির পশুর রক্ত বৃষ্টির পানিতে মিশে সারা শহরে ছড়িয়ে পড়ে। এই ছবি একটি অনলাইন ফলাও করে প্রচার করে যা আমাদের দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, আন্তর্জাতিক মহলেও ছড়িয়ে পড়ে। এ সংবাদটি আমাদের ইমেজ ক্ষুণ্ন করেছে। বহির্বিশ্ব বিশেষ করে ইউরোপীয় দেশগুলো আমাদের এই কৃষ্টি-কালচারের সঙ্গে অভ্যস্ত নয়। পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যেসব অতিথি ডিএসসিসিতে এসেছেন তারা সবাই এটি সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন।

এর জবাবে মন্ত্রী বলেন, এবারও সেপ্টেম্বর মাসের ১ তারিখে যদি কোরবানির ঈদ হয়, বর্ষা মৌসুম হওয়ায় তখন বৃষ্টি থাকবে এটাই স্বাভাবিক। আর রাস্তায় যদি বৃষ্টির পানি জমে যায় সেই পানি তো আমরা চেয়ে আনি না। কোরবানির রক্ত যদি ওই পানিতে মিশে লাল হয়ে যায় তাহলে আমাদের কিছু করার থাকে না, এটি অনিচ্ছাকৃত ঘটনা। এ বিষয়গুলো সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ না করার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। একইসঙ্গে বৃষ্টির মধ্যে পশু কোরবানি না দেওয়ার জন্য জনগণের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

সভায় বলা হয়, ঈদুল আজহায় এবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে পশু কোরবানি হতে পারে দুই লাখ ২১ হাজারটি, গতবছর এই এলাকায় কোরবানি করা হয়েছিল ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩৫টি পশু। আসন্ন ঈদুল আজহায় ঢাকা উত্তরে এবার ১০টি গরুর হাট বসবে। আর ঢাকা দক্ষিণে এবার পশু কোরবানি হতে পারে ২ লাখ ৭৫ হাজার। এখানে এবছর ১৩টি অস্থায়ী পশুর হাট বসবে।

সভায় কোরবানির পশু যথাস্থানে জবাই করতে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এজন্য  এবছর ঈদের ১৫ দিন আগে থেকে গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গতবছর এই প্রচারণা চালানো হয়েছিল ঈদের ৭ দিন আগে থেকে।

/এসআই/টিএন/

লাইভ

টপ