শ্রাবণে বৃষ্টি হবেই, ভোগান্তি ‘অন্যখানে’

Send
উদিসা ইসলাম
প্রকাশিত : ১৭:১৫, আগস্ট ১২, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৩৩, আগস্ট ১২, ২০১৭

বাংলাদেশে বর্ষাঋতু আষাঢ়-শ্রাবণ পার করে ভাদ্র পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকে। তাই এই তিন মাসে দেশে বৃষ্টিপাত হবেই কিন্তু রাজধানীর মানুষের সেই বৃষ্টি উপভোগের উপায় নেই বরং ভোগান্তি ষোল আনা। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকেই ছিল শ্রাবণ শেষের বৃষ্টি। ছুটির দিন বলে দিনটা একটু গা এলিয়ে চললেও শনিবার সকালে আর বাঁচোয়া নেই রাজধানীবাসীর। বৃষ্টির অবিরত ধারা আজ যেন রীতিমতো ভোগান্তির চিহ্ন হয়ে ফিরে এসেছে।

বৃষ্টির মধ্যে শিশু কোলে হাঁটছেন এক মা (ছবি- সাজ্জাদ হোসেন)

আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আজ (শনিবার) ঢাকায় দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ১৬ মিলিমিটার। এ বৃষ্টিপাত ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সন্তানদের নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছেন এক মা (ছবি- সাজ্জাদ হোসেন)


শনিবার সরকারি ছুটির দিন হলেও বেশিরভাগ বেসরকারি অফিস ও বেশ কিছু স্কুল খোলা ছিল। সকালে মোহাম্মদপুরের স্কুলগুলোর সামনে গিয়ে দেখা যায়, মর্নিং শিফট এর ক্লাস শেষ বেরিয়ে আসা শিশুরা বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ির পথে রওনা দিয়েছে। এমন এক শিশুকে নিতে আসা মা লায়লাতুন নেসা বলেন, ‘শ্রাবণে তো বৃষ্টি হবেই। কালকেও আমরা বর্ষার কবিতা পড়লাম অনুষ্ঠানে। কিন্তু বর্ষা উপভোগের শহর ঢাকা না। এখন খানাখন্দ পার হয়ে বাসার দিকে যাব কী করে সেটাই ভাবছি।’

বৃষ্টির মধ্যে যানজটে আটকে থাকা (ছবি- সাজ্জাদ হোসেন)

শুক্রবার বৃষ্টি হওয়ায় বাজারে আসেননি আনিসুর রহমান। শনিবারও সেই বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় বাজার আসতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি হেসে বলেন, ‘ছাতা নিয়ে হাঁটবো সে উপায়ও নাই। ফুটপাতে একে অপরের গায়ে ছাতার গুতো লাগে। আর পাড়া মহল্লার সব ফুটপাতে তো স্লাবগুলো তোলা। ফলে মেইন রাস্তা দিয়েই হাঁটা লাগে। সবমিলিয়ে এ শহরে বর্ষা অভিশাপ।’

বৃষ্টির কারণে রাস্তায় গাড়ি কম থাকায় লেগুনার সিঁড়িতে করে কাজে যাওয়া (ছবি- সাজ্জাদ হোসেন)

এরপর রাস্তায় ভিড় ছিল অন্যান্য শনিবারের মতোই। মানুষ কাজে বেরিয়েছেন, শিশুরা স্কুলে গিয়েছে, মা কাজে বেরিয়েছেন শিশুকোলে। রাজধানীতে বেশিরভাগ এলাকায় জ্যাম না থাকলেও পানি জমে যাওয়া পুরান ঢাকার বেশকিছু এলাকায় চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে আজও। 

বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচার চেষ্টা (ছবি- সাজ্জাদ হোসেন)

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহজুড়ে বাংলাদেশের আবহাওয়া এরকমই থাকতে পারে। হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বর্ষণ থাকবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এদিক খিলক্ষেত-আগারগাঁও-মিরপুর- শ্যামলী- নাখালপাড়া-মালিবাগের রাস্তার অলিতে গলিতে যে খানাখন্দ সে কাজও বর্ষায় বন্ধ রাখা হয়েছে। আগারগাঁও সিগন্যালের কাছে রাস্তা সংস্কার কাজের দায়িত্বে থাকা একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘বৃষ্টির জন্য কাজ বন্ধ রাখার কারণে কাজের সময় দীর্ঘায়িত হচ্ছে।’

স্কুলের পথে এক শিক্ষার্থী (ছবি- সাজ্জাদ হোসেন)

প্রকৃতির কারণেই শুধু নয়, মানুষসৃষ্ট কারণেও দুর্ভোগে পড়ছে রাজধানীবাসী। পান্থপথ থেকে নীলক্ষেত যাওয়ার গলিপথগুলো সব সংস্কারের নামে নষ্ট করে রাখা হয়েছে এমন অভিযোগ এনে সৌরভী সীমা নামের এক নারী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কিছু রাস্তা দেখা যায় ভালো, কিন্তু প্রয়োজনের কথা বলে সেই ভালো রাস্তা খুড়ে নষ্ট করা হয়। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার পর খুড়ে রাখা জায়গা কোনোমতে ভরাট করা হলেও রাস্তাটা ঠিক করা হয় না এবং ওই জায়গাগুলো উঁচু করে রাখা হয়। বর্ষা শুরুর আগে আগে এমন দায়সারা সংস্কার কাজের কারণে পথচারীদের ভোগান্তি আরও বাড়ে।

তিনি আরও বলেন, রাজধানীর কোনও রাস্তায় পানি জমে না সেটা বলাই এখন মুশকিল। কিন্তু নৌকা নামানো হলেও সেটি নিয়ে মেয়র বা সরকার চুপ। তাই আমরাও চুপ করেই এসব সহ্য করছি।

আবহাওয়া অফিসের রিপোর্ট অনুযায়ী গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগে প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড এলাকায়। এখানে রেকর্ড করা বৃষ্টির পরিমাণ ২২৮ মিলিমিটার। চট্টগ্রামের ১৩০ মিলিমিটার, রাঙ্গামাটিতে ২২৫ মিলিমিটার, হাতিয়ায় ৮৩ মিলিমিটার, কুমিল্লায় ৮১ মিলিমিটার।

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন

/ইউআই/টিএন/আপ- এমএ/

 

লাইভ

টপ