স্বরূপে ফিরছে ঢাকা, ফেরার পথেও ভোগান্তির অভিযোগ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৫:২৯আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৫:৩৫

কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘরে ফেরা মানুষের ভিড় ঈদের ছুটি শেষে আবারও পুরনো রূপে ফিরতে শুরু করেছে রাজধানী ঢাকা। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঈদ করে লোকজন সড়ক, নৌ ও রেলপথে ফিরতে শুরু করেছে। শনিবার যেন রাজধানী অভিমুখে মানুষের ঢলে নেমেছে। বলাই যায় আগামীকাল রবিবার থেকে স্বরূপে ফিরবে ঢাকা। তবে ফিরতি পথে কম ভোগান্তিতে পোহাতে হচ্ছে না লোকজনকে। যানজট, রাস্তার বেহাল দশার কারণেই এই ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীতে ফেরার পথে এবার বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে কর্মস্থলে ফেরা লোকজনের। তাদের বর্ণনায় ওঠে এসেছে সেই ভোগান্তির চিত্র। ৫ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে সময় লেগেছে ১৩-১৮ ঘণ্টা। রাস্তায় যথেষ্ট পুলিশ থাকলেও উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকামুখী সব রাস্তার বেহাল দশা ও ব্যবস্থাপনার অভাবকেই দায়ী করলেন যাত্রীরা। ফেরি সংকট আর নাব্যতার কারণে পাটুরিয়া ঘাটে ৬-৮ ঘণ্টা অপেক্ষারও খবর পাওয়া গেছে।

অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে এভাবেই ফিরছে ট্রেনগুলো, ছবি: ফোকাস বাংলা

রাজশাহী ও দিনাজপুর রুটের গাড়ি যমুনা সেতু এলাকায় ৪০ কিলোমিটার জ্যামে পড়েছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন,বরাবরই ঈদে বাড়ি যাওয়ার সময় এই ভোগান্তি হয়। কিন্তু ফেরার পথে এরকম এর আগে কখনও হয়নি।

শনিবার সকালে গাবতলীতে নামা রাইসুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রাজশাহী থেকে ১৮ ঘণ্টা জার্নি শেষে ঢাকায় ঢুকতে পারলাম।  সাধারণত রাজশাহী থেকে আসতে সাড়ে ৫ ঘণ্টা সময় লাগে।’

জ্যাম কোন জায়গায় বেশি ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার পর থেকেই চন্দ্রা পর্যন্ত পুরো রাস্তা জ্যামের মধ্যেই কেটেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়েছে। বিভিন্ন মোড়গুলোতে পুলিশের দেখা মিললেও তাদের সংখ্যা খুব কম।’

স্বরূপে ফিরছে ঢাকা, ফেরার পথেও ভোগান্তির অভিযোগ

রংপুর থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে সপরিবারে ফিরেছেন রেদওয়ানুল। তিনি বলেন, ‘এত ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি ঈদের আগে দেখা যেত। কারণ লক্করঝক্কর গাড়িগুলোও ঘরমুখী মানুষকে নিয়ে হাইওয়েতে নেমে পড়তো। ঈদ শেষে ফেরার সময় এ ধরনের পরিস্থিতিতে আমি পড়িনি। গত ১৫ বছর ঈদে যাতায়াত করছি। যাওয়ার সময় যে ভোগান্তি হয়,সবাই একসঙ্গে রওনা করে বলে এমন হয় বলে মেনে নিতাম। কিন্তু ফেরার সময়ও দেখলাম লক্করঝক্কর গাড়ি যেগুলো রাজধানীতে চলাচল করে সেগুলোও মহাসড়কে নেমে পড়েছে। আর রাস্তার অবস্থা ভয়াবহ।’

সদর ঘাটে মানুষের ভিড়, ছবি: ফোকাস বাংলা

ঈদ শেষে ঘরে ফেরার এমন ভোগান্তি আগে হয়নি উল্লেখ করে শাহরিয়ার রমি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কুমারখালি থেকে শুক্রবার রাত ১০টায় ছেড়ে আসা গাড়ি দৌলতদিয়া ঘাটে এসে পৌঁছায় রাত ১২টায়। ৫ ঘণ্টা অপেক্ষা করে ঘাট পার হতে পারি। এরপর সকাল আটটার দিকে ধামরাইয়ে এসে আবারও জ্যামের কারণে আটকে যায় গাড়ি। ঢাকায় এসে নামি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে।’ ৫ ঘণ্টার রাস্তা প্রায় ১৩ ঘণ্টা জার্নি করে তিনি কর্মস্থলে ফিরেছেন।

রেলস্টেশনে দেখা গেছে প্রতিটা ট্রেন ফিরছে অতিরিক্ত মানুষ বোঝাই তরে। বেশিরভাগ গার্মেন্টস শনিবার ও রবিবারে থেকে খোলার কথা থাকায় শুক্রবার থেকেই ট্রেনে মানুষের ভিড় দেখা গেছে।

রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় গাড়ির ভিড়, ছবি: ফোকাস বাংলা

মানুষ ফিরতে শুরু করায় এক সপ্তাহ পর রাজধানীর কিছু কিছু জায়গায় যানজটের দেখা মিলেছে। এতো হয়রানি পার করে রাজধানীতে ঢুকেও টেকনিক্যাল,আগারগাঁও,মিরপুর, আরামবাগ,পান্থপথ এলাকায় যানজটে পড়তে হয়েছে। অথচ এই কয়দিন যানজটমুক্ত রাজধানীতে নিশ্চিন্তে যারা চলাচল করেছেন তারা বলছেন, ঈদের রাজধানীতে টেনশনমুক্ত থাকা যায়। যেখানে যখন যেতে চাই বাড়তি সময় লাগে না, ক্লান্তিও লাগে না।

রাজধানীর বাংলামোটর এলাকা

ষাটোর্ধ ব্যবসায়ী তারিক হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রাজধানী ফাঁকা থাকলে আগের ঢাকার কথা মনে পড়ে। চলাচলটা সহজ হয়,বাড়তি চাপ থাকে না। কিন্তু তারপরও ঢাকা ব্যস্ত না থাকাও আমাদের সবার জন্যই ক্ষতিকর।’   

 

 

/ইউআই/এসটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
খলিলুর রহমানকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন
খলিলুর রহমানকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
জনআস্থা ও জবাবদিহিমূলক সংসদ গঠনে সাংবিধানিক জ্ঞান জরুরি: ডেপুটি স্পিকার
জনআস্থা ও জবাবদিহিমূলক সংসদ গঠনে সাংবিধানিক জ্ঞান জরুরি: ডেপুটি স্পিকার
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী