বিএনপি নেতাদের বিদেশে থাকা সম্পদের তদন্ত চলছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:৫১, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:০৩, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৭

জাতীয় সংসদে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পরিবারসহ বিএনপি নেতাদের বিদেশে যেসব সম্পদ রয়েছে, সেই বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, ‘ইতোমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে এই বিষয়ে সঠিক তথ্য পেলে তা ফেরত আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের সম্পদ যারা লুটে নিয়েছে, নিশ্চয়ই তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।


খালেদা জিয়ার পরিবারের বিদেশে থাকা সম্পদের বিষয়ে গ্লোবাল ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্কের (জিআইএন) এর সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদন তুলে ধরে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য বিষয়টি সরকার প্রধান অবহিত কিনা এবং এ বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নিয়েছেন কিনা তা জানতে চান।
জবাবে বিষয়টি সম্পর্কে সরকার অবগত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু জিআইএন রিপোর্ট দিয়েছে, কাজেই এই রিপোর্ট আমাদের কাছে আছে এবং এটার ওপর তদন্ত চলছে। তাছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে মানিলন্ডারিং এর জন্য একটি তদন্ত ব্যবস্থা আছে। সেই সূত্রেও তদন্ত করা হচ্ছে। এই তদন্তের মধ্যদিয়ে সত্যতা যাচাই করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত করে যখনই আমরা এই বিষয়ে সঠিক তথ্য পাবো, নিশ্চয়ই তা ফেরত আনার ব্যবস্থা নেবো। ইতোমধ্যে কিছু পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি। তদন্তের স্বার্থে আমি এই মুহূর্তে সব বলতে পারলাম না।’
বিষয়টি নিয়ে সংসদে প্রশ্ন করায় জাতীয় পার্টির এমপিকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংসদ নেতা বলেন, ‘সংসদে তথ্যটি তুলে ধরার জন্য সংসদ সদস্যকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা সরকার থেকে তুলে ধরলে বহু লোক আছে, তারা মায়াকান্না শুরু করতো, আমরা হিংসাত্মক হয়ে এটা করি। বিরোধী দল থেকে যেহেতু এটা এসেছে, নিশ্চয়ই মানুষ এটা উপলব্ধি করতে পারবে- জনগণের সম্পদ কিভাবে লুট করেছে। যার কারণে তাদের আমলে বাংলাদেশ পাঁচ-পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। কোনও উন্নতি করতে পারেনি। আর্থ-সামাজিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে।’
সিঙ্গাপুর থেকে খালেদা জিয়ার ছোট ছেলের টাকা ফেরত আনার প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ক্ষমতায় থাকতে দুর্নীতি করে দেশের সম্পদ বিদেশে পাচারের বহু অভিযোগ তো জনগণ সব সময় করেছে। এটা সকলেই জানে। ইতোমধ্যে খালেদা জিয়ার ছোট ছেলের টাকা আমরা কিছু ফেরতও আনতে সক্ষম হয়েছি। বোধহয় বাংলাদেশের ইতিহাসে এটাই প্রথম কারও পাচার করা টাকা ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। ’
এর আগে ফখরুল ইমাম প্রশ্নকালে জিআইএন রিপোর্টটি পড়বেন কিনা  জানতে চাইলে সংসদে উপস্থিত বেশিরভাগ সদস্য পড়ার জন্য অনুরোধ করেন।

রিপোর্টটি পাঠকালে তিনি বলেন, ‘দুবাইসহ অন্তত ১২টি দেশে জিয়া পরিবারের সম্পদ আছে। এই সম্পদের পরিমাণ এক হাজার দু’শো কোটি টাকা।’ এই সংসদ সদস্য প্রশ্ন করতে গিয়ে জানান, দুবাইয়ে খালেদা জিয়ার মালিকানায় একটি শপিং মল রয়েছে। কাতারে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন ‘ইকরা’র মালিক আরাফত রহমান কোকো। বেগম জিয়ার ভাগ্নে শাহিন আহমেদ তুহিনের নামে কানাডায় তিনটি বাড়ি রয়েছে। সিঙ্গাপুরে ‘মেরিনা বে’ নামে বিলাসবহুল হোটেলের শেয়ার রয়েছে বিএনপি সরকারের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশারফের। মেরিনা বে হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের ১৩ হাজার শেয়ারের মালিক তিনি। খন্দকার মোশারফের সিঙ্গাপুরে দু’টি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। মালয়েশিয়ায় রয়েছে তিনটি অ্যাপার্টমেন্ট। বিএনপির সাবেক আইনমন্ত্রী আমিনুল হকের নামে লন্ডনের স্ট্রাটফোর্ড ও অলগেটে দু’টি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। লন্ডনে বাড়ি আছে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদেরও। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের স্ত্রীর নামে দুবাইতে রয়েছে  অ্যাপার্টমেন্ট। সিঙ্গাপুরে মির্জা আব্বাস তার সন্তানের নামে দু’টি অ্যাপর্টমেন্ট কিনেছেন। মালয়েশিয়ায় মির্জা আব্বাসের স্ত্রীর নামে  ‘সিটি সেন্টার-২’ এ তিনটি ২৫০০ বর্গফুটের বাণিজ্যিক জায়গা (স্পেস) রয়েছে। বিএনপির আরেক নেতা নজরুল ইসলাম খানের সিঙ্গাপুরে অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে।
এদিকে সংসদের প্রশ্নোত্তরে সংরক্ষিত আসনের আমিনা আহমেদের প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের লক্ষ্যে কাজ চলছে। এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় এক কোটি লোকের কর্মসংস্থান হবে এবং অতিরিক্ত ৪০ বিলিয়ন ডলার রফতানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।’
মানিকগঞ্জ-২ আসনের মমতাজ বেগমের প্রশ্নের জবাবে সরকার প্রধান বলেন, ‘সরকারের সার্বিক প্রচেষ্টায় অর্থ বছর ২০১১ হতে অর্থ বছর ২০১৭ পর্যন্ত দেশে ও বিদেশে ১৫ দশমিক ৫৪ মিলিয়ন মার্কিন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় এক দশমিক ৭৪ শতাংশ হারে দারিদ্র্য কমে আসছে। সামাজিক সূচকগুলোর অগ্রগতিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে। গত কয়েক বছরে বিস্ময়কর প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ফলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। ২০১৮ সাল নাগাদ এই সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা  হবে ।’
জামালপুর-২ আসনের ফরিদুর হক খানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জঙ্গিরা যেমন নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার চেষ্টা চালাচ্ছে, তেমনি তাদের অর্থের যোগানদাতা ও মদতদাতারাও বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। বিদেশ থেকে আসা রেমিটেন্স ও দেশীয় অর্থ কোনও জঙ্গি তৎপরতায় ব্যবহৃত হচ্ছে কিনা এ বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত আছে।’

তিনি বলেন, ‘জঙ্গি অর্থায়নের সঙ্গে বেশকিছু ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে মর্মে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগ পেলেই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরও পড়ুন: ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে চাল রফতানি করবে না ভারত

 

/ইএইচএস/এপিএইচ/

লাইভ

টপ