রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নিরাপত্তা পরিষদে ১২ নোবেলজয়ীর খোলা চিঠি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০৩:১৯, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ০৩:২৬, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৭

রোহিঙ্গা সংকটরোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়ে খোলা চিঠি দিয়েছেন ১২ নোবেলজয়ী ও বিশ্বের ১৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক। বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ইউনুস সেন্টার থেকে খোলা চিঠিটি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সভাপতি ও সদস্যদের উদ্দেশে লেখা ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইন এলাকায় মানবিক ট্র্যাজেডি ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ যে ভয়ংকর রূপ নিয়েছে, তার অবসানে আপনাদের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। আপনাদের এই মুহূর্তের দৃঢ়সংকল্প ও সাহসী সিদ্ধান্তের উপর মানব ইতিহাসের ভবিষ্যৎ গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক আক্রমণে শত শত রোহিঙ্গা জনগণ নিহত হচ্ছেন। লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন। বহু গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, নারীদের ধর্ষণ করা হচ্ছে, বেসামরিক মানুষদের নির্বিচারে আটক করা হচ্ছে এবং শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে। আতঙ্কের বিষয়, মানবিক সাহায্য সংস্থাগুলোকে এই এলাকায় প্রায় একবারেই প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এর ফলে দারিদ্র্যপীড়িত এই এলাকায় মানবিক সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। গত দুই সপ্তাহে তিন লাখেরও বেশি মানুষ তাদের জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, সহিংসতার মাত্রা বৃদ্ধি পেলে গত বছরের শেষে আমরা কয়েকজন নোবেল লরিয়েট ও বিশ্বের বিশিষ্ট নাগরিকরা এ বিষয়ে জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে আপনাদের নিকট অনুরোধ জানিয়েছিলাম। আপনাদের হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও পরিস্থিতির কোনও উন্নতি হয়নি। পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতির পরিপ্রেক্ষিতে নিরীহ নাগরিকদের ওপর অত্যাচার বন্ধ ও রাখাইন এলাকায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আমরা আবারও আপনাদের অনুরোধ জানাচ্ছি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সম্ভাব্য সব ধরনের হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানাচ্ছি, যেন নিরীহ বেসামরিক মানুষদের ওপর নির্বিচার সামরিক আক্রমণ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয় এবং এই অসহায় মানুষগুলোকে নিজ দেশ ছেড়ে অন্য দেশে পালিয়ে যেতে ও রাষ্ট্রহীন মানুষে পরিণত হতে না হয়।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের মুখে মিয়ানমার সরকার ২০১৬ সালে যে ‘রাখাইন অ্যাডভাইজরি কমিশন’ গঠন করেছিল তার সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে মিয়ানমার সরকারকে উদ্বুদ্ধ করতে নিরাপত্তা পরিষদকে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় ওই চিঠিতে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ক্রমাগত সহিংসতা বন্ধ করতে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কর্মপন্থায় সাহসী পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করি। অপপ্রচার, ঘৃণা ও সহিংসার উসকানি, বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপরিচালিত সহিংসতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে; বৈষম্যমূলক বিভিন্ন নীতি ও আইন বাতিল করতে হবে এবং কফি আনান কমিশনের সুপারিশগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। নিরাপত্তা পরিষদ এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও মানবিক সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখছে— বিশ্ববাসী এটা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে।
চিঠিতে স্বাক্ষর করা নোবেলজয়ীরা হলেন— ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বেটি উইলিয়ামস, অসকার আরিয়াস সানচেজ, শিরিন এবাদী, তাওয়াক্কল কারমান, স্যার রিচার্ড জে. রবার্টস, মেইরিড মাগুইর, আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু, জোডি উইলিয়ামস, লেইমাহ বোয়ি, মালালা ইউসুফজাই ও এলিজাবেথ ব্ল্যাকবার্ন।
আরও পড়ুন-
রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযান বন্ধের আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের
রাখাইনে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান নিরাপত্তা পরিষদের
৩ সপ্তাহে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থী পৌনে ৪ লাখ ছাড়িয়েছে: আইওএম

/জিএম/টিআর/

লাইভ

টপ