লিজে আনা উড়োজাহাজ ফেরত দিতে এবার পরামর্শক খুঁজছে বিমান

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১১:৫৩, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:২৬, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৭

বিমান বাংলাদেশ, ফাইল ছবিইজিপ্ট এয়ার থেকে ড্রাই লিজে আনা দুটি বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর উড়োজাহাজ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ফেরত দিতে চায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এজন্য পরামর্শক খুঁজচ্ছে সংস্থাটি। লিজে আনা এই দুটি বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর উড়োজাহাজে বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি হওয়ায় চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ক্ষতি হয়েছে ৩০৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। তাই ৫ বছরের চুক্তিতে আনা উড়োজাহাজগুলো চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ফেরত দিতে চায় বিমান কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে,পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের জন্য গত ২৯ আগস্ট বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আন্তর্জাতিক দরপত্র আহবান করেছে। সর্বনিম্ন খরচে লিজের চুক্তি পর্যবেক্ষণ করে উড়োজাহাজ দুটি ফেরত দিবে পরামর্শ প্রতিষ্ঠান। এজন্য পরামর্শ প্রতিষ্ঠানের লিজ উড়োজাহাজ ফেরত দেওয়া কাজের ৪ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এছাড়া,বিমানের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের পর পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ৫ মাস সময় পাবেন লিজের শর্ত পর্যবেক্ষণ ও কাগজপত্র বিশ্লেষণের। ৩ মাস সময় পাবেন উড়োজাহাজ ফেরত দেওয়ার কাগজপত্র তৈরি ও উড়োজাহাজ নিরীক্ষণের। ৪৫ দিন সময় পাবে রিডেলিভারি সি-চেক করার।

বিমান সূত্র জানায়,ইজিপ্ট এয়ার থেকে ড্রাই লিজে আনা দুটি বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর উড়োজাহাজ বিমানবহরে যুক্ত হয় ২০১৪ সালের মার্চে। পাঁচ বছরের চুক্তিতে আনা উড়োজাহাজ দুটির চারবার ইঞ্জিন মেরামত করতে হয়েছে বিমানকে। বর্তমানে উড়োজাহাজ দুটি সচল থাকলেও বিভিন্ন সময়ে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এগুলো দীর্ঘদিন ধরে গ্রাউন্ডেড ছিল। তাই ফের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ার আগেই ‍উড়োজাহাজগুলো ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান।  

গত আগস্টে উড়োজাহাজগুলোর বারবার গ্রাউন্ডেড হওয়ার কারণ খুঁজতে ও লিজের পেছনে দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে একটি কমিটি গঠন করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। সূত্র জানায়,লিজ চুক্তির প্রায় সব শর্তই বিমানের স্বার্থপরিপন্থী। বিমানের একটি অংশ নতুন উড়োজাহাজ কেনার পরিবর্তে লিজে উড়োজাহাজ সংগ্রহে আগ্রহী। তাই বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় উড়োজাহাজ দুটি এর লিজদাতা প্রতিষ্ঠানকে ফেরত দেয়ারও সুপারিশ করে।

বিমান সূত্রে জানা গেছে,ইজিপ্ট এয়ার থেকে ৫ বছরের চুক্তিতে ড্রাই লিজে দুটি ২টি বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর উড়োজাহাজ সংগ্রহ করে বিমান। ২০১৪ সালের মার্চে একটি উড়োজাহাজ (রেজিস্ট্রেশন নম্বর এস২-এএইসএল, কনস্ট্রাকশন নং ৩২৬৩০) বিমান বহরে যু্ক্ত হয়। অপর উড়োজাহাজটি (রেজিস্ট্রেশন নম্বর এস২-এএইসকে, কনস্ট্রাকশন নং ৩২৬২৯) যুক্ত হয় একই বছর মে মাসে। চুক্তি অনুসারে, উড়োজাহাজ দুটি যাত্রী পরিবহন করুক আর না করুক মাসে উড়োজাহাজ প্রতি ৫ লাখ ৮৫ হাজার ডলার (৪ কোটি ৭০ লাখ ১৬ হাজার টাকা) ভাড়া দিতে হবে। সব  ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বহন করতে হবে। ৫ বছরের আগে চুক্তি বাতিলের করতে পারবে না বিমান। লিজের মেয়াদ শেষে উড়োজাহাজ দুটি আগের অবস্থায় (ভাড়া নেওয়ার সময় যে অবস্থায় ছিল) ফেরত দিতে হবে। ২০১৪ সালের বিমান বহরে যু্ক্ত হওয়ার এক বছর পরেই ড্রাই লিজে আনা বোয়িং ৭৭৭-২০০ উড়োজাহাজটির (রেজিস্ট্রেশন নং এস২-এএইসএল, কনস্ট্রাকশন নং ৩২৬৩০) একটি ইঞ্জিন বিকল হয়। পরবর্তীতে ইজিপ্ট এয়ার থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৮ লাখ টাকা (১০ হাজার ডলার) ভাড়ায় ইঞ্জিন দিয়ে সচল করা হয় উড়োজাহাজটি। নষ্ট ইঞ্জিনটি মেরামতের জন্য পাঠানো হয় লন্ডনের ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সে। সেই ইঞ্জিনটি মেরামত করে ফেরত আনার আগেই ৩ বছরের মাথায় আবারও নষ্ট হয়েছে ইঞ্জিন। তখনও ইজিপ্ট এয়ার থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৮ লাখ টাকায় (১০ হাজার ডলার) ভাড়ায় আনা হয় আরেকটি ইঞ্জিন। বিকল ইঞ্জিনটি মেরামতের জন্য পাঠানো হয় ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের কাছে।

বিমানের প্রকৌশল বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন,বিমানের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় বিবেচনা না করে চুক্তি করায় লিজে আনা উড়োজাহাজ দুটি বিমানের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যক্তিগত কমিশনের জন্য বিমানের স্বার্থ না দেখে চুক্তি করা হয়েছে। ফলে বিমান এখন উভয় সংকটে। উড়োজাহাজ না চালালেও সচল করে ফিরতে দিতে হবে। এতে বিরাট অংকের টাকা ব্যয় হবে। অন্যদিকে, সময় শেষ হওয়ার আগে সহজে ফেরতও দেওয়া যাবে না। এ কারণে বিদেশি পরামর্শ প্রতিষ্ঠানের খোঁজ করা হচ্ছে, যারা চুক্তির শর্ত বিশ্লেষণ করে ফেরত দেওয়া উপায় বের করতে সহায়তা করবে।

 

 

/সিএ/টিএন/আপ-এসটি

লাইভ

টপ