দ্বিজেন শর্মাকে শেষ বিদায়

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৭:৪২, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৪২, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৭

নিসর্গবিদ দ্বিজেন শর্মাকে শেষ বিদায়‘প্রকৃতিবিদ’ ও ‘নিসর্গসখা’ হিসেবে পরিচিত লেখক দ্বিজেন শর্মা বহুবার যে শহীদ মিনারে এসেছেন, সেখানে তিনি আজ কফিনে করে হাজির হলেন শেষবারের মতো। রবিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বসাধারণের ফুল ও অশ্রুসিক্ত ভালবাসা সঙ্গে নিয়ে তিনি তার প্রিয় ঢাকার সবুজ থেকে শেষ বিদায় নিলেন। ভক্ত-অনুরাগী ও বন্ধুদের মনে আফসোস, সবুজের ঢাকা নিয়ে তার মতো আন্তরিকতার সঙ্গে আর কবে কে চিন্তা করবে।

শহীদ মিনারের শ্রদ্ধা অনুষ্ঠান শেষে দ্বিজেন শর্মার কফিন নিয়ে যাওয়া হয় তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল নটর ডেম কলেজ প্রাঙ্গণে। সেখানে শ্রদ্ধা জানানোর পর রাজধানীর সবুজবাগে রাজারবাগ বরদেশ্বরী কালী মন্দির সংলগ্ন শ্মশানে শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা হওয়ার কথা। শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৩টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। এর আগে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে বুধবার রাতে তাকে বারডেম হাসপাতাল থেকে স্কয়ারে আনা হয়। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৩ আগস্ট বারডেমের আইসিইউতে ভর্তি হয়েছিলেন দ্বিজেন শর্মা। 

বেলা ১১টার দিকে দ্বিজেন শর্মার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় বাংলা একাডেমিতে। বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান একাডেমির সাহিত্য পত্রিকা উত্তরাধিকারের একটি বিশেষ সংখ্যা দ্বিজেন শর্মাকে নিয়ে করবেন বলে জানান। পরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হয় নাগরিক শ্রদ্ধানুষ্ঠান। কথাসাহিত্যিক হায়াৎ মামুদ, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, কালি ও কলম সম্পাদক আবুল হাসনাত, কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক দ্বিজেন শর্মার প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা নিবেদন ও স্মরণ করার সময় আগত বন্ধু-স্বজনরা দ্বিজেন শর্মার গদ্যের সুনাম করেন। নিরহঙ্কার এই মানুষটি আজীবন প্রকৃতি চেনাতে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য যে উদ্যোগগুলো নিয়েছেন তার কথাই ঘুরেফিরে আসছিল।

১৯২৯ সালের ২৯ মে তৎকালীন সিলেট বিভাগের বড়লেখা থানার শিমুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন দ্বিজেন শর্মা। কলকাতা সিটি কলেজ থেকে স্নাতক করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভিদবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর করেন তিনি। পরে করিমগঞ্জ কলেজ, বিএম কলেজ, নটর ডেম কলেজে শিক্ষকতা ও মস্কোর প্রগতি প্রকাশনে চাকরি করেন তিনি। পরে দেশে ফিরে বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিতে যোগ দেন। তিনি এশিয়াটিক সোসাইটি প্রকাশিত বাংলাপিডিয়া'র জীববিদ্যা বিভাগের অনুবাদক ও সম্পাদক (২০০১-২০০৩) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ড. কুদরত-এ খুদা স্বর্ণপদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদকসহ (২০১৫) বিভিন্ন জাতীয় সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন তিনি।

 

 

/ইউআই/এএম/

লাইভ

টপ