‘মিয়ানমার মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে, আর বাংলাদেশ মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করছে’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০১:০৪, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৫০, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৭

মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক (ফাইল ছবি)মিয়ানমার সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকার ওই দেশের নাগরিকদের আশ্রয় দিয়ে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে বলে বাংলা ট্রিবিউনের কাছে মন্তব্য করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। তিনি বলেন, ‘রাখাইন রাজ্যের নির্যাতিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবতার পরিচয় দিয়েছে— এটা আমরা বিশ্ববাসীর কাছে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি।’
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক গণ-আদালতের শুনানিতে মানবাধিকার কমিশনের ভূমিকার কথা বলতে গিয়ে বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ে কাজী রিয়াজুল হক এসব কথা বলেন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ায় ওই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে তিনি ছাড়াও অংশ নেন কমিশনের সচিব হিরন্ময় বাড়ৈ ও উপ-পরিচালক এম রবিউল ইসলাম।
কাজী রিয়াজুল হক বলেন, ‘গণ-আদালতে কমিশনের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের নাগরিকদের হত্যা ও নির্যাতনের পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ, আশিয়ান, ওআইসিসহ বিশ্বের অন্যান্য আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ তৈরি করা উচিত। মিয়ানমার যেন এই নির্যাতন বন্ধ করতে বাধ্য হয় এবং বাংলাদেশে পালিয়ে আসা তাদের নাগরিকদের ফেরত নিতে বাধ্য হয়— এ বিষয়ে জনমত গড়ে তোলার উদ্দেশ্য ছিল আমাদের। আমরা সেটাই করেছি।’
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘ওরা আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। সেখানে গিয়ে আমরা বলেছি, মিয়ানমার সরকার, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর যে নির্যাতন করেছে সেটা অমানবিক। তারা (রোহিঙ্গারা) নিজ দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে, তাদের হত্যা করা হয়েছে। এই নির্যাতন মানবাধিকারের লঙ্ঘন এবং এটা গণহত্যার সামিল। আমরা তাদের জানিয়েছি, কেবল ২৫ আগস্টের পর থেকেই আমাদের দেশে চার লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে।’
কাজী রিয়াজুল হক আরও বলেন, ‘আমরা সেখানে উপস্থিত সবাইকে বলেছি, মিয়ানমার নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর যে নির্যাতন চালিয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। তাদের নিজ নাগরিকদের ফেরত নিতে হবে, আবার তাদের এই মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচারও হওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি। অন্যদিকে, আমাদের নিজেদের অনেক সমস্যা থাকলেও আমরা নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করেছি।’
গত ৯ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের কুতুপালংসহ বেশকিছু আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করে মানবাধিকার কমিশন। ওই সময় নারী-পুরুষ ও শিশুদের সঙ্গে কথা বলে সেগুলোর ভিডিও রেকর্ডও করা হয়। এসব ভিডিও গণ-আদালতের শুনানিতে উপস্থাপন করা হয় জানিয়ে কাজী রিয়াজুল হক বলেন, ‘এর আগে ২০১৬ সালের অক্টোবরেও যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছিল, তাদের সঙ্গে কথা বলে ভিডিও করেছিলাম আমরা। সব মিলিয়ে ৮ মিনিটের একটি ভিডিওচিত্র আমরা মালেয়শিয়ার আদালতে দেখিয়েছি। এসব ভিডিওতে রোহিঙ্গারা নিজেদের ওপর চলা নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছে। তাই রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন করা হয়নি বলে মিয়ানমার যে দাবি করছে, সেটা এসব ভিডিওতেই মিথ্যা প্রমাণিত হয়।’ পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে দেশের মানুষ ও সরকারের ভূমিকাও সেখানে উপস্থাপন করা হয় বলে জানান তিনি।
শুনানিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের প্রধান নেত্রী সু চি প্রসঙ্গে কী বলেছে জানতে চাইলে ড. রিয়াজুল হক বলেন, ‘যারা ওখানে অংশ নিয়েছেন, তারা সবাই গণহত্যা নিয়ে কাজ করে থাকেন। তারা আমাদের প্রশ্ন করেছে, মিয়ানমার সরকারের এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কী করছে? আমরা তাদের বলেছি, মিয়ানমারের নাগরিকদের ফেরত নিতে বাংলাদেশ জনমত তৈরির জন্য কাজ করছে। পাশাপাশি মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে আমরাও কাজ করছি। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার, ওআইসি ও আশিয়ানের সেক্রেটারি জেনারেলকে চিঠি লিখেছি। সবাইকে বলেছি, মিয়ানমার গণহত্যা চালাচ্ছে, এটা বন্ধ করতে হবে।’ কফি আনান কমিশনের প্রতিবেদন দ্রুত বাস্তবায়নের জন্যও দাবি জানানো হয়েছে বলে জানান মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান।
আরও পড়ুন-
এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের ত্রাণে যা যুক্ত হলো

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পুলিশ ফাঁড়ির প্রস্তাব প্রশাসনের

/জেএ/টিআর/

লাইভ

টপ