প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ছুটিতে যাননি, তাকে ছুটিতে যেতে বাধ্য করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।
মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে প্রধান বিচারপতির ছুটিতে যাওয়া নিয়ে নিয়ে জরুরি সভা করে আইনজীবী সমিতি। সভায় ১৪ সদস্যের মধ্যে ১৩ জন উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন আইনজীবী সমিতির সেক্রেটারি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।
সভায় আজ মঙ্গলবার বিকাল ৩টার সময় জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের নিয়ে জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন সমিতির সভাপতি।
তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমাদের আইনজীবী সমিতি মনে করে তার (বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা) ওপরে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে তিনি যাতে এক মাসের জন্য ছুটিতে চলে যান। আপনারা জানেন, জাতি জানে, সারা পৃথিবীর মানুষ জানে যে, একটি জাজমেন্টের পরে তাকে একটি রাজনৈতিক দল, সরকার বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করছিল। আমরা মনে করি, সেই চাপের কারণে তাকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।’
জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘হঠাৎ করে মাননীয় প্রধান বিচারপতি ছুটি নেওয়াতে দেশব্যাপী একটা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আজকে সাড়ে ৯টায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যকরী কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় অনেকগুলো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। আমরা মনে করি, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে বিচার বিভাগে একটি নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কেন, কী কারণে, কী চাপে, কী জন্য তিনি ছুটি নিয়েছেন এবং কেন তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সঙ্গে কোনও কথা না বলে এই প্রিমিসেসে সকালে এসে একটা সময় তিনি ত্যাগ করেছেন সেটা আমাদের সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির জানার অধিকার আছে। কেননা উনি এর আগে চিঠি দিয়ে বলেছেন যে, আজকের গেট টুগেদারে যেন আমরা আইনজীবীরা উপস্থিত থাকি।’
জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী কোনও প্রধান বিচারপতি এভাবে দাওয়াত দিয়ে ছুটি নিয়ে চলে যান নাই। আমাদের সেটা জানার দরকার আছে। আপনাদের জানা আছে, আমাদের সাবেক প্রধান বিচারপতি ফজলুল করিম সাহেব তিনি এভাবে দাওয়াত করে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেন। তিনি হাঁটতে পারছিলেন না,তিনি স্ট্রেচারে করে এসে আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। আর এই প্রধান বিচারপতি এমন কী ঘটনা ঘটেছে যে কারণে আজকে তিনি সেখানে উপস্থিত থাকতে না পেরে তিনি ছুটি নিয়ে চলে গিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি,আমাদের আইনজীবী সমিতি মনে করে তার উপরে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে তিনি যাতে এক মাসের জন্য ছুটিতে চলে যান।’
প্রধান বিচারপতির ছুটির প্রকৃত রহস্য জানতে এবং তা জাতির কাছে প্রকাশ করার জন্য আইনজীবী সমিতির চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে মিটিং করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান আইনজীবী সমিতির এই সভাপতি।
আরও পড়ুন:
চাপে নয়, ব্যক্তিগত কারণে ছুটিতে প্রধান বিচারপতি: অ্যাটর্নি জেনারেল
বিচারপতি ওয়াহহাব মিঞার নেতৃত্বে বিচারিক কাজ শুরু








