এসকে সিনহার পদত্যাগপত্রের বিষয়টি জানেন না আইনমন্ত্রী

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১১ নভেম্বর ২০১৭, ০৩:৩১আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০১৭, ০৩:৪৬

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক (ছবি- অনলাইন থেকে নেওয়া)

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এসকে সিনহা) পদত্যাগপত্র পাঠানোর ব্যাপারে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। শুক্রবার (১০ নভেম্বর) দিনগত রাত ২টার পরে একথা জানান তিনি।

শুক্রবার মধ্যরাতে একটি বেসরকারি চ্যানেলের খবরে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন এসকে সিনহা। এ ব্যাপারে জানার জন্য ফোন করা হলে আইনমন্ত্রী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি এখনও এ বিষয়ে কিছু জানি না।’

আর এ ব্যাপারে জানার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার পরিবারের এক সদস্য জানান, অ্যাটর্নি জেনারেল অসুস্থ। তিনি এখন কথা বলতে পারবেন না।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ছুটি শুক্রবার (১০ নভেম্বর) শেষ হয়েছে। ছুটিতে থাকা অবস্থায় গত ১৩ অক্টোবর তিনি অস্ট্রেলিয়া যান।

প্রসঙ্গত, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষায় সরকারের সঙ্গে এসকে সিনহার টানাপড়েন সৃষ্টি হয় অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাবিধি সংক্রান্ত বিধিমালার গেজেট প্রকাশ নিয়ে। এই বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের গড়িমসি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন তোলেন এসকে সিনহা।

তবে সর্বশেষ সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর আপিলের রায়ের পর সরকারের সঙ্গে এসকে সিনহার সম্পর্ক আরও অবনতির দিকে যায়। এই রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে সৃষ্টি হয় তুমুল বিতর্ক। সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে রায়ে এসকে সিনহার পর্যবেক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা-সমালোচনা চলতে থাকে।

এরপর আলোচনা-সমালোচনার অবসান ঘটাতে গত ১৩ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়েন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা। আইনমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে ‘প্রধান বিচারপতি অসুস্থ’এই দাবি করার প্রেক্ষিতে এসকে সিনহা বিদেশ যাওয়ার আগে সেই রাতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি সম্পূর্ণ সুস্থ আছি। কিন্তু ইদানিং একটা রায় নিয়ে রাজনৈতিক মহল, আইনজীবী, বিশেষভাবে সরকারের মাননীয় কয়েকজন মন্ত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে ব্যক্তিগতভাবে যেভাবে সমালোচনা করেছেন, এতে আমি সত্যিই বিব্রত। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সরকারের একটি মহল আমার রায়কে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে পরিবেশন করায় প্রধানমন্ত্রী আমার প্রতি অভিমান করেছেন। এই অভিমান অচিরেই দূর হবে বলে আমার বিশ্বাস।’

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পান এসকে সিনহা। তার চাকরির মেয়াদ রয়েছে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। গত ২ অক্টোবর একমাসের ছুটি চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি পাঠান প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা। তিনি ১৩ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় থাকতে চান বলেও রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেছেন।

 

/বিআই/ইউআই/এনআই/এমএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম