বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের স্বীকৃতিতে সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০০:২৯, নভেম্বর ১৫, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ০৪:০১, নভেম্বর ১৫, ২০১৭

৭ মার্চের ভাষণবঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটি বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে ইউনেস্কোর ‘ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে’ যুক্ত হওয়ায় সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। সরকার দলের সিনিয়র সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের ১৪৭ বিধিতে আনীত এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের ওপর দীর্ঘ আলোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে তা গৃহীত হয়। সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও সরকারি ও বিরোধী দলসহ সংসদের মোট ৫৮ জন সংসদ সদস্য প্রায় ৬ ঘণ্টা ধরে এ বিষয়ে আলোচনা করেন। প্রস্তাবের ওপর আলোচনার সময় সংসদ সদস্যরা ৭ মার্চকে জাতীয় দিবস ঘোষণা করে জাতীয়ভাবে পালনের দাবি তোলেন।
সংসদে তোফায়েল আহমেদের উত্থাপন করা প্রস্তাবটি ছিল— ‘সংসদের অভিমত এই যে, জাতিক জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ UNESCO কর্তৃক বিশ্ব প্রামাণ্য (World Documentary Heritage) হিসেবে UNESCO’র International Memory of the world Register-এ অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় দেশ ও জাতির সঙ্গে আমরাও গর্বিত এবং এজন্য UNESCO-সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জাতীয় সংসদ ধন্যবাদ জানাচ্ছে।’
তোফায়েল আহমেদ তার প্রস্তাবে জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রস্তাবগুলো দু’বছর ধরে পর্যালোচনার পর ইউনেস্কোর উপদেষ্টা কমিটি তাদের মনোনয়ন চূড়ান্ত করে। মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড কর্মসূচির ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভাইজারি (আইএসি) কমিটি প্যারিসে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণসহ ৭৮টি দলিলকে World Documentary Heritage হিসেবে রেজিস্ট্রারে অন্তর্ভুক্ত করে। এ নিয়ে ডক্যুমেন্টের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪২৭টিতে। আইএসি এ কমিটিতে ১৫ জন বিশেষজ্ঞ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে পাওয়া নতুন নতুন প্রস্তাবের ঐতিহাসিক দলিল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে স্বীকৃতি প্রদান করে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘৭ মার্চের ভাষণ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাষণ— আজ তা প্রমাণিত। ইউনেস্কোর এ স্বীকৃতি ছিল অত্যন্ত প্রত্যাশিত। বঙ্গবন্ধুর অলিখিত ১৮ মিনিটের ভাষণ বাঙালি জাতিকে জাতীয় মুক্তির মোহনায় দাঁড় করিয়েছিল। এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা। বঙ্গবন্ধুর দৃপ্ত কণ্ঠের ঘোষণা ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম’ যে কেবল বাঙালি জাতিকে আলোড়িত করেনি বরং বিশ্ব বিবেককেও নাড়া দিয়েছে। ইউনেস্কোর এ স্বীকৃতি তারই প্রমাণ।’’
বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ আলোচনায় বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে বলবো, বঙ্গবন্ধুকে আপনারা কুক্ষিগত করে রাখবেন না। তাকে জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দিন। বিশ্বের কাছে ছড়িয়ে দিন। তাহলে আমরা তাকে জাতির জনক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবো।’
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘আমাদের দেশের পাঠ্যপুস্তকে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ অন্তর্ভুক্ত করতে অনেকদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে। তবে, আমি বিশ্বাস করি শিগগিরই এই ভাষণটি অন্য দেশের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হবে।’
বিএনএফ’র আবুল কালাম আজাদ ৭ মার্চকে জাতীয় দিবসের মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘এটা করা হলে ভাষণটির যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হবে। দেশে এত দিবস থাকলে ৭ মার্চকে জাতীয় দিবস ঘোষণা করে তা পালনের সমস্যা কোথায়?’ এছাড়া সরকার দলের নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন ও বি এম মোজাম্মেল হক দিনটিকে জাতীয় দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্তির দাবি তোলেন।
আলোচনায় অন্যদের মধ্যে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সিনিয়র সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মুস্তাফিজুর রহমান ফিজার, ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া, চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, হুইপ শহীদুজ্জামান সরকার, সরকার দলের আবদুল মতিন খসরু, অধ্যাপক আলী আশরাফ, ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, এ বি তাজুল ইসলাম, উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ, তাজুল ইসলাম, মৃনাল কান্তি দাশ, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, ইসরাফিল আলম, পংকজ নাথ, শামসুল হক টুকু, এনামুল হক, তালুকদার মো. ইউনুস, মনিরুল ইসলাম, ডা. এনামুর রহমান, কাজী নাবিল আহমেদ, মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আবদুল ওয়াহহাব, সাগুফতা ইয়াসমিন, সানজিদা খানম, ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি, সাবিনা আক্তার তুহিন, উম্মে রাজিয়া কাজল, আখতার জাহান, জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, মোসলেম উদ্দিন, ফখরুল ইমাম, পীর ফজলুল রহমান, জাসদের মইন উদ্দীন খান বাদল, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী ও তাহজিব আলম সিদ্দিকী অংশ নেন।
আরও পড়ুন-
ইউনেস্কোর স্বীকৃতিতে বিশ্বের মানুষ ৭ মার্চের ভাষণ হৃদয়ে ধারণ করছে: কাজী নাবিল

/ইএইচএস/টিআর/

লাইভ

টপ