সরকারি সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত চলবে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৭:২৭, নভেম্বর ১৫, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:২৯, নভেম্বর ১৫, ২০১৭

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়সরকার যত দিন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বদল না করছে, তত দিন পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা চলবে। শিক্ষানীতি অনুযায়ী সমাপনী পরীক্ষা পদ্ধতি বাদ দেওয়ার কথা থাকলেও তা আপতত চালিয়ে নেওয়ার কথাই জানালেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী। বুধবার (১৫ নভেম্বর) সচিবালয়ে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি পরীক্ষা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার কথা। পঞ্চম শ্রেণি শেষে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা উঠিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব থাকলেও মন্ত্রিসভা তা নাকচ করে দেয়। তাই মন্ত্রিসভায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা চলতে থাকবে।’
২০১৮ সালের মধ্যে অষ্টম শ্রেণিকে প্রাথমিকের আওতায় আনার কথা থাকলেও তা আবার পিছিয়ে ২০২১ সাল নাগাদ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত হতেই হবে। এটা অনিবার্য। এ বিষয়ে উদ্যোগ আগেই নেওয়া হয়েছিল, তবে মাঝে একটু থেমে গিয়েছিল। তার মানে এই নয় যে, বিষয়টি চিরদিনের জন্য থেমে গেছে।’
এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরোধ রয়েছে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘মতান্তর আছে, মনান্তর নেই। শিক্ষামন্ত্রী আমার চেয়ে অভিজ্ঞ। তিনি প্রাথমিক মন্ত্রণালয়সহ দুটি মন্ত্রণালয়েরই দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন। সবার ওপরে বিষয়টি নির্ভর করছে।’

পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থা প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে মনিটরিং করবে। পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইলসহ সব ধরনের ডিভাইজ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রতিটি জেলায় প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে পরীক্ষা কার্যক্রম পরিদর্শনে ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হয়েছে। এছাড়া, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা অফিসাররা নিয়োজিত থাকবেন।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘যত ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি হতে পারে, তা বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আমরা বার্তা দিয়েছি এবং ইতোপূর্বে যারা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জাড়িয়েছেন তাদেরকে শাস্তি দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি। ধরা পড়লে শাস্তির মুখোমুখি হতেই হবে।  তবে আমরা শাস্তি দেওয়ার জন্য বসে নেই। সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা নেবো।’

উল্লেখ্য, ১৯ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় এ বছর অংশ নিচ্ছে ৩০ লাখ ৯৬ হাজার ৭৫ জন। এর মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ২৮ লাখ চার ৫০৯ জন এবং ইবতেদায়িতে দুই লাখ ৯১ হাজার ৫৬৬ জন।  গত বছর অংশ নিয়েছিল ৩২ লাখ ৩০ হাজার ২৮৮ জন।  এ বছর ছাত্রদের সংখ্যার চেয়ে এক লাখ ৮৯ হাজার ৮০১ জন বেশি ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।

 

/এসএমএ/ এপিএইচ/

লাইভ

টপ