বঙ্গোপসাগরের সুরক্ষিত ডুবো গিরিখাতে যাচ্ছেন ৪০ গবেষক

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৫ নভেম্বর ২০১৭, ১৭:৪৯আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০১৭, ১৭:৫১

সংবাদ সম্মেলনে ইসাবেলা ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন কবির বিন আনোয়ার সাগরতলের অজানা রহস্য উদঘাটনে বঙ্গোপসাগরের সুরক্ষিত ডুবো গিরিখাত এলাকা সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে গবেষণা চালাবে ইসাবেলা ফাউন্ডেশন। এ লক্ষ্যে আগামী শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) গভীর সমুদ্রে রওনা করবে সেভ আওয়ার সি’র পরিচালক আন্ডারওয়াটার এক্সপ্লোরার এস এম আতিকুর রহমান, শরীফ সারওয়ারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৪০ জন গবেষক।

বুধবার (১৫ নভেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান ইসাবেলা ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন কবির বিন আনোয়ার।

নৌবাহিনী এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ১৭ নভেম্বর থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ দিন ধরে চলা ইসাবেলা ফাউন্ডেশনের এ গবেষণা দলের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তির জরিপ জাহাজ ‘মীন সন্ধানী’।

কবির বিন আনোয়ার বলেন, ‘সাগরতলে ২০০ মিটার পর্যন্ত গভীরে গিয়ে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে যতটুকু গভীর পর্যন্ত সম্ভব ততটুকু এলাকার প্রাণিজগৎ সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করা হবে। এছাড়া ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য একটা গাইডলাইন তৈরি করা হবে। সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের গবেষণায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৪০ জন গবেষক আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে অংশ নেবেন। আমরা সাগরের মৎস্য, প্রাণিজ, জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নিয়ে কাজ করব।’

চলতি বছরের মার্চ মাসে ১৩ জনের একটি গবেষক দল সোয়াচের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে গবেষণাধর্মী একটি মানচিত্রের কাজ সম্পন্ন করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবারের পাঁচ দিনের এই অভিযাত্রা বলেও জানান তিনি।

সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড সাগর অভিমুখে প্রায় ১ হাজার ৭০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত উল্লেখ করে কবির বিন আনোয়ার বলেন, ‘এর কিছু অংশ বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত ও শ্রীলঙ্কার আওতায় পড়েছে। বাংলাদেশের অংশেই আমাদের গবেষণা চলবে। কারণ এই জায়গাটি এখনো আমাদের কাছে রহস্য।’

ইসাবেলার গবেষক দলের প্রধান পরামর্শক ড. আনিসুজ্জামান খান বলেন, ‘এবারে গবেষণার জন্য নানান প্রতিষ্ঠানের ১২টি বিভাগের মোট ৪০জন গবেষক গবেষণার আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে প্রস্তুত।’

গত মার্চ মাসে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ করতোয়া থেকে ফিরে ইসাবেলার গবেষক দলের প্রধান ড. আনিসুজ্জামান খান জানিয়েছিলেন বঙ্গোপসাগরের এক লাখ ৭৩ হাজার ৮০০ হেক্টর এলাকা নিয়ে গঠিত ‘সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড’। যা বিশ্বের ১১টি গভীরতম ক্যানিয়নের মধ্যে অন্যতম, যা এক লাখ ২৫ হাজার বছর আগে তৈরি হয়েছিল।

বঙ্গোপসাগরের মৎস্যভাণ্ডার হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরে পরিচিত সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে মাছের পাশাপাশি আছে বিশাল আকারের তিমি, ডলফিন, হাঙর, কচ্ছপ আর বিরল প্রজাতির কিছু জলজপ্রাণী। প্রায় দেড় হাজার বর্গমাইলের বিস্তীর্ণ এলাকাটি বিরল জীববৈচিত্র্যের নিরাপদ প্রজননকেন্দ্র, যা প্রস্তাবিত ব্লু ইকোনমির জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

সংবাদ সম্মেলনে ইসাবেলা ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ক সাকিল আহমেদ, সেভ আওয়ার সি’র পরিচালক আন্ডারওয়াটার এক্সপ্লোরার এস এম আতিকুর রহমান, শরীফ সারওয়ারসহ ইসাবেলার অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

/জিএম/এনআই/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
বিশ্বের সেরা ১০০ উপন্যাস : বাছাই ও বির্তক
বিশ্বের সেরা ১০০ উপন্যাস : বাছাই ও বির্তক
ঢাকায় পৌঁছেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান 
ঢাকায় পৌঁছেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান 
পুলিশের নজরবন্দি আইভী
পুলিশের নজরবন্দি আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি