কক্সবাজার সফরে শো-ডাউনে দৃষ্টি ছিল খালেদা জিয়ার: প্রধানমন্ত্রী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:১২, নভেম্বর ১৫, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:১৬, নভেম্বর ১৫, ২০১৭

জাতীয় সংসদে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী (ছবি- ফোকাস বাংলা)

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া প্রদর্শনের (শো-ডাউন) জন্য সাজসজ্জা করে ঢাকঢোল, হাতিঘোড়া নিয়ে রোহিঙ্গাদের দেখতে গিয়েছেন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমার মনে হয়েছে, গাড়ি-টাড়ি সবকিছু দেখিয়ে একটি শো-ডাউন করার দিকে ওনার বেশি দৃষ্টি ছিল।  উনি দুর্গত মানুষকে দেখতে গেলেন, নাকি কোনও বরযাত্রী হিসেবে গেলেন, তা আমার কাছে বোধগম্য নয়।

বুধবার (১৫ নভেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফজিলাতুন ন্নেসা বাপ্পির সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে বাপ্পি তার সম্পূরক প্রশ্নে কক্সবাজার সফর করে খালেদা জিয়া অভিযোগ করেছেন, সরকার রোহিঙ্গাদের সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে- এ বিষয়ে সরকারের অভিমত কী জানতে চান।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যিনি সব কাজে ব্যর্থ হন- তিনি তো ব্যর্থ দেখবেনই। ব্যর্থতা ছাড়া সফলতা দেখার মতো মানসিকতা তো তার নেই। তার কথায় গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই। তার বক্তব্যকে আমি ধর্তব্যে নেই না। আমরা আমাদের কাজ করে যাবো।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘গ্রামে কথা আছে পাগলে কিনা কয়- ছাগলে কিনা খায়। চক্ষু থাকতে যে অন্ধ হয় তাকে দেখাবে কে? দেখেও যে দেখতে পায় না, তাকে দেখানোর কিছু নেই। এটা হচ্ছে অনুভূতির ব্যাপার। এটা হচ্ছে বোধ- বোধটা আছে কিনা সেই ব্যাপার। এটা বাস্তবতা যে মানবিক কারণে সহযোগিতা করার অভ্যাস তো তাদের নেই। কিন্তু  আওয়ামী লীগ সব সময় মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দূর্গত মানুষের পাশে থাকে। এটা আমাদের রাজনীতিরই একটা অঙ্গীকার। বিএনপি-জামাতের ব্যাপার হচ্ছে তারা যতটা দেখানোর জন্য করে, আন্তরিকতার জন্য ততটা করে না। এটা সবাই জানেন ও বোঝেন। ’ 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যাটা তো তাদেরই সৃষ্টি। তার স্বামী এটা সৃষ্টি করে গেছেন। কাজেই বিএনপি জায়ামাতের লক্ষ্য হচ্ছে- ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করা। ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার কাজেই তারা ব্যস্ত। মানবিক কোনও গুণাবলী তাদের মধ্যে নেই।’

তিনি বলেন, ‘নীতি আর্দশ ও মানবিক দিকটাকে বিবেচনা করে আমরা এই বাস্তুচ্যুত মানুষগুলোকে আশ্রয় দিয়েছি। তাদের সহযোগিতা করে যাচ্ছি। সমগ্র বাংলাদেশের মানুষও সহমর্মিতা দেখাচ্ছে। এই মানবিক গুণাবলী মানুষের আছে। তবে ব্যতিক্রম ওই বিএনপি-জায়ামাত, স্বাধীনতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধী- মানুষ পুড়িয়ে যারা হত্যা করে তারা ।’

বিএনপি-জায়ামাত ও আরসাসহ কিছু গোষ্ঠী নানা উস্কানি দিয়ে সরকারের রোহিঙ্গা ব্যবস্থাপনা প্রশ্নবিদ্ধ ও আগামী নির্বাচন বিতর্কিত করতে চাচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন কিনা তরিকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর এ প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে কিছু উস্কানিদাতা আছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। তবে আমরা এ বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন। যারা এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত তাদের খুঁজে বের করছি। আমাদের এখানে কত রোহিঙ্গা ঢুকছে তার একটি নিবন্ধন শুরু করেছি। তাদের আইডি কার্ড দেওয়া হচ্ছে।  আজ পর্যন্ত পাঁচ লাখ ২৭ হাজার ৭৯৭ জন রোহিঙ্গা নিবন্ধিত হয়েছে। যাতে এরা অন্য কোনও কিছু করতে না পারে। কোনও কিছুর সঙ্গে জড়াতে না পারে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি। প্রতিবেশ দেশের সঙ্গে আমরা সৎভাব রাখেতে চাই। আমাদের মাটি ব্যাবহার করে কোনও দেশে কোনও রকম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে, কোনও রকম উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড হতে দেবো না, এটা বরদাস্ত করবো না। উস্কানিমূলক কাজে যারা জড়িত হবে এবং যারা তাদের পেছনে থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার কারণে ওই অঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। তাদের জন্য কোনও ব্যবস্থা করা হবে কিনা স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সরকার প্রধান বলেন,  ‘এটা সত্য যে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার কারণে স্থানীয় গরীব জনগোষ্ঠী, যারা শাকসবজি চাষ করে এটা-সেটা করে চলতো, সেই পথ বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় দরিদ্র মানুষের কষ্টের সীমা নেই। বিষয়টি আমাদের মাথায় রয়েছে। বিষয়টি আমরা অনুভব করি। আমরা এই মানুষগুলোর  খাদ্যের ব্যবস্থা করবো। তারা যেন অভুক্ত না থাকে, সেই ব্যবস্থা করবো। ১০ লাখ রোহিঙ্গাদের খাওয়াতে পারলে ১৫ হাজার মানুষকে খাওয়াতে পারবো না, এত দৈন্যতা আমাদের নেই।’

আরও পড়ুন: 

রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ নজিরবিহীন সংকটের মুখোমুখি: প্রধানমন্ত্রী


/ইএইচএস/এপিএইচ/

লাইভ

টপ