খালেদা জিয়ার নিজের উচিত ক্ষমা চাওয়া: প্রধানমন্ত্রী

Send
বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৬:২৬, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:০১, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৭

বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘খালেদা জিয়া আমাকে কিসের জন্য ক্ষমা করেছেন? ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পরও আমি বেঁচে গিয়েছি, তিনি কি এ কথা বলছেন? তিনি ক্ষমা করেছেন নাকি চাচ্ছেন তা আমার কাছে স্পষ্ট নয়। তার কাছে কেন ক্ষমা চাইবো? আমি এমন কী অপরাধ করেছি? বরং তার উচিত দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া। তারই তো আমার কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। জাতির কাছেও তার ক্ষমা চাওয়া উচিত।’ বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) বিকাল ৪টায় সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।


সম্প্রতি আদালতে হাজির হয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে ক্ষমা করে দিলাম।’ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে আমাদের সরকার কোনও মামলা দেয়নি। বরং আমার বিরুদ্ধে প্রায় একডজনের মতো মামলা দিয়েছিল খালেদা জিয়া।’

সদ্য সমাপ্ত কম্বোডিয়া সফরের ওপর সংবাদ সম্মেলনটি হয়। এখানে বঙ্গবন্ধু কন্যা আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের অবশ্যই মিয়ানমারে ফিরে যেতে হবে। যৌথ কমিটির মাধ্যমে শরণার্থীদের ফেরত নেওয়া হবে। প্রতিবেশী দেশ বলেই আমি চাই, সুসম্পর্ক বজায় থাকুক। রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমরা আন্তর্জাতিক সহায়তা পাচ্ছি। এক্ষেত্রে সবাই খুব সহানুভূতিশীল। এতসংখ্যক শরণার্থীর চলে আসাটা কেউই ভালো চোখে দেখছে না। কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেনও এ বিষয়ে সমর্থন দিয়েছেন।’
কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের আমন্ত্রণে গত ৩ নভেম্বর দেশটির রাজধানী নমপেনে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিন দিনের সরকারি সফর শেষে কম্বোডিয়া থেকে ৫ ডিসেম্বর বিকালে দেশে ফেরেন তিনি। তার এই সফরে বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি পর্যটন, কৃষি, বেসামরিক বিমান চলাচল, আইসিটি ও কারিগরি শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত একটি চুক্তি ও ৯টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। 

ঢাকা ও নমপেনের দু’টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দুই দেশের জাতির পিতার নামে নামকরণের ঘোষণাও দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কম্বোডিয়ার রয়েল প্যালেসে রাজা নরদম সিহামনের দেওয়া রাজকীয় অভ্যর্থনা গ্রহণ করেন। কম্বোডিয়ান চেম্বারের সঙ্গে ব্যবসায়িক সংলাপে অংশ নেওয়া ছাড়াও তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নৈশভোজে যোগ দেন।

এছাড়া কম্বোডিয়ার স্বাধীনতা স্মৃতিসৌধে দেশটির প্রয়াত রাজা নরোদম সিহানুকের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন শেখ হাসিনা। নমপেনের কেন্দ্রস্থলে তুল সেলং জেনোসাইড মিউজিয়ামও পরিদর্শন করেছেন তিনি। 

২০১৪ সালে ১৬ থেকে ১৮ জুন শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে ঢাকা সফর করেন কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন। 

আরও পড়ুন-
পদ্মা সেতু বাংলাদেশের প্রতি বিশ্ববাসীর দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

 

/জেএইচ/

লাইভ

টপ