বিমান ও স্থলবন্দরে ক্রিমিনাল ডাটাবেজ করতে ইন্টারপোলের প্রস্তাব

Send
আমানুর রহমান রনি
প্রকাশিত : ১০:০০, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৫৭, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৭

ইন্টারপোলএক দেশ থেকে আরেক দেশে অপরাধীদের পালিয়ে যাওয়া ঠেকানোর জন্য দেশের বিমান, নৌ ও স্থলবন্দরগুলোতে ক্রিমিনাল ডাটাবেজ তৈরির পরামর্শ দিয়েছে পুলিশের আন্তর্জাতিক সংগঠন ইন্টারপোল। সংস্থাটি এ লক্ষ্যে বাংলাদেশকে লজিস্টিক সাপোর্ট দিতে চায়। ইন্টারপোলের এমন প্রস্তাবের পর বাংলাদেশ পুলিশ বিষয়টি নিয়ে ভাবছে। তবে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

গত ১৪ থেকে ২৪ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর পুলিশ বাহিনীকে নিয়ে ‘ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম’ প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে একটি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। ওই কনফারেন্সে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো অংশ নেয়। তবে ভারত ও পাকিস্তানে এই সম্মেলনে অংশ নেয়নি। বাংলাদেশ পুলিশের সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল কনফারেন্সে অংশ নেয়। এর মধ্যে স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), ইমিগ্রেশন পুলিশ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও ‍পুলিশ সদর দফতরের এনসিবি (ইন্টারপোল) ব্রাঞ্চের কর্মকর্তারা কনফারেন্সে অংশ নেন।

সম্মেলনে অংশ নেওয়া একাধিক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ইন্টারপোল অপরাধীদের চিহ্নিত করার জন্য সংস্থাটির সদস্যভুক্ত রাষ্ট্রগুলোয় বিভিন্ন ধরনের প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করে। পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেয়। তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে। অপরাধীরা অপরাধ করে দেশ ত্যাগ করে। তাদের সহজে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা যায় না। অপরাধীদের দেশের ভেতরে মামলা থাকলেও তারা পালিয়ে অন্য দেশে চলে গেলে সেখানে তাদের আর চিহ্নিত করা যায় না। তাই প্রতিটি বন্দরে যদি তাদের অপরাধ ও মামলার বিষয়ে ডাটা থাকে, তাহলে তারা দেশ থেকে পালিয়ে যেতে পারবে না। পালালেও ইন্টারপোলের লিংকে তাদের তথ্য থাকলে অপরাধীদের খুঁজে পেতে সহজ হবে।’

পুলিশ সুপার পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা বলেন, ‘মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ব্রুনাইসহ বিভিন্ন দেশের বন্দরগুলোতে ক্রিমিনালদের ডাটা সংরক্ষিত থাকে। তারা পালিয়ে গেলেও তাদের শনাক্ত করা সহজ হয়। অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোল সহযোগিতা করতেও পারে। তাই  দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর নৌ, স্থল ও বিমান বন্দরে ক্রিমিনাল ডাটাবেজ স্থাপনের প্রস্তাব  দেওয়া হয়েছে। ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, থাইল্যান্ডে চোরাচালানসহ আন্তর্জাতিক ক্রাইম হয়। এসব অপরাধী সহজেই দেশ থেকে পালিয়ে যায়। অপরাধীদের পৃথিবী ছোট করে আনার জন্যই ইন্টারপোল ক্রিমিনাল ডাটাবেজ তৈরি করার কথা বলছে।’

ইন্টারপোল এজন্য দেশের বন্দরগুলোতে সব ধরনের লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বলেও জানান ইমিগ্রেশন পুলিশের এক কর্মকর্তা।

পুলিশ সদর দফতের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ক্রিমিনাল ডাটাবেজের বিষয়ে আমরা এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেইনি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। কারণ বন্দরগুলোর সঙ্গে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর, ইমিগ্রেশন ও স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) যুক্ত।  ক্রিমিনাল ডাটাবেজের বিষয়ে এসব কাজ করতে পারে। তবে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আমাদের পাশ্ববর্তী কোনও দেশে বন্দর ক্রিমিনাল ডাটাবেজ নেই। অপরাধীরা দেশের ভেতরে কেউ প্রবেশ করলেও তাদের বিষয়ে আমাদের তথ্য সংরক্ষণ করা দরকার। কোনও অপরাধী বন্দরে ধরা পড়লে তার তথ্য সংগ্রহ করা হয় এডহকভিত্তিতে। কিন্তু ডাটাবেজ থাকলে বিষয়টি আরও সহজ হবে। তখন যেকোনও অপরাধী বন্দরে ঢোকা ও বাইরে যাওয়ার সময় ধরা পড়বে।’

ইন্টারপোলের প্রস্তাবের পর বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সদর দফতরও ভাবছে। তবে বন্দরে ক্রিমিনাল ডাটাবেজ স্থাপন করতে বন্দরগুলোয় কিভাবে পরিবর্তন আনতে হবে, কী কী লজিস্টিক সাপোর্ট লাগবে, প্রশিক্ষিত জনবল কেমন লাগবে—এসব নিয়ে ভাবতে কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দফতর।

পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) সহেলী ফেরদৌস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ইন্টারপোলের প্রস্তাবটি ভালো। আমরাও বিষয়টি নিয়ে চিন্তা ভাবনা করছি। যেন একটি ক্রিমিনাল ডাটাবেজ করা যায়। এ জন্য অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে।’

 

/এমএনএইচ/আপ-এফএস/

লাইভ

টপ