বাবার হাত ধরে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে সামরিক জাদুঘরে শিশুরা

Send
আদিত্য রিমন
প্রকাশিত : ১৯:১৮, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:১৩, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৭

 

বাবার সঙ্গে দুই শিশুএই সময়ের শিশু-কিশোররা মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে আগ্রহী। তাদের এই আগ্রহ দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। তারা মুক্তিযুদ্ধ ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের ইতিহাস জানতে চায়। এই শিশুরা অভিভাবকদের কাছে যেমন মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনা জানতে চায়, তেমনি দেখতেও চায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন স্থাপনা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহৃত পোশাক ও যুদ্ধাস্ত্র। এমন আগ্রহ থেকেই শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মা-বাবা ও অভিভাবকদের হাত ধরে শিশুরা আসে বিজয় সরণিতে অবস্থিত সামরিক জাদুঘরে। তারা ঘুরে ঘুরে দেখে দেখে মহান মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত সামরিক সরঞ্জাম। মা-বাবা-অভিভাবকের কাছে শোনে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস।

শনিবার সামরিক জাদুঘরে আসা শিশুদের দু’জন—রিফাত ও সিফাত। এই দুই শিশু তাদের বাবা মো. লিপুর সঙ্গে আসে। রিফাত রাজধানীর একটি স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র, সিফাত পড়ে একটি নুরানি মাদ্রাসায়।

জাদুঘরে
বিজয় দিবসে সামরিক জাদুঘরে এসে নিজের খুশির কথা জানালো রিফাত। ভাঙা ভাঙা গলায় বলে, ‘বিজয় দিবস উপলক্ষে স্কুল বন্ধ। তাই বাবার সঙ্গে জাদুঘর দেখতে এসেছি। এখানে এসে অনেক ভালো লাগছে।’ কী কী দেখেছে সে—জানতে চাইলে ঝটপট উত্তর তার—‘বাবা মুক্তিযুদ্ধের সময় সামরিক বাহিনীর ব্যবহার করা অনেক কামান দেখিয়েছেন। শহীদ সামরিক মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহার করা জামা-কাপড়সহ অনেক কিছু দেখেছি।’

সন্তানদের নিয়ে সামরিক জাদুঘরে আসার কারণ জানতে চাইলে মো. লিপু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,  ‘আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। বিজয় দিবসে সন্তানদের নিয়ে ঘুরতে এসেছি। তাদের দেখাতে এনেছি মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন। আমি চাই, তারা যেন এখন থেকেই মহান মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে ও বুঝতে শেখে।’ বাবা হিসেবে সন্তানকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানানোকে নিজের দায়িত্ব বলে মনে করেন তিনি।

শুধু সিফাত-রিফাত নয়, তাদের মতো আরও অনেককে এই  সামরিক জাদুঘরে নিয়ে এসেছেন তাদের মা-বাবা বা পরিবারের অন্য সদস্যরা। যেন শিশুরা এখন থেকেই জানতে পারে, মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। তারা যেন জানতে পারে, কিভাবে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সামরিক বাহিনীর কী অবদান রেখেছিল।  

বাবার সঙ্গে  শিশু

মোহাম্মদ সাবু মিয়া তার শিশুকন্যা আঁখি আকতারকে নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘৯ মাস যুদ্ধের বিনিময়ে এ দেশে স্বাধীন হয়েছে। এর আগে মেয়েকে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ঘুরিয়ে নিয়ে এসেছি। এখন সামরিক জাদুঘরে এনেছি। যেন সে এখন থেকেই মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে পারে। হয়তো সে এখন তেমন কিছু মনে রাখতে পারবে না। কিন্তু বড় হলে ঠিকই নিজ উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হবে।’

জানতে চাইলে আঁখি বলে, ‘অনেক ভালো লাগছে।’

মাদ্রাসা ছাত্র

বারিধারার জামিয়া মাদানিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান, মাহফুজ সামরিক জাদুঘর দেখতে এসেছেন। তারা বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে বইতে অনেক পড়েছি।  বাস্তবে দেখতে জাদুঘরে এসেছি। এখানে ১৯৭১ সালের সামরিক বাহিনীর ব্যবহার করা বিভিন্ন অস্ত্র, গাড়ি রাখা হয়েছে। আমরা ঘুরে ঘুরে এসব দেখেছি। ’

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গাড়ি চালান মো. শহীদুল ইসলাম। ছেলে মো. সিয়ামকে নিয়ে এসেছেন সামরিক জাদুঘরে। শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘বাবা আমার অফিস ও ছেলের স্কুল বন্ধ আজ।  এখানে এসে মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর কী ভূমিকা ছিল, তা ছেলেকে জানিয়েছি। ঘুরে ঘুরে তাকে এই জাদুঘর দেখাচ্ছি।’

উল্লেখ্য, ১৯৮৭ সালে প্রথম সামরিক জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৯ সালে জাদুঘরটি স্থায়ীভাবে বিজয় সরণিতে স্থানান্তর করা হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সেনাবাহিনীর কমান্ডারদের ব্যাজ, পোশাক, অস্ত্র, গোলাবারুদ, ক্যানন, এন্টি এয়ারক্রাফ্ট গান ও যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন যানবাহন জাদুঘরটিতে রক্ষিত রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের পর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন যানবাহন ও অস্ত্রও এখানে সংরক্ষিত রয়েছে।

 

/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ