রোহিঙ্গাদের অধিকার সমুন্নত রাখতে চায় বাংলাদেশ

শেখ শাহরিয়ার জামান
১৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ২০:১২আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ২০:১২

উখিয়ার বালুখালীতে পাহাড় দখল করে রোহিঙ্গা বসতি (ফাইল ছবি) রোহিঙ্গাদের ফেরাতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন এবং এর কার্যপদ্ধতি ও ম্যান্ডেট চূড়ান্ত হতে পারে আগামী মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর)। এদিন ঢাকায় দু’দেশের মধ্যে পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। রোহিঙ্গাদের অধিকার সমুন্নত রেখেই এই কার্যপদ্ধতি ও ম্যান্ডেট চূড়ান্ত করতে চায় বাংলাদেশ।

রবিবার (১৭ ডিসেম্বর) পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হকের নেতৃত্বে এ বিষয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ তার অবস্থান চূড়ান্ত করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, গত ২৩ নভেম্বর স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী, ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন এবং এর কার্যপদ্ধতি ও ম্যান্ডেট চূড়ান্ত করার কথা ছিল। কিন্তু এটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।

এরমধ্যে দু’দেশ একাধিকবার প্রস্তাব আদান-প্রদান করেছে। কিন্তু কয়েকটি বিষয়ে মতভিন্নতা থাকার কারণে এটি চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। এই কার্যপদ্ধতি ও ম্যান্ডেটের মধ্যে ২৩ নভেম্বর স্বাক্ষরিত চুক্তিটির উপাদানগুলোর বেশিরভাগই অন্তর্ভুক্ত করতে চায় বাংলাদেশ। অন্যদিকে, মিয়ানমার চায় যথাসম্ভব কম সংখ্যক উপাদান যুক্ত করতে।

২৩ নভেম্বরের চুক্তির প্রধান উপাদানগুলো হচ্ছে, ২০১৬ সালের অক্টোবরের পর যে রোহিঙ্গারা এসেছে তাদের প্রত্যাবাসন, নিরাপদ প্রত্যাবাসন, তাদের জীবিকার ব্যবস্থা, তাদের অধিবাসী সনদ দেওয়া, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের তথ্য-উপাত্ত দেওয়ার পর দুইপক্ষ দ্রুততার সঙ্গে বিষয়টি পরীক্ষা করবে, প্রত্যাবাসনের সময়ে সমস্যা হলে সমাধান কিভাবে হবে, প্রত্যাবাসনের জন্য ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট চুক্তি তৈরি করা, জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা, রাখাইন কমিশনের রিপোর্টের বাস্তবায়ন ও মানবাধিকার পরিস্থিতি ইত্যাদি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, আমরা এই উপাদানগুলোর যত বেশি সম্ভব কার্যপদ্ধতি ও ম্যান্ডেটে রাখতে চাই এবং মঙ্গলবারের বৈঠকে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। তিনি আরও বলেন, এই চুক্তির একটি অন্যতম ভালো বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে রোহিঙ্গাদের অধিকারের কথা বলা আছে এবং আমরা চাই দ্বিপক্ষীয়ভাবে যত সমঝোতা হবে, তার প্রতিটিতে বিষয়টি ধারণ করা। চুক্তির একটি ধারায় বলা আছে, দুইপক্ষ এমন কোনও কিছু বাস্তবায়ন করবে না, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানবাধিকার নীতিকে লঙ্ঘন করে।

আন্তর্জাতিক চাপ

মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয়ভাবে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের চেষ্টা করলেও আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখবে বাংলাদেশ। সরকারের আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, আগামী মার্চে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের নিয়মিত সভা হবে। সেখানে রোহিঙ্গা বিষয়টি যাতে জোরালোভাবে ওঠে, সে চেষ্টা আমাদের অব্যাহত থাকবে। এছাড়া, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বিষয়টি নিয়ে যাতে বারবার আলোচনা হয় সে দিকেও আমাদের লক্ষ্য থাকবে।

গত ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর হামলা ও নির্যাতনের ফলে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশের পালিয়ে এসেছে। এর আগে গত বছরের ৯ অক্টোবর থেকে কয়েক মাসের নির্যাতনের মুখে প্রায় ৯০ হাজারের মতো রোহিঙ্গা পালিয়ে এসেছিল। এছাড়া, এরও আগে থেকে প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে।

/এসএসজেড/এএম/
সম্পর্কিত
রোহিঙ্গাদের জন্য ২০ লাখ ইউরো অনুদান দিলো ফিনল্যান্ড
রোহিঙ্গাদের জন্য ৭১ কোটি ডলার সহায়তার আহ্বান
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন‘চারপাশে ছড়িয়ে ছিল কঙ্কাল-খুলি’, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর আরাকান আর্মির হত্যাযজ্ঞ
সর্বশেষ খবর
ভৈরবে রেলপথ অবরোধ: ৫টি ট্রেন মাঝরাস্তায় আটকা, চলাচল ব্যাহত
ভৈরবে রেলপথ অবরোধ: ৫টি ট্রেন মাঝরাস্তায় আটকা, চলাচল ব্যাহত
‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে নোবেল দিলে সেটা তারেক রহমান পাবেন’
‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে নোবেল দিলে সেটা তারেক রহমান পাবেন’
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
বিশ্বের সেরা ১০০ উপন্যাস : বাছাই ও বির্তক
বিশ্বের সেরা ১০০ উপন্যাস : বাছাই ও বির্তক
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি