ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কোন ধারায় কী শাস্তি

শফিকুল ইসলাম
২৯ জানুয়ারি ২০১৮, ১৬:০৮আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০১৮, ০৩:০৫

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮-এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ। নতুন আইনের ১৭ থেকে ৩৮ ধারায় বিভিন্ন অপরাধ ও শাস্তির বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

সোমবার (২৯ জানুয়ারি) বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব আইনটির কোন ধারায় কী শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে সাংবাদিকদের সেসব কথা জানান। তিনি বলেন, ‘আইনে ডিজিটালের সংজ্ঞা, ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব করা, ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম গঠন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি ডিজিটাল নিরাপত্তা কাউন্সিল গঠনের কথা বলা হয়েছে।’

শাস্তির বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই আইনের আওতায় কেউ যদি ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কোনও ধরনের প্রপাগান্ডা চালান, তাহলে ১৪ বছরের জেল ও এক কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। ২৮ ধারায় বলা হয়েছে, কেউ যদি ধর্মীয় বোধ ও অনুভূতিতে আঘাত করে,  তাহলে  ১০ বছরের জেল ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

নতুন আইনের ২৯ ধারায় বলা হয়েছে, মানহানিকর কোনও তথ্য দিলে তিন বছরের জেল ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া, ৩২ ধারায় বলা হয়েছে, সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কেউ যদি বেআইনিভাবে প্রবেশ করে কোনও ধরনের তথ্য উপাত্ত, যেকোনও ধরনের ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি দিয়ে গোপনে রেকর্ড করে, তাহলে সেটা গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধ হবে এবং এ অপরাধে ১৪ বছর কারাদণ্ড ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডর বিধান রাখা হয়েছে।

আইনে বলা হযেছে, কেউ যদি বেআইনিভাবে কারও ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে, তাহলে তাকে সাত বছরের জেল ও ২৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে। বেআইনিভাবে অন্য সাইটে প্রবেশ করার পর যদি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হন, তবে ১৪ বছরের জেল ও এক কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডর বিধান রাখা হয়েছে।। আবার কেউ যদি বেআইনিভাবে কারও ডিভাইসে প্রবেশ করে তাহলে এক বছরের জেল ও তিন লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডর বিধান রাখা হয়েছে। কেউ যদি কারও ডিভাইসে প্রবেশে সহায়তা করে, তাহলে তিন বছরের জেল ও তিন লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ১৭ ধারায় বলা হয়েছে, ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে কেউ যদি জনগণকে ভয়ভীতি দেখায় এবং রাষ্ট্রের ক্ষতি করে, তাহলে ১৪ বছরের জেল ও এক কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

২৫ ধারায় বলা হয়েছে, কেউ যদি ওয়েবসাইট বা ডিজিটাল মাধ্যমে আক্রমণাত্মক ভয়ভীতি দেখায়, তাহলে তাকে তিন বছরের জেল ও তিন লাখ টাকা জরিমানাসহ উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

৩০ ধারায় বলা হয়েছে, না জানিয়ে কেউ যদি কোনও ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস ব্যবহার করে ব্যাংক-বীমায় ই-ট্রানজেকশন করে, তাহলে পাঁচ বছরের জেল ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

৩১ ধারায় বলা হয়েছে, ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে কেউ অরাজকতা সৃষ্টি করলে সাত বছরের জেল ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

 

 আরও পড়ুন: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়া অনুমোদন, ৫৭ ধারা বাতিল

/ইউআই/ এপিএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
সীমান্তে উত্তাপ, শাহবাগে ১১ দলের প্রতিবাদ
সীমান্তে উত্তাপ, শাহবাগে ১১ দলের প্রতিবাদ
শুরুতে এগিয়ে গিয়েও বেলজিয়ামের সঙ্গে মিসরের ড্র
শুরুতে এগিয়ে গিয়েও বেলজিয়ামের সঙ্গে মিসরের ড্র
৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নদীতে ফেলে দিলো চার যুবক
৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নদীতে ফেলে দিলো চার যুবক
৫০ হাজার থেকে ১৬ লাখ অনুসারী ভোজিনহার
৫০ হাজার থেকে ১৬ লাখ অনুসারী ভোজিনহার
সর্বাধিক পঠিত
তিন বাস টার্মিনাল যাচ্ছে ঢাকার বাইরে, কোনটি কোথায়
তিন বাস টার্মিনাল যাচ্ছে ঢাকার বাইরে, কোনটি কোথায়
যারা তড়িঘড়ি আমানত ভেঙেছেন, তাদের জন্য নতুন ঘোষণা ইসলামী ব্যাংকের
যারা তড়িঘড়ি আমানত ভেঙেছেন, তাদের জন্য নতুন ঘোষণা ইসলামী ব্যাংকের
নির্বাহী প্রকৌশলীকে মন্ত্রী বললেন ‘আপনাকে নিয়ে আগাতে পারবো না’
নির্বাহী প্রকৌশলীকে মন্ত্রী বললেন ‘আপনাকে নিয়ে আগাতে পারবো না’
বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার তিন শর্ত জানালেন আইনজীবী শিশির মনির
বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার তিন শর্ত জানালেন আইনজীবী শিশির মনির
ডাচদের রুখে দিয়েছে এশিয়ান পরাশক্তি জাপান 
ডাচদের রুখে দিয়েছে এশিয়ান পরাশক্তি জাপান