সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা বাতিল চেয়ে রিট

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৪:১০, জানুয়ারি ৩১, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:২৭, জানুয়ারি ৩১, ২০১৮

সুপ্রিম কোর্ট

সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা বাতিল ও পুনর্মূল্যায়ন চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন অ্যাডভোকেট একলাছ উদ্দিন ভূইয়া নামে সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। বুধবার দুপুরে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন তিনি।

রিট আবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার ১৯৭২ সালে সরকারি, বেসরকারি, আধা-সরকারি, এবং জাতীয়করণকৃত প্রতিষ্ঠানে জেলা ও জনসংখ্যার ভিত্তিতে ৩০ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ১০ শতাংশসহ ক্ষতিগ্রস্থ মহিলাদের জন্য কোটা প্রবর্তন করে আদেশ দেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় এই কোটা প্রথা সংস্কার ও পরিবর্তন করা হয়। বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১ম ও ২য় শ্রেণির সরকারি নিয়োগে কোটা রয়েছে প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, নাতি নাতনির জন্য ৩০ শতাংশ, নারী ১০ শতাংশ, জেলা কোটা ১০ শতাংশ ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য ৫ শতাংশ। সব মিলিয়ে সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা চাকরি বিদ্যমান রয়েছে।

রিট আবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৫ সালের ৩১ মার্চ দৈনিক পত্রিকার প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশের বর্তমান জনসংখ্যা ১৪ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার। এর মধ্যে ১৫ লাখ ৮৬ হাজার ১৪১ জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এবং ২০ লাখ ১৬ হাজার ৬১৫ জন প্রতিবন্ধী। মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মুক্তিযোদ্ধা ২ লাখ ৯ হাজার। ফলে দেশের মোট জনসংখ্যার মধ্যে ১৫ লাখ ৮৬ হাজার ১৪১ জন নৃ-গোষ্ঠীর জন্য কোটা রয়েছে ৫ শতাংশ। একইসঙ্গে ২০ লাখ ১৬ হাজার ৬১০ জন প্রতিবন্ধীর জন্য কোটা রয়েছে ১ শতাংশ'।

এদিকে পিএসসি'র তথ্য মতে ২১, ২২ ও ২৫ তম বিসিএস পরীক্ষায় মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পোষ্যদের সংরক্ষিত ৩০ শতাংশের স্থলে যথাক্রমে ১০.৮, ২.২, ও ৫.২ শতাংশ পূর্ণ হয়েছিল। ফলে বাকি সংরক্ষিত কোটা শূন্য থেকে যায়।

রিট আবেদনে আরও বলা হয়, ২০০৮ সালে পিএসসি'র উদ্যোগে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কোটা প্রথা নিয়ে একটি সমীক্ষা হয়। ওই সমীক্ষা অনুসারে কোটা প্রথা অসাংবিধানিক ও ন্যায়নীতির পরিপন্থী। কোনও কোটা চিরদিন থাকা ঠিক নয়। এই কোটা সংবিধানের ১৯, ২৮, ২৯ ও ২৯(৩) এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের সচিব, আইন সচিব, জাতীয় সংসদ সচিবালয় সচিবসহ সংশ্লিষ্টদেরকে বিবাদী করা হয়েছে।  

 

 

 

 

/বিআই/এসটি/টিএন/

লাইভ

টপ