রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে বাঁধ নির্মাণ করবে সরকার

Send
শফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত : ০৭:৫৬, ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:২৬, ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০১৮

বাংলাদেশে ঢুকছে রোহিঙ্গারা (ফাইল ছবি)

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে কক্সবাজারের টেকনাফ-উখিয়া ও মিয়ানমারের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নাফ নদীর পশ্চিম পাড় বরাবর ৪৭ দশমিক ৬০ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ প্রশস্ত ও উঁচু করার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কক্সবাজার জেলার বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করতে উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় নাফ নদী বরাবর পোল্ডারগুলোর (৬৭/এ, ৬৭, ৬৭বি এবং ৬৮) পুনর্বাসন প্রকল্প নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার।

কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার পুব দিকে মিয়ানমার অবস্থিত। টেকনাফ-উখিয়া ও মিয়ানমারের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে নাফ নদী। এ নদীর নদীর পশ্চিম পাড় (ডান তীর) বরাবর বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মাণ করা ৪৭ দশমিক ৬০ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং ৪৬টি পানি নিষ্কাশন অবকাঠামো রয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য প্রকল্প এলাকায় নাফ নদীর লোনা পানির প্রবেশ ঠেকানোসহ বন্যা ও উচ্চ জোয়ারের হাত থেকে প্রকল্প এলাকায় শস্য ও জানমাল রক্ষা করা। তবে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এই বাঁধে নিয়মিত টহল দেয়। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাঁধের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় এখন গাড়ি নিয়ে বিজিবি সদস্যদের টহল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ১৯৯১, ২০০৭, ২০০৮ ও ২০১০ সালে পরপর আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও অতিবৃষ্টির প্রভাবে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও পানি নিষ্কাশন অবকাঠামোগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়।

বিজিবি কক্সবাজার সূত্র জানায়, বর্তমানে বাঁধের উপরিভাগ ৪ দশমিক ২৭ মিটার হওয়ায় বাঁধের ওপর দিয়ে সীমান্ত টহল দেওয়ার যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ জন্য যানবাহন চলাচল সহজ করতে বাঁধের প্রশস্ততা বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি উচ্চ জোয়ারের প্রভাবে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোর জন্যও বাঁধের উচ্চতা বাড়ানো প্রয়োজন। 

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এ পটভূমিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ২০১৫ সালে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করে। ওই কারিগরি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে কক্সবাজার জেলার অংশে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় নাফ নদী বরাবর পোল্ডারগুলোর (৬৭/এ, ৬৭, ৬৭বি এবং ৬৮) পুনর্বাসন প্রকল্পটি গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এ অর্থ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। ২০২০ সালের ৩০ জুন প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে বলে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। প্রকল্পটি সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) অনুমোদন দিয়েছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহম্মদ আলী হোসেন জানান, বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারসহ মায়ানমার থেকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ রোধ এবং পোল্ডার নং-৩৭/এ, ৬৭, ৬৭/বি ও ৬৮-এর আওতায় প্রকল্প এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন করাই এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমানে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে দুটি কাজ হবে। একদিকে যেমন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে টহল জোরদার করা যাবে, অপরদিকে নাফ নদীর লোনা পানির কবল থেকে উখিয়া ও টেকনাফের ফসলি জমির ক্ষতিসাধন ঠেকানো যাবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, প্রকল্পটি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের। এটি বাস্তবায়িত হলে বিদ্যমান বাঁধটি প্রশস্ত ও উঁচু হবে। এতে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির পক্ষে যানবাহন নিয়ে টহল দেওয়ার কার্যক্রম জোরদার ও সহজ করা যাবে।

 

/এসআই/এইচআই/

লাইভ

টপ