বইমেলায় ফাগুনের আগুন

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:২০, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:২৫, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮

বইমেলায় বসন্তের ছোঁয়া

মাঘের বিদায়ে বসন্তের ছোঁয়া লেগেছে বইমেলায়। বাসন্তি রঙের পোশাক আর মাথায় ফুলের টিয়ারা নিয়ে সাহিত্যপ্রেমীরা ভিড় জমিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিকাল তিনটায় বইমেলা শুরু হলেও তার কিছুক্ষণ আগ  থেকেই প্রতিটি প্রবেশমুখে ছিল দীর্ঘ লাইন। গেট খোলার সঙ্গে সঙ্গেই বইপ্রেমীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ। বিভিন্ন রঙে সাজগোজ আর বিচরণে বোঝা যায়, এখন আর শুধু বাসন্তি রঙেই থেমে নেই ফাগুনের উৎসব।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকাল থেকেই বইমেলায় তিল ধারণের  জায়গা নেই। বসন্তের এই দিনে  বইমেলা অন্য একরকম প্রাণ পেয়েছে। ছোট্ট শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষদের ভিড় মনে করিয়ে দেয়— সাহিত্য এখন শুধু নির্দিষ্ট বয়সে সীমাবদ্ধ নয়। বইমেলায় দর্শক সামাল দিতে রীতিমত হিমসিম খাচ্ছে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পর্যন্ত সর্বত্রই ছড়িয়ে আছে দর্শক। বাসন্তি রঙের শাড়ি পড়ে মাথায় ফুলের টিয়ারা লাগিয়ে উৎসবে সামিল হতে অনেকে এসেছেন দূর থেকেও।

বাসন্তি সাজে ক্রেতাদের ভিড়বইমেলা ঘুরে দেখা যায়,  ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে অনেক বিক্রেতা নিজেরাই সেজেছেন ফাগুনের রঙে। বইপ্রেমীরা পছন্দের লেখকের বই খুলে পড়ছেন, আবার কেউবা কিনছেন।

ফাগুনের এই প্রথম দিনে প্রিয় লেখকের বই খুঁজতে স্টলে স্টলে ভিড় জমাচ্ছেন ভক্তরা। সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা যায় অন্যপ্রকাশের স্টলে। হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের চাহিদা এখনও বেশ তুঙ্গে বলে জানান অন্যপ্রকাশের বিক্রেতারা। অন্যদিকে, অন্বেষা প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক জানান, ক্রেতাদের চাপে কথা বলাও মুশকিল। তবে একফাঁকে তিনি এই প্রতিবেদককে জানালেন, মেলায়  উপন্যাসের চাহিদা  সবচেয়ে বেশি।

বসন্তের সাজে বিক্রেতারাওআরও  বেশি ভিড় দেখা যায়, তিন গোয়েন্দা খ্যাত সেবা প্রকাশনীর স্টলে। ক্রেতাদের কাছে  মাসুদ রানা এবং তিন গোয়েন্দার চাহিদা সবচেয়ে বেশি বলে জানান সেবা প্রকাশনীর এক বিক্রেতা। এদিকে,বিকালে মেলা পরিদর্শনে এসেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তার সঙ্গে ছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেলায় তরুণ লেখক শোভন সাহার লেখা একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন। হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্ট চরিত্র মিসির আলীকে নিয়ে লেখা এই বইয়ের মোড়ক উন্মোচন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখকরা কখনও হারিয়ে যান না। তারা সাহিত্যের মাঝে বেঁচে থাকেন চিরকাল।’

বইমেলায় বসন্তের ছোঁয়াএছাড়া, মেলা পরিদর্শনে এসেছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। মেলায় অন্যপ্রকাশের স্টলের সামনে এসে দাঁড়াতেই ভক্তরা ঘিরে ধরেন তাকে। এসময় তারা মন্ত্রীর সঙ্গে সেলফি এবং ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। মন্ত্রী নিজেও খুশি হয়ে ভক্তদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটান।
কেরানিগঞ্জ থেকে মেলায় ঘুরতে এসেছেন ফাহিমা। তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মূলত বই কিনতেই তিনি মেলায় এসেছেন। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘বইমেলার পাশাপাশি বসন্ত উৎসবে বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। সেগুলো দেখতে এসেছি। প্রিয় লেখকদের কিছু বইও কেনার ইচ্ছা আছে।’

 

/এসও/এপিএইচ/

লাইভ

টপ