স্বাধীনতা পুরস্কার: শহীদ মতিউরকে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:৩৯, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৫৩, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৮

কিশোর শহীদ মতিউর রহমান মল্লিক। ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি ইত্তেফাকে  প্রকাশিত ছবিস্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত কিশোর শহীদ মতিউর রহমান মল্লিককে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। গত মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) স্বাধীনতা পদকের জন্য চূড়ান্ত মনোনীতদের নাম ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় প্রশ্ন–এ কোন মতিউর রহমান মল্লিক। জামায়াতিদের সাংস্কৃতিক সংগঠন সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মতিউর রহমান মল্লিকের সঙ্গে গুলিয়ে এ নিয়ে বিভ্রান্তিকর পোস্ট দিতেও দেখা গেছে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের নায়ক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি নিজে এই নাম প্রস্তাব করেছি। মতিউর রহমান মল্লিক ৬৯ এর শহীদ।’

বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকালে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট আরিফ জেবতিক তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, “মতিউর রহমান মল্লিক নামের যে কবি এবারের স্বাধীনতা পুরস্কার (মরণোত্তর) পাচ্ছেন, তিনি জামায়াতিদের সাংস্কৃতিক সংগঠন সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। ২০১০ সালে তিনি মারা যান এবং মগবাজারে অনুষ্ঠিত তার প্রথম জানাজায় ইমামতি করেন শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযম।”

এ বিষয়ে তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘মতিউর রহমান মল্লিক ৬৯ এর শহীদ মতিউর রহমান। শহীদ মতিউর রহমান, আসাদ এবং সার্জেন্ট জহিরুল এর নাম স্বাধীনতা পদকের জন্য আমিই প্রস্তাব করেছি। তাদের (শহীদ মতিউর) পদবি মল্লিক। সেক্ষেত্রে তারা অন্য কী লিখবে? যারা এগুলো বলছে (বিভ্রান্তিকর তথ্য) তারা বদমাইশ।’

এ বছর স্বাধীনতা ‍ও মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে স্বাধীনতা পুরস্কারের (মরণোত্তর) জন্য মনোনীত হয়েছেন সাবেক স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় দিল্লিতে বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ছিলেন। এছাড়াও মরণোত্তর  সম্মাননা পাচ্ছেন শহীদ বুদ্ধিজীবী এম এম এ রাশীদুল হাসান, বঙ্গবন্ধুর সহচর সাবেক সাংসদ শংকর গোবিন্দ চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সাবেক সাংসদ এম আব্দুর রহিম, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামি ভূপতি ভূষণ চৌধুরী (মানিক চৌধুরী), শহীদ লেফটেন্যান্ট মো. আনোয়ারুল আজিম, শহীদ আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, শহীদ মতিউর রহমান মল্লিক, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক এবং কাজী জাকির হাসান।

১৯৬৯ এর ২০ জানুয়ারি আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে কারফিউ ভেঙে ছাত্ররা মিছিল বের করলে পুলিশ গুলি চালায়। এতে শহীদ হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র আসাদুজ্জামান আসাদ। কিশোর মতিউরও ছিলেন সেই মিছিলে। ২৪ জানুয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানজুড়ে হরতাল ডাকা হয়। ঢাকার রাজপথ সেদিন মিছিলে মিছিলে উত্তাল। এদিনের মিছিলের গুলিতে নিহত হন মতিউর রহমান মল্লিক। 

ইতোমধ্যে বাংলা একাডেমি থেকে শহীদ মতিউর রহমান মল্লিকের জীবনীগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। আখতার হুসেন প্রণীত বইটিতে ব্যক্তি নয়, সময়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের নাম

 

/ইএইচএস/ইউআই/এএম/

লাইভ

টপ