নতুন ভবন নির্মাণে কত সময় লাগবে বিজিএমইএ’র

Send
শাহেদ শফিক
প্রকাশিত : ১০:৪৯, মার্চ ১২, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৩০, মার্চ ১২, ২০১৮

বিজিএমইএ-এর নতুন ভবন নির্মাণের কাজ চলছেউত্তরায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) থেকে বরাদ্দ পাওয়া জমিতে কার্যালয় নির্মাণের কাজ শুরু করেছে তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। এরই মধ্যে ভবনের মাটি খনন ও পাইলিংসহ অন্যান্য কাজ শেষ করেছে সংগঠনটি। তবে কবে নাগাদ নির্মাণ কাজ শেষ হবে, তা নিয়ে মুখ খুলছেন না সংশ্লিষ্টরা। তবে তাদের ধারণা, আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যেও ভবন নির্মাণ কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না।

সরেজমিন দেখা গেছে, উত্তরার ১৭ নম্বর সেক্টরের ৬নং এভিনিউর লেকসাইড রোডে ১০ কাঠা জমির ওপর দুটি ১৫ তলা ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে। এরই মধ্যে ভবন নির্মাণের জন্য মাটি কাটা ও পাইলিংয়ের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। শ্রমিকরাও কাজ জোরেশোরে করছেন। ছুটির দিনেও কাজ করা হচ্ছে। তবে নির্মাণ কাজে শ্রমিকের সংখ্যা খুব বেশি উল্লেখযোগ্য নয়।

ভবনের সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো. শহীদ উল্লাহ খন্দকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা ভবন নির্মাণের জন্য বিজিএমইএ-কে উত্তরায় তৃতীয় প্রকল্পে জমি দিয়েছি। তারা নকশা অনুমোদন নিয়েছেন।’

বিজিএমইএ-এর নতুন ভবন নির্মাণের কাজ চলছেরাজউক উত্তরা জোনের উপপরিচালক মামুন বলেন, ‘বিজিএমইএ তাদের নতুন ভবনের কাজ শুরু করে দিয়েছে। এরই মধ্যে ফাইলিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য বিজিএমইকে তাগাদা দেওয়া হয়েছে।’

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নতুন ভবনে জরুরি কাজের জন্য প্রয়োজনীয় ফ্লোর থাকবে। থাকবে উন্মুক্ত জায়গাও। লেকসাইডে হওয়ায় ভবনটি হবে দৃষ্টিনন্দন। বর্তমান ভবনের বিভিন্ন ফ্লোর যাদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে, তাদেরও নতুন ভবনে স্থান করে দেওয়া হবে। তিনটি ব্যাংক ছাড়া ভবনের ফ্লোর ক্রেতাদের সবাই বিজিএমইএ’র সদস্য। কোনও রুম ভাড়া দেওয়া হবে না। ভবন নির্মাণের পর জমিসহ ওই বাড়িটির দাম হবে কমপক্ষে ৪০০ কোটি টাকা। তবে নতুন ভবনের নির্মাণ ব্যয় এখনও নির্ধারণ করেনি বিজিএমইএ। প্রকৌশলীরা ধারণা করছেন, ব্যয়ের অঙ্কটা অনেক বড়ই হবে।

বিজিএমইএ-এর নতুন ভবন নির্মাণের কাজ চলছে

এদিকে, হাতিরঝিলে অবস্থিত বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে আদালতের আদেশ রয়েছে। বিজিএমইএ’র একাধিকবার আবেদনের পর আদালতের সর্বশেষ আদেশ অনুযায়ী আগামী মে মাসের মধ্যেই ভবনটি সরিয়ে ফেলার কথা। তবে এর মধ্যে ভবন ভাঙার জন্য আরও এক বছর সময় চেয়ে আদালতে আবেদন করেছে সংগঠনটি।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৫ মার্চ ভবন ভেঙে ফেলতে রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে (রিভিউ) বিজিএমইএ’র করা আবেদন খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। ওই সময় বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ ভবন সরাতে তিন বছর সময় চেয়ে আবেদন করেন। একই বছরের ১২ মার্চ আপিল বিভাগ আবেদন নিষ্পত্তি করে ভবন সরিয়ে ফেলতে ছয় মাস সময় দেন। পরে ভবন ভাঙতে এক বছরের সময়ে চেয়ে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় বিজিএমইএ’র আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি নিয়ে গত ৮ অক্টোবর হাতিরঝিলের পাশে গড়ে ওঠা ভবনটি ভাঙতে সাত মাস সময় দেন আদালত।

বিজিএমইএ-এর নতুন ভবন নির্মাণের কাজ চলছে

আদালত নির্ধারিত সাত মাসের পাঁচ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর কার্যালয় ভাঙতে আরও এক বছর সময় চেয়েছে বিজিএমইএ। গত ৫ মার্চ আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ বিষয়ে একটি আবেদন করা হয়। বিজিএমইএ’র আইনজীবীরা জানান, নতুন ভবন নির্মাণের জন্য রাজউক কেবল জমি দিয়েছে। এখন বাকি সবকিছু প্রক্রিয়াধীন আছে। তাই আদালতের কাছে আরও এক বছর সময় চাওয়া হয়েছে।

আদালতে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভবন ভাঙার জন্য বিজিএমইএ আরও বছর সময় পেলেও সেই সময়ের মধ্যে নতুন কার্যালয় নির্মাণ করার সম্ভব কিনা, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এত বড় দুটি ভবনের নির্মাণকাজ এক বছরের মধ্যে শেষ করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।

বিজিএমইএ-এর নতুন ভবন নির্মাণের কাজ চলছে

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিএমইএ’র উপ-সচিব (সিভিল ইঞ্জিনিয়ার) মো. রাজিবুল ইসলাম খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা খুব দ্রুতেই কাজ করছি। কাজে কোনও আলসেমি নেই। ছুটির দিনেও শ্রমিকরা কাজ করছেন। ভবনের কাজ শেষ হতে কী পরিমাণ সময় লাগবে, তা সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। বিজিএমইএ থেকে যেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে সেভাবে দ্রুত কাজ করা হচ্ছে।’

এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হবে কিনা—জানতে চাইলে রাজিবুল ইসলাম খান বলেন, ‘সেটাও নিশ্চিত করে বলা যায় না। এই সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হতে পারে, আবার নাও হতে পারে।’

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে নির্মাণ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এত বড় ভবন এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে নির্মাণ শেষ করে কাজের উপযোগী হিসেবে হস্তান্তর করা খুবই কঠিন হবে। এটা সম্ভব না।

 

/টিআর/আপ-এসটি/চেক-এমওএফ/

লাইভ

টপ