ক্যাপ্টেন আবিদ সত্যিই পদত্যাগ করেছিলেন!

Send
চৌধুরী আকবর হোসেন
প্রকাশিত : ২৩:৩৭, মার্চ ১৪, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:২৯, মার্চ ১৫, ২০১৮

পাইলট আবিদ সুলতান

ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতান নেপালে যাওয়ার আগে সোমবার  ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষের কাছে তার পদত্যাগপত্র দিয়েছিলেন বলে দাবি করছেন কেউ কেউ। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হলেও আবিদের স্ত্রী ও  ভাই এ সম্পর্কে কিছুই জানেন না, বাংলা ট্রিবিউনকে এ কথা বলেছেন তারা। অন্যদিকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালকও আবিদের পদত্যাগের বিষয়টি জোরালোভাবেই নাকোচ করেছেন। প্রশ্ন উঠেছে, তিনি সত্যিই কি  ইউএস-বাংলা থেকে পদত্যাগ করেছিলেন, বা করতে চেয়েছিলেন?

প্রসঙ্গত, সোমবার (১২ মার্চ) কাঠমান্ডুতে ত্রিভুবন বিমানবন্দরে রানওয়ের পাশে একটি খেলার মাঠে বিধ্বস্ত হয় ইউএস-বাংলার একটি উড়োজাহাজ। পরদিন মঙ্গলবার  চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সেই উড়োজাহাজের ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতান।

ইউএস-বাংলার চাকরি ছেড়ে অন্য এয়ারলাইন্সে আবিদ সুলতানের যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে তার স্ত্রী আফসানা খানম বলেন, ‘অন্য কোথাও জয়েন করার বিষয়ে আবিদ কিছুই জানায়নি। এবিষয়টি আমাদের জানা নেই।’

চাকরি নিয়ে আবিদ সুলতানের কোনও ক্ষোভ বা অসন্তুষ্টি ছিল কিনা জানতে চাইলে আফসানা খানম বলেন, ‘আমরা তাকে স্বাভাবিক দেখেছি। অফিসে কোনও ঝামেলা ছিল কিনা, তা আমাদের জানা নেই। এ বিষয়ে অফিসের লোকজন ভালো বলতে পারবেন।’

আবিদ সুলতানের ভাই খুরশিদ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনেক পত্রপত্রিকায় বিভিন্ন রকমের খবর দেখেছি। তবে আমার ভাই স্বাভাবিক ছিলেন। ইউএস-বাংলার চাকরি নিয়ে তার মধ্যে ক্ষোভের কিছু দেখিনি।’

আবিদের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার খবর সঠিক নয় বলে দাবি করেন  ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন । তিনি বলেন, ‘ক্যাপ্টেন আবিদ  চাকরি ছাড়তে আবেদন করেছেন, এমন অভিযোগ সঠিক নয়। কোনও পাইলট চাকরি ছাড়তে চাইলে, তাকে আটকে রাখার কোনও কারণ নেই। কাউকে জোর করে ফ্লাই করতে দেওয়ার সুযোগ নেই।  যথাযথ নিয়ম মেনেই আবিদ সুলতান ফ্লাই করেছেন।’

এ প্রসঙ্গে সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল নাইম হাসান বলেন, ‘একজন পাইলট চাকরি করবেন না, এই ইচ্ছা প্রকাশ করতেই পারেন। কিন্তু চাকরি ছাড়ারও তো একটা প্রসিডিউর আছে। যেমন, যে কোনও কর্মকর্তা যদি চাকরি ছাড়েন, তাহলে তাকে একটি টাইম ফ্রেম দেওয়া হয়। সেটা ১৫ দিন হতে পারে, একমাসও হতে পারে। সেদিন পর্যন্ত তাকে চাকরি করতে হয়। এটাই নিয়ম। কেউ সকালে বলবেন যে, চাকরি করবো না। আর বিকালেই চাকরি ছেড়ে দিয়ে চলে যেতে পারেন না। ফলে তাকে জোর করে ফ্লাইট পরিচালনা করানো হয়েছে, এটা ভুল তথ্য। আমি যতটুকু জানি, তিনি স্বেচ্ছায়ই ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন।’
ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানকে দিয়ে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনা করানো হয়েছে, এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে  নাইম হাসান আরও বলেন, ‘সত্যি যদি এমন হয়, আমরা ধরবো। কারণ, আমরা তো রেগুলেটর। মনিটর করি। আমরা তো এমনটা দেখি না।’

তদন্তের বিষয়ে সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘সাধারণত যে দেশে দুর্ঘটনা ঘটে, সেই দেশের এয়ারক্রাফট ইনভেস্টিগেশন গ্রুপ তদন্ত করে। ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার হয়েছে, সেটা থেকেই তথ্য পাওয়া যাবে। তদন্ত হলেই আমরা জানতে পারবো সব। যত দ্রুত সম্ভব, তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পাবো।’

জানা গেছে, আবিদ সুলতান ২০১৫ সালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে যোগ দেন। এর আগে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী থেকে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট হিসেবে অবসরে যান তিনি। প্রায় পাঁচ হাজার ঘণ্টা উড্ডয়নের অভিজ্ঞতা ছিল আবিদের।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (১২ মার্চ ) চার জন ক্রু ও ৬৭ যাত্রীসহ মোট ৭১ জন আরোহী নিয়ে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে নেপালের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২০ মিনিটে কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে পৌঁছায়। অবতরণের সময় বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। এরপর বিমানবন্দরের কাছেই একটি ফুটবল মাঠে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এতে ২৬ জন বাংলাদেশিসহ মোট ৫১ জন আরোহী নিহত হয়েছেন।

/সিএ/এপিএইচ/

লাইভ

টপ