নেপালে বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমানটির ব্ল্যাকবক্সের তথ্য উদ্ধারের কাজ শুরু হবে ২৩ এপ্রিল থেকে। এছাড়া, তদন্তের জন্য বাংলাদেশ থেকে যাচ্ছে বিমান, সেই ফ্লাইটের পাইলট ও কো-পাইলটসহ অন্যান্য বিষয়ের ২০০ বেশি ডকুমেন্ট। ৫ এপ্রিল বাংলাদেশ থেকে এসব ডকুমেন্ট নিয়ে নেপাল যাচ্ছেন এয়ারক্রাফট এক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন গ্রুপ অব বাংলাদেশ (এএআইজি-বিডি) প্রধান ক্যাপ্টেন সালাহ্উদ্দিন এম রহমতুল্লাহ।
সূত্র জানায়, নেপালে বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমানের ব্ল্যাকবক্সের তথ্য উদ্ধার করা হবে ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড অব কানাডায়। ২৩ এপ্রিল থেকে ৪ মে ব্ল্যাকবক্সের তথ্য উদ্ধারের জন্য স্লট পেয়েছে নেপালে গঠিত তদন্ত কমিটি। ব্ল্যাকবক্স ডিকোডের পর প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করবে তদন্ত কমিটি। এছাড়া, তদন্ত কমিটির চাহিদা অনুযায়ী ২০০-এর বেশি ডকুমেন্ট নেপালে পাঠানো হচ্ছে। এরমধ্যে রয়েছে বিমান, সেই ফ্লাইটের পাইলট ও কো-পাইলটসহ অন্যান্য বিষয়ের ডকুমেন্টের হার্ডকপি।
সূত্র জানায়, আগামী ১২ এপ্রিল তদন্ত কমটি প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। এর আগে সংশ্লিষ্ট আরও অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করবে তদন্ত কমিটি। এছাড়া, প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত কম্পাইল করে রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে। তবে এই রিপোর্টে সেদিনের ঘটনার বিবরণ উঠে এলেও দুর্ঘটনা কী কারণে হয়েছিল, সেসব তথ্য আসবে না।
গত ১২ মার্চ নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ড্যাশ-৮ বিমান বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনা তদন্তে নেপাল সরকার ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। বাংলাদেশ থেকেও তদন্তে যুক্ত হয়েছে ৬ সদস্যের একটি দল। তদন্ত কাজে যোগ দিতে গত ১৮ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত নেপালে ছিলেন এয়ারক্রাফট এক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন গ্রুপ অব বাংলাদেশ (এএআইজি-বিডি) প্রধান ক্যাপ্টেন সালাহ্উদ্দিন এম রহমতুল্লাহ। ফের ৭ দিনের জন্য ৫ এপ্রিল নেপালে যাচ্ছেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে সালাহ্উদ্দিন এম রহমতুল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দুই-একদিনের মধ্যে ব্ল্যাকবক্স কানাডায় পাঠানো হবে। ২৩ এপ্রিল থেকে ৪ মে ডিকোডের জন্য স্লট পেয়েছে তদন্ত তমিটি। ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড অব কানাডায় এটি ডিকোডের কাজ সম্পন্ন করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই তদন্ত কাজে অনেক দিন সময় লাগবে। ব্ল্যাক বক্স ডিকোড করে সেসব তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাবে, সেগুলো বিশ্লেষণ করলে দুর্ঘটনার কারণ জানা যাবে।’
সূত্র জানায়, নেপালে তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। এছাড়া দুর্ঘটনার দিন বিমানবন্দরটির টাওয়ারের সঙ্গে পাইলটের কথোপকথনের রেকর্ডও সংগ্রহ করেছে। বিমানবন্দরে সেদিন কর্তব্যরত কর্মকর্তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তদন্ত কমিটি।







