ঢাবি ভিসির বাড়িতে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাই: প্রধানমন্ত্রী

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
১১ এপ্রিল ২০১৮, ১৭:৫৯আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৮, ২০:৩৭

জাতীয় সংসদে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) ড. মো. আখতারুজ্জামানের বাড়িতে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (১১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বলেন, ‘এই হামলার ছবি দেখে মনে হয়েছে ১৯৭১ সালের পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মতো তাণ্ডব চালানো হয়েছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই। এটা কী ধরনের কথা?’
গত ৮ এপ্রিল রাত ১টার দিকে এক থেকে দুই হাজার বিক্ষোভকারী ঢাবি ভিসি’র বাসার মূল ফটক ভেঙে ফেলে ও দেয়ালের তারকাঁটা ভেঙে বাসায় ঢুকে পড়ে। তাদের হাতে রড, হকিস্টিক, লাঠি ও বাঁশ ছিল। তবে হামলায় উপাচার্যের পরিবারের কেউ আহত হননি। এ সময় উপাচার্যের বাসভবনের গেট ভেঙে আন্দোলনকারীরা ভেতরে ঢুকে গাড়ি পুড়িয়ে দেয়।












এদিকে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে রেখেছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ কারণে পুরো নগরীতে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেন, ‘‌দেখে দুঃখ লাগে, ছেলেমেয়েরা সমস্ত লেখাপড়া বন্ধ করে কোটার সংস্কার চেয়ে আন্দোলনে নেমেছে।’
বুধবার সকালে ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন গণভবনে গিয়েছিলেন বলে সংসদে জানান প্রধানমন্ত্রী। তার কথায়, ‘ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক আমার কাছে এলো। তিন দিন ধরে তারা ঘুমাতে পারছে না। ওদিকে, চৈত্র মাসের এই সময়ে তারা (শিক্ষার্থী) রাস্তায় বসে আন্দোলন করছে। তারা তো অসুস্থ হয়ে পড়বে। তারা রাস্তা বন্ধ করে রেখেছে। এমনিতেই যানজট, তা আরও বাড়ছে। রোগীরা হাসপাতালে যেতে পারছে না। মানুষ অফিস-আদালতে যেতে পারছে না, কাজকর্ম করতে পারছে না।’
চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে বিষয়ে এর আগে দলীয় ফোরামে আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ তথ্য জানিয়ে তিনি বললেন, ‘তারা দাবি জানিয়েছে, আমরাও বসে নেই। মন্ত্রিসভায় সেখানে আলোচনা করলাম। সিদ্ধান্ত দেওয়া হলো— সিনিয়র মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। একইসঙ্গে আমি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিলাম, বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যা কিছু দরকার, তা করা হবে। মন্ত্রী গেলেন, আলোচনায় বসলেন। একটা সমঝোতা হলো। তাদের বলা হলো, কীভাবে কী করা হবে, দেখা হচ্ছে। জনপ্রশাসন সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা বলেও দিলেন, আমি এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছি। কিন্তু কেউ কেউ মানলো না। তারা সারারাত টিএসসিতে থেকে গেলো। আলোচনা হচ্ছে, কথা হচ্ছে; কিন্তু এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কী যৌক্তিকতা থাকতে পারে! ক্যাম্পাসে আগুন দেওয়া, ভিসির বাড়ি ভাঙচুর করা, চারুকলায় মঙ্গল শোভাযাত্রার জিনিসপত্রগুলো পুড়িয়ে দেওয়া— এগুলোর কী যৌক্তিকতা থাকতে পারে?’


জাতীয় সংসদে বুধবারের (১১ এপ্রিল) অধিবেশন শুরু হয় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকাল ৫টায় অধিবেশন শুরু হয়।

/টিআর/জেএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
খলিলুর রহমানকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন
খলিলুর রহমানকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
জনআস্থা ও জবাবদিহিমূলক সংসদ গঠনে সাংবিধানিক জ্ঞান জরুরি: ডেপুটি স্পিকার
জনআস্থা ও জবাবদিহিমূলক সংসদ গঠনে সাংবিধানিক জ্ঞান জরুরি: ডেপুটি স্পিকার
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী