বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টে সফল বিএসএমএমইউ, চিকিৎসা সম্ভব ৩ থেকে ৫ লাখ টাকায়

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১০:৫৩, এপ্রিল ১৯, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:০৭, এপ্রিল ১৯, ২০১৮

বিএসএমএমইউপ্রথমবারের মতো এক নারীর দেহে বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) হেমাটোলজি বিভাগের চিকিৎসকেরা। গত ১ এপ্রিল  ইফতে আরা (৪৮) নামের ওই রোগীর দেহে বোনম্যারো  ট্রান্সপ্লান্ট (অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন) করা হয় এবং বুধবার (১৮ এপ্রিল) তিনি চিকিৎসকদের ছাড়পত্র নিয়ে নিজ গ্রামে ফিরে গেছেন। ভবিষ্যতে অনেক কম খরচে, তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকার মধ্যেই বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা।  

রংপুর জেলার চিলমারি উপজেলার বাসিন্দা ইফতে আরা মাল্টিপল মায়োলামা নামক রক্তের বিশেষ এই প্লাজমা ক্যান্সারে ভুগছিলেন।

প্রথমবারের মতো নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ে বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করতে পারা এবং এরপর রোগীর শারীরিক সুস্থতায় চিকিৎসকদের মধ্যে উচ্ছাস ছড়িয়ে পড়েছে।  নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন চিকিৎসক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এর আগে আমরা আমাদের ডিপার্টমেন্ট থেকে রোগীদের শুধু কেমোথেরাপি দিতে পারতাম। এখন এর নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। আমাদের দেশের বেশিরভাগ রোগীই বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের জন্য বিদেশে চলে যায়। তাদের বিদেশে যাওয়ার কারণে ২৫-৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। পাশের দেশ ভারতে ১৫-২০ লাখের কমে এই চিকিৎসা সম্ভব হয় না। কিন্তু আমাদের এখানে সেই ব্যয় প্রায় ৩/৪ ভাগ কমে আসবে। ৩- ৫ লাখ টাকার মধ্যেই করা সম্ভব হবে।’

চিকিৎসকরা আরও বলেন, ‘আমরা এই কাজের জন্য কোনও ফান্ড পাইনি। আমরা সেলফ জেনারেটেড মানি দিয়েই এই চিকিৎসা শুরু করলাম। আমাদের কাছে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ট্রিটমেন্ট শুরু করতে পারাটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য।’

ইফতে আরার চিকিৎসা প্রসঙ্গে হেমাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক ডা. মাসুদা বেগম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটা আসলে একটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। ১ এপ্রিল আমরা বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করি। এটি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো করা হলো। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি কম খরচে  বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টটি করার। তিনি আমাদের প্রথম রোগী হওয়ার কারণে আমরা রোগীর কাছ থেকে সরাসরি কোনও অর্থ নেইনি। যতদূর পেরেছি বলেছি  এই জিনিসগুলো লাগবে, রোগীর জন্য নিয়ে আসুন।’

তিনি বলেন, ‘রোগী বুধবার বাড়ি ফিরে গেছেন। রোগীকে আমাদের কাছে ১৫ দিন, ১ মাস পর পর কিছুদিন ফলোয়াপে আসতে হবে। আমরা তাকে সেভাবেই নির্দেশনা দিয়েছি। এরপর আর ঘন ঘন আসা লাগবে না।’

এই চিকিৎসক আরও বলেন, ‘আমাদের এখানে আরও রোগী ভর্তি আছেন। ভর্তি রোগীদের আমরা সিরিয়াল করছি। সব রোগীর তো করা যায় না। যাদের শরীরের অবস্থা ভালো থাকবে তাদের আমরা ট্রান্সপ্লান্ট করবো।’

ইফতে আরার চিকিৎসা টিমের প্রধান ছিলেন হেমাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মাসুদা বেগম। এছাড়া তার সঙ্গে ছিলেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. সালাহউদ্দীন শাহ্, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুজ্জামান খান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. মুজাহিদা বেগম।

 

/টিওয়াই/এফএস/চেক-এমওএফ/

লাইভ

টপ