রাখাইনে রোহিঙ্গাবিরোধী মনোভাব দূর করার আহ্বান বাংলাদেশের

Send
শেখ শাহরিয়ার জামান
প্রকাশিত : ০০:৪০, মে ১৮, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:০১, মে ১৮, ২০১৮

 রোহিঙ্গা ও মুসলিমবিরোধী প্রচারণা, স্থানীয় রাজনীতিবিদদের নেতিবাচক মনোভাব এবং স্থানীয় জনগণের আগ্রাসী কর্মকাণ্ডকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (১৭ মে) রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত দ্বিতীয় যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে বাংলাদেশ এ বিষয়টি মিয়ানমারকে জানিয়েছে।

বৈঠকে পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন এবং মিয়ানমারের পক্ষে নেতৃত্ব দেন তাদের পার্মানেন্ট সেক্রেটারি মিন্ট থো। বৈঠকে উপস্থিত একজন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা তাদের বলেছি রোহিঙ্গারাও মানুষ এবং তাদের ফেরত যাওয়ার সিদ্ধান্তটা তাদের কাছে অনেক বড়। এ সিদ্ধান্তটি নেওয়ার জন্য রাখাইনে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করার জন্য আমরা মিয়ানমারকে বলেছি।

গত ২৫ আগস্টের পর থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনে রাখাইন ছেড়ে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

রোহিঙ্গাবিরোধী প্রচারণা

ওই কর্মকর্তা বলেন, আমরা বৈঠকে বলেছি রাখাইনে ব্যাপক আকারে রোহিঙ্গা ও মুসলিমবিরোধী প্রচারণা চলছে। এটি ডিটারেন্ট ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করছে। ‘রোহিঙ্গাদের বিতাড়ন করো, তারা বৌদ্ধদের জন্য ঝুঁকি, তারা মিয়ানমারের বাইরে থেকে এসেছে’–এ ধরনের বার্তা এই প্রচারণার মূল ফোকাস। রোহিঙ্গাদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার জন্য এসব বন্ধ করতে হবে ।

রাখাইনের রাজনীতিবিদ

রাখাইনের রাজনীতিবিদরা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিরোধী। বিষয়টি বৈঠকে আলোচিত হয়েছে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, এমনকি স্থানীয় সংসদে মংদুতে কোনও রোহিঙ্গা বাস করতে পারবে না এ ধরনের একটি বিলও প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া, অনেকের দাবি হচ্ছে, কোনও কোনও এলাকায় মুসলমানরা থাকতে পারবে না।

স্থানীয় জনগণের মনোভাব

ওই কর্মকর্তা বলেন, স্থানীয় জনগণ প্রত্যক্ষভাবে মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে রোহিঙ্গা বিতাড়নে সহায়তা করেছে, যাতে তারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। তিনি বলেন, প্রতিবেশী যদি বিরূপ আচরণ করে, তবে সেখানে যে কারও জন্য অবস্থানের করা দুষ্কর।

সেটেলমেন্ট পরিকল্পনা

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য সেটেলমেন্ট প্ল্যান কী তা মিয়ানমারের কাছে জানতে চাওয়া হয়। ওই কর্মকর্তা বলেন, এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে রোহিঙ্গারা দীর্ঘদিন ট্রানজিট ক্যাম্পে অবস্থান করতে চায় না। এজন্য তাদের ঘরবাড়ি তৈরি থাকতে হবে।

মিয়ানমার নতুন করে কিছু গ্রাম তৈরি করছে কিন্তু সেগুলো পুরনো গ্রামগুলোর কাছে নয়। ফলে রোহিঙ্গাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

এদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ন্যাশনাল ভেরিফিকিশেন কার্ডের বিষয়ে বাংলাদেশ মিয়ানমারের কাছে জানতে চেয়েছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, আমরা তাদের কাছ থেকে তথ্য পেলে রোহিঙ্গাদের এ বিষয়ে জানাবো।

/এসএসজেড/এএম/চেক-এমওএফ/

লাইভ

টপ