‘ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে সমস্যা তৈরি করতে চেয়েছিলেন লর্ড কার্লাইল’

Send
রঞ্জন বসু, দিল্লি
প্রকাশিত : ২১:২৬, জুলাই ১২, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৪৯, জুলাই ১২, ২০১৮

লর্ড কার্লাইল (ছবি- সংগৃহীত)লর্ড কার্লাইলের ভারত সফর শেষ পর্যন্ত হলোই না এবং তা না হওয়ার পেছনে মূলত বাংলাদেশ-ভারত সুসম্পর্ককেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে দিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রও সেরকমই আভাস দিচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমারের কথায়, ‘আমি যেটা বুঝতে পারছি, তা হলো প্রথমত তিনি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে, অর্থাৎ আমাদের সম্পর্কের মধ্যে একটা সমস্যা তৈরি করতে চেষ্টা করছিলেন। আর দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের বিরোধী দল আর ভারতের মধ্যেও একটা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করতে চাইছিলেন।

এদিকে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার ব্রিটিশ আইনজীবী লর্ড কার্লাইলকে বুধবার (১১ জুলাই) গভীর রাতে দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার পর তিনি অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশ সরকারের চাপেই দিল্লি এই পদক্ষেপ নিয়েছে এবং এ জন্য তাদের ‘লজ্জিত হওয়া উচিত’।

বৃহস্পতিবার (১২ জুলাই) সকালে লন্ডন ফিরে গিয়ে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে দিল্লির লা মেরিডিয়ান হোটেলে উপস্থিত স্থানীয় মিডিয়ার প্রতিনিধিদের সামনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা কেন তার ভাষায় সাজানো ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূর্ণ, সেটা ব্যাখ্যা করতেই পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী লর্ড কার্লাইল দিল্লি বিমানবন্দরে এসে নামেন বুধবার গভীর রাতে। কিন্তু ভারতীয় ইমিগ্রেশন তাকে সরাসরি জানিয়ে দেয়, তাকে ভারতে ঢুকতে দেওয়া যাবে না।

দিল্লির লা মেরিডিয়ান হোটেলবৃহস্পতিবার সকালে লন্ডনে ফিরে গিয়ে স্কাইপ কলের মাধ্যমে লর্ড কার্লাইল দিল্লির সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি যখন দিল্লিতে নেমে আমার ফোন সুইচ অন করলাম, দেখি আমার ভিসা বাতিল করা হচ্ছে বলে আমাকে মেসেজ পাঠানো হয়েছে। সত্যি কথা বলতে কী, ইমিগ্রেশনের কর্মীরা খুবই ভদ্র ও বিনীত ছিলেন। কিন্তু ভারতের কাছে সত্যিকারের কোনও জবাবই ছিল না যে, কেন আমাকে ঢুকতে দেওয়া যাবে না!’
তিনি জানান, এর কিছুক্ষণ পরই তাকে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের লন্ডনগামী ফিরতি বিমানে উঠিয়ে দেওয়া হয়।

গভীর রাতে তিনি দিল্লিতে ব্রিটিশ ডেপুটি হাই কমিশনারকেও ফোন করেছিলেন, যাতে তিনি ভারতে ঢুকতে পারেন। কিন্তু তাতেও কোনও লাভ হয়নি।

পরে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তিনি ভিসার আবেদনে সত্যি কথা বলেননি বলেই সেটা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমার বৃহস্পতিবার বিকালে বলেন, ‘কেন তাকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি তার সহজ উত্তরটা হলো— তার কাছে সঠিক, বৈধ ভিসা ছিল না। তার ভিসার আবেদনপত্রেও অসঙ্গতি ছিল।’

দিল্লির লা মেরিডিয়ান হোটেল‘ওই ফর্মে যে কথা লেখা ছিল, আর তার সফরের আসল উদ্দেশ্য মোটেও এক ছিল না— আর তিনি আসলে কী জন্য ভারতে আসছেন, সেটা প্রথম থেকেই ছিল একেবারে পরিষ্কার।’

কিন্তু লর্ড কার্লাইল নিজে মনে করছেন, তাকে যাতে ঢুকতে না-দেওয়া হয়, সে জন্য  ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছিল বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, ‘আমাকে আটকাতে বাংলাদেশ সরকার তীব্র রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করেছে। এমন কী তারা ঢাকায় নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত ভারতীয় হাই কমিশনারকে তলব করেও বলেছে— ভারত সরকার যেন আমাকে দিল্লিতে ঢুকতে না দেয়।’

‘ভারতও অদ্ভুতভাবে সেই দাবি মেনে নিয়েছে ও নির্বিকারভাবে মিথ্যা কথা বলে যাচ্ছে। যেভাবে একজন ব্রিটিশ কিউসি ও হাউস অব লর্ডসের সদস্যকে তারা ভারতে ঢুকতে দিলো না, সে জন্য তাদের চরম লজ্জিত হওয়া উচিত।’, বলেন কার্লাইল।

এদিকে, অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে ভারত এদিন আরও  দাবি করেছে— বিএনপি ও ভারতের মধ্যেকার সম্পর্কেও লর্ড কার্লাইল কোনও ‘ভুলবোঝাবুঝি’ তৈরি করতে পারবেন না।

লর্ড কার্লাইলের ভারত সফরের পরিকল্পনা নিয়ে বিএনপির নেতৃত্বের মধ্যেও যে একটা মতবিরোধ আছে, সম্ভবত সেদিকে ইঙ্গিত করেই ভারত এ মন্তব্য করেছে।

ভারত আরও মনে করিয়ে দিয়েছে, তাদের প্রধানমন্ত্রী বা পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যখনই সাম্প্রতিক অতীতে ঢাকা সফরে গিয়েছেন, বিরোধী দল বিএনপির নেতৃত্বের সঙ্গেও তারা নিয়ম করে দেখা করেছেন। লর্ড কার্লাইল সেই সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারবেন না বলেও দাবি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:ভিসা বাতিল অযৌক্তিক: লর্ড কার্লাইল

/এপিএইচ/

লাইভ

টপ