ভোট গণনা চলছে

Send
বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৬:০২, জুলাই ৩০, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৪২, জুলাই ৩০, ২০১৮

রাজশাহীতে ভোট গণনা শুরুর পূর্ব মুহুর্ত (ছবি: দুলাল আব্দুল্লাহ, রাজশাহী প্রতিনিধি)


ভোট বর্জন ও বাতিলের দাবি এবং বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে তিন সিটিতে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকাল চারটায় শেষ হয়। এখন চলছে ভোট গণনা।

সোমবার (৩০ জুলাই) অনুষ্ঠিত সিলেট, বরিশাল ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সকালের দিকে ভোটারদের উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে  তাদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সেইসঙ্গে বিভিন্ন কেন্দ্রে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। তিন সিটিতে বিএনপিসহ একাধিক মেয়র প্রার্থী তাদের এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। বরিশালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ছাড়া অন্য মেয়র প্রার্থীরা ভোট বর্জন ও স্থগিতের দাবি জানান। সিলেটে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থী ভোট বাতিলের দাবি জানান। রাজশাহীতে বিএনপির পোলিং এজেন্টদের ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগে দলটির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল কেন্দ্রে অবস্থান নেন।

বরিশালে ভোট বর্জন

বরিশালে জাতীয় পার্টির (জাপা) মেয়র প্রার্থী মো. ইকবাল হোসেন ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তী ভোট গ্রহণ স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন। দুপুর পৌনে একটার দিকে জাতীয় পার্টির ও সোয়া একটার দিকে বাসদের প্রার্থী রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর এই আবেদন করেন। বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মেয়র প্রার্থী আবুল কালাম দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জন করেছেন। এর আগে বরিশালে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরওয়ার সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ওবায়দুর রহমানও অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

বরিশালের একটি কেন্দ্রে ভোট গণনা চলছে। (ছবি: জহিরুল ইসলাম, মাদারীপুর)

বাসদ প্রার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ

বরিশাল সিটিতে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) মেয়র প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তীর ওপর হামলার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘সদর গার্লস স্কুল কেন্দ্রে এসে আমরা দেখলাম যে— সব ব্যালটে মেয়র প্রার্থীর পক্ষে নৌকায় সিল দেওয়া। আমরা যখন প্রিজাইডিং অফিসারকে জানালাম উনি কিছু করলেন না। উনি বসে থাকলেন। তারপরে যখন আমরা ব্যালট পেপারটা দেখতে গেলাম, তখন আওয়ামী লীগের ব্যাজ পরা দুজন আমাকে ধাক্কা মেরে পেছন থেকে প্রচণ্ডভাবে আঘাত করে এবং আমার হাত থেকে ব্যালট নিয়ে ছিঁড়ে ফেলে। একজন লাল পাঞ্জাবি এবং আরেকজন নীল শার্ট পরা ছিল। আমার কাছে তাদের ছবিও আছে। আমার নখ পর্যন্ত ভেঙে গেছে। একজন মেয়র ক্যান্ডিডেটকে যদি তারা এভাবে আঘাত করে, তাহলে তারা নিজেদের কোথায় চিন্তা করছে। তাহলে তো এই নির্বাচন করার আর কোনও অর্থ থাকে না।’

সিলেটের একটি কেন্দ্রে ভোট গণনা শুরু। (ছবি: তুহিনুল হক, সিলেট প্রতিনিধি)

রাজশাহীতে বুলবুলের অবস্থান

এদিকে, রাজশাহীতে ভোট শুরুর আগেই বিএনপির পোলিং এজেন্টদের ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগে মহানগরীর বিনোদপুর ইসলামিয়া কলেজে অবস্থান নেন মেয়র প্রার্থী বুলবুল। সোমবার (৩০ জুলাই) সকাল আটটার দিকে নগরীর স্যাটেলাইট কেন্দ্রে তার ভোট দেওয়ার কথা ছিল। তবে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত তিনি একই স্থানে অবস্থান নেন। তিনি এই কেন্দ্রে ব্যালটের হিসাব দাবি করেছেন।

এছাড়া, বিনোদপুর এলাকার মন্দরপাড়া মোড়ে ইসলামীয়া কলেজ কেন্দ্রে সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠে। ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে সকাল থেকে মাঠে দেখা মেলেনি বিএনপি নেতাকর্মীদের। কেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের সহায়তায় বিএনপি প্রার্থীর কোনও ভোটার নম্বর স্লিপ সরবরাহ বা বুথও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে মোড়ে-মোড়ে আওয়ামী লীগ সমর্থকদেরকে দল বেঁধে মহড়া দিতে দেখা গেছে।

সিলেটে বিএনপি ও জামায়াতের নির্বাচন বাতিলের দাবি 

সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) ১৩৪টি কেন্দ্রের মধ্যে অধিকাংশ কেন্দ্রেই নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যণীয়। আগেভাগে ভোট দেওয়ার জন্য সকাল আটটা থেকে তারা লাইনে দাঁড়িয়ে যান। 

মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় ভোট জালিয়াতি, ভোটকেন্দ্র দখলসহ নানা বিষয়ে অভিযোগ তুলে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে গিয়ে সোমবার দুপুরে তিনি এই দাবি করেন।

ভোট শেষে শুরু হয়েছে গণনা। সিলেটের একটি কেন্দ্রের ছবি।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘সিলেটের অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোট ডাকাতি করেছে আওয়ামী লীগ। তারপরও নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নীরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের অফিসকে জানিয়েছি— সকাল থেকে ১৯, ২০ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডসহ আরও কয়েকটি কেন্দ্রে আমার ধানের শীষের এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এছাড়া, জাতীয় পার্টির এমপি ইয়াহিয়া চৌধুরী এহিয়া, বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা সাধারণ ভোটারদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে ব্যালেটে সিল দিয়ে বাক্সে ভরে রাখে। এই নির্বাচন বাতিল করে সিলেট সিটি করপোরেশনে পুনরায়  নির্বাচন দেওয়ার দাবি নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি।’

ভোট বাতিলের দাবি জামায়াত প্রার্থীরও

দুপুর আড়াইটায় সিলেট নগরের সাপ্লাই এলাকায় প্রধান নির্বাচনি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ভোট বাতিলের দাবি জানান। শিবিরের এক নেতার পায়ে গুলি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জামায়াতের এই নেতা অভিযোগ করেন, ‘সিলেটে নির্বাচনের নামে  ভোট ডাকাতির উৎসব হয়েছে।’ তিনি বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ভোটারদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে জাল ভোট দিয়ে ব্যালট বাক্সে ভরে রাখে। অথচ শতাধিক পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল। এসব অভিযোগ নির্বাচন কমিশনকে মৌখিকভাবে জানিয়ে লাভ হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘নগরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বখতিয়ার বিবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আমাদের এজেন্টদের ওপর হামলা চালায় নৌকা প্রতীকের নেতাকর্মীরা। এসময় তারা আমাদের শিবির নেতা আব্দুল মুক্তাদির ফাহাদের ডান পায়ের হাঁটুর নিচে গুলি করে। এছাড়া ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে ঝেরঝেরি পাড়ায় রায়নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাতীয় পার্টির এমপি ইয়াহিয়া চৌধুরীর নেতৃত্বে কেন্দ্রে ককটেল হামলা ও কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে জাল ভোট দেওয়া হয়।’

তিনি আরও জানান, ‘সিলেট নগরের অধিকাংশ কেন্দ্রে যখন আমরা পরিদর্শনে যাই, তখন ভোটাররা আমাদের জানিয়েছেন— ভোট দিতে গেলে তাদের জানানো হয়েছে যে, মেয়র প্রার্থীদের ব্যালট পেপার শেষ হয়ে গেছে। এছাড়া,  নগরের ৮, ২১, ২৪, ২০, ১১, ১৩, ১৫, ২১, ২৪, ২৯, ৭, ২৬, ২৭ ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের শতাধিক কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে জাল ভোট দিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।’

তিনি বলেন, ‘কমপক্ষে ৫০টি কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জাল ভোটের মহোৎসব করেছে। একটি কেন্দ্রে জামায়াতের দলীয় নেতাকর্মীরা বাধা দিতে গেলে পুলিশ তাদের ওপর গুলিবর্ষণ করে।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘পুলিশ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নীরব ভূমিকা পালন করেছে। আমাদের স্বপ্ন ছিল— প্রশাসন একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করবে। কিন্তু আমাদের সেই স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই রয়ে গেল। আমাদের অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হবে।’

এছাড়া, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের সিলেট রেলওয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ব্যালট পেপার ছিনতাই ও জাল ভোট দেওয়ায় চার জনকে আটক করা হয়। সিলেট নগরীর পাঠানটুলা এলাকায় শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল (এমএ) মাদ্রাসা কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে কিছু সময় ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল। পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী রিমাদ আহমদ রুবেলের নেতৃত্বে প্রায় শতাধিক লোক খাসদবীর সরকারি প্রাথমিক স্কুলের ভোটকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া, নগরীর টিলাগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ছাত্রলীগের কর্মীদের বিরুদ্ধে জোর করে ব্যালটে সিল মারার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বেলা একটায় নগরীর পাঠানটুলা এলাকার শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা পশ্চিম কেন্দ্রে ব্যালট সংকটের কারণে ৩০ জন ভোটার ভোট দিতে পারেননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে প্রিজাইডিং অফিসারের দাবি, কেন্দ্রে সংঘর্ষের কারণে ভোটগ্রহণ করা হয়নি।

 

/এনআই/ এপিএইচ/

লাইভ

টপ