মিয়ানমারের অসততায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবসন প্রক্রিয়া জটিল হচ্ছে

শেখ শাহরিয়ার জামান
২১ আগস্ট ২০১৮, ১৯:৩৮আপডেট : ২১ আগস্ট ২০১৮, ১৯:৩৯

রোহিঙ্গা (ছবি: সংগৃহীত)

রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ উপায় খুঁজে বের করার চেষ্টা করলেও মিয়ানমারের অসততার কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া জটিল হচ্ছে। এ অভিমত দিয়েছেন রোহিঙ্গা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

গত এক বছরে সাত লাখ রোহিঙ্গা রাখাইন থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগে থেকে আও চার লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ছিল।

সরকারের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “প্রথমে মিয়ানমার অপপ্রচার চালাতো রোহিঙ্গারা বাঙালি, তারা বাংলাদেশ থেকে এসেছে। এরপর তারা নেতিবাচক প্রচারণা চালানো শুরু করলো সব রোহিঙ্গাই সন্ত্রাসী এবং এখন তারা বলছে, গত বছরের ২৫ আগস্টের পর রাখাইনে নির্যাতন সংক্রান্ত সব খবর ‘ফেক’।”

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের একটি জাতির সঙ্গে দর-কষাকষি করা কতটা কঠিন, এই বিষয় থেকে আন্দাজ করা যায়।’

মিয়ানমারের ভিন্নমতাবলম্বী রাজনীতিক মং জার্নি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাংলাদেশসহ সবাই এখন বুঝতে পেরেছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মিয়ানমার দ্ব্যর্থহীনভাবে অসৎ।’

তিনি বলেন, প্রত্যাবাসনের কথা বলে তারা যে গণহত্যা চালিয়েছে এবং গত ৪০ বছর ধরে রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে সেটিকে তারা অস্বীকার করতে চায় এবং অন্যদের মনোযোগ সরিয়ে নিতে চায়।

মং জার্নি বলেন, ১৯৭৮ থেকে তারা (মিয়ানমার) সহিংস নির্যাতন এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার একটি চক্র পরিচালিত করছে।
এখানে উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালে রোহিঙ্গারা প্রথম বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এরপর ১৯৯২ সালে আরেকবার এবং ২০১২ ও ২০১৬ সালে আবারও সহিংসতা থেকে বাঁচতে তারা বাংলাদেশে আশ্রয়ের জন্য ছুটে আসে।

মং জার্নি বলেন,‘হিটলারের সময়ে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল যে ইহুদিরা নাজিদের দখলে থাকা পূর্ব ইউরোপের দেশগুলিতে সুখে-শান্তিতে আছে।’

মিয়ানমারে বাংলাদেশের সাবেক ডিফেন্স অ্যাটাশে মোহাম্মাদ শহীদুল হক বলেন, ‘কয়েক দিন আগে মিয়ানমার সরকার একটি বই প্রকাশ করেছে যেখানে বলা হয়েছে রাখাইন নিয়ে সকল খবর ‘ফেক নিউজ’।”

তিনি বলেন, ‘তারা দীর্ঘদিন মিলিটারি শাসকদের রক্ষা করার জন্য মিথ্যা কথা বলেছে এবং সেই ধারাবাহিকতা সু চির সরকারের সময়েও আছে।’

নিজের অভিজ্ঞতা থেকে শহীদুল হক বলেন, ‘তারা এমন বলেছে রাখাইনে মুসলিমরা হিন্দুদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালিয়েছে।’

সরকারের আরেকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা সম্প্রতি রাখাইন পরিদর্শনে গিয়েছিলাম।
সেখানে আমরা হেলিকপ্টারে করে গিয়েছি এবং নিচে অনেক গ্রাম দেখেছি যেগুলো পুড়ে গেছে।’

তিনি বলেন, “আমরা তাদের জিজ্ঞাসা করলাম গ্রামগুলো কীভাবে পুড়ে গেছে এবং তাদের সবার কাছে উত্তর তৈরি ছিল, সেটি হচ্ছে ‘অ্যাক্সিডেন্টাল ফায়ার’। পরে তারা আমাদের বলেছে, রোহিঙ্গারা নিজেরাই তাদের গ্রামে আগুন দিয়েছে।”

/এইচআই/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ঘাটতি ও ঋণনির্ভর বাজেট অর্থনীতিকে আরও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে: এবি পার্টি
ঘাটতি ও ঋণনির্ভর বাজেট অর্থনীতিকে আরও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে: এবি পার্টি
বাজেটে শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব, বাড়তে পারে বাইসাইকেলের দাম
বাজেটে শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব, বাড়তে পারে বাইসাইকেলের দাম
দাম বাড়বে আমদানি করা পাঙাশ মাছের ফিলে
দাম বাড়বে আমদানি করা পাঙাশ মাছের ফিলে
কার্যত বন্ধ হরমুজ প্রণালি কেন ‘সম্পূর্ণ’ বন্ধের ঘোষণা দিলো ইরান
কী, কেন, কীভাবেকার্যত বন্ধ হরমুজ প্রণালি কেন ‘সম্পূর্ণ’ বন্ধের ঘোষণা দিলো ইরান
সর্বাধিক পঠিত
সীমান্তে আটকে থাকা বৃদ্ধের আছে আইডি কার্ড, চিনতে পেরেছে পরিবার
সীমান্তে আটকে থাকা বৃদ্ধের আছে আইডি কার্ড, চিনতে পেরেছে পরিবার
১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল, কার কত বেতন
১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল, কার কত বেতন
বিএসএফের পুশইনের পর সীমান্তে আটকে থাকা বৃদ্ধের পরিচয় মিলেছে
বিএসএফের পুশইনের পর সীমান্তে আটকে থাকা বৃদ্ধের পরিচয় মিলেছে
পেনশনের ৩০ শতাংশ গ্র্যাচুয়িটি পাবেন বেসরকারি চাকরিজীবীরা
পেনশনের ৩০ শতাংশ গ্র্যাচুয়িটি পাবেন বেসরকারি চাকরিজীবীরা
দেশে ফের ভূমিকম্প অনুভূত
দেশে ফের ভূমিকম্প অনুভূত