রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনকারী মিয়ানমার মিলিটারিদের বিচারের দাবি দিন দিন জোরালো হচ্ছে। বিভিন্ন দেশ, আন্তর্জাতিক সংস্থা, আইনপ্রণেতা, মানবাধিকারকর্মী ও সুশীল সমাজ তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবি জানাচ্ছে।
গত এক বছরে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নির্যাতন-নিপীড়নে আনুমানিক ২৫ হাজার রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। এ ছাড়া ৩৬ হাজার জনকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ৩৬ হাজার অনাথ রোহিঙ্গা শিশু কক্সবাজারে পালিয়ে এসেছে। ৬০ হাজার রোহিঙ্গা নারী অন্তঃসত্ত্বা, যাদের অধিকাংশ ধর্ষণের শিকার।
সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা বিষয়টি সম্পূর্ণ ওয়াহিবহাল এবং আমরা বিচারের দাবি সমর্থন করি। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে (আইসিসি) আমরা জানিয়ে দিয়েছি যে তারা যদি এই বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে তবে আমরা সর্বাত্মক সহায়তা দেবো।’
তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার আইসিসির সদস্য না হলেও বাংলাদেশ মনে করে এই কোর্ট তাদের বিচার করার অধিকার রাখে এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিস্তারিত মতামত দিয়েছে। আমরা আশা করি, কোর্ট এই বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করবে।’
আসিয়ানের ১৩২ জন আইনপ্রণেতা বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের বিচার দাবি জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের দাবি জোরালো হচ্ছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে সরকারের এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘এটি কয়েকজন ব্যক্তি ও মিলিটারি ইউনিটের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যা উৎসাহব্যঞ্জক।’
সরকারেরর আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘জাতিসংঘের অধীনে বাংলাদেশ আরেকটি মেকানিজম তৈরি করার চেষ্টা করছে যা রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিভিন্ন ধরনের প্রমাণ সংগ্রহ করবে।’
তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের অধীনে এই ধরনের একটি মেকানিজম সিরিয়াতে যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তার প্রমাণ সংগ্রহ করছে। আমরা দুটি প্রভাবশালী দেশের সঙ্গে কাজ করছি মিয়ানমার সংক্রান্ত একটি মেকানিজম প্রতিষ্ঠা করার।’
এই মেকানিজম শুধুমাত্র প্রমাণ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করবে এবং ভবিষ্যতে বিচারিক প্রক্রিয়ায় এই প্রমাণ জাতিসংঘের পক্ষ থেকে উপস্থাপন করা হবে বলে তিনি জানান।








