হইচই করা বিএনপির বদ অভ্যাসে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশে যখন নির্বাচন আসে এবং বড় কোনও অপরাধের সাজা দেওয়ার সময় আসে তখন কিছু আলোচনা-সমালোচনা হয়। বিএনপি এই সময় হইচই করে। আমরা তা দেখেছি একাত্তরের ঘাতকদের বিচারের সময়। তাদের এই হইচইয়ের আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে অপরাধ আড়াল করা এবং অপরাধীদের নিরপরাধ সাজানোর অপচেষ্টা। হইচই করা বিএনপির বদ অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শেখ হাসিনা সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত। এই জঘন্য হত্যাচেষ্টার ঘটনায় যখন সাজা দেওয়ার সময় হয়েছে তখনই তারা এই হইচই শুরু করেছে।’
রবিবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে নিজ দফতরের কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
তিনি বলেন, ‘গ্রেনেড হামলার বিচার চাওয়াকে বিএনপি বলছে, এটি নাকি আদালতে হস্তক্ষেপের শামিল। কিন্তু এটি আসলে আদালতে হস্তক্ষেপ নয়। কারণ, যেকোনও জঘন্য অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি চাওয়া জনগণের মৌলিক অধিকার। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সময়েও জনগণ রাস্তায় নেমেছিল। তাতে আদালতে হস্তক্ষেপ হয়নি। বরং চুরির অপরাধে সাজা হওয়া খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে চলমান আদালতের সামনে হট্টগোল করাই আদালত অবমাননার শামিল, হস্তক্ষেপেরও শামিল। বিএনপি নেতারা টাকা চুরির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়াকে নিরপরাধ এবং ফেরেশতা বানাতে অপরাধ আড়াল করার জন্য হইচই করছে। আমি শুনেছি, খালেদা জিয়া কারাগারে বসে আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছেন। জনগণকে আমি সতর্ক থাকতে বলছি এই জন্যে যে খালেদা জিয়া ফেরেশতাও নন, গণতন্ত্রের মাতাও নন। খালেদা জিয়া জঙ্গি-সন্ত্রাসের আসল মাতা। বিএনপি নেতাকর্মীরা তাকে গণতন্ত্রের মাতা বলে অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করছেন।’
আসন্ন নির্বাচনের ব্যাপারে ড. কামাল হোসেনের প্রস্তাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যেকোনও নাগরিক নির্বাচন সুষ্ঠু করার ব্যাপারে পরামর্শ দিতে পারেন। সেটি বিবেচনা করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনারের।’
রাজনীতিবিদদের ঈদ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সাধারণ মানুষ ঈদের আনন্দ করেছে। তবে রাজনীতিবিদরা রাজনীতি নিয়েই ছিলেন। ঈদের সময় তারা রাজনীতি করেছেন। বিশেষ করে বিরোধী গোষ্ঠী। সাধারণ নির্বাচন, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় নিয়ে তির্যক মন্তব্য করেছে বিএনপি।’
ঈদ প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি তিন দিন গ্রামে ছিলাম। নির্বিঘ্নে কাটিয়েছি। যাওয়া-আসার সময় কোথাও কোনও চাপ পাইনি। স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কথা বলেছি। সম্প্রতি কোটা আন্দোলনকারী এবং ছোট ছোট সোনামনিদের নিরাপদ সড়কের দাবিতে যে আন্দোলন, এগুলো নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে তেমন একটা আলোচনা নেই। তবে কুষ্টিয়া যেহেতু গরু উৎপাদনের অঞ্চল, তাই খামারিদের সঙ্গে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। তারা অনেক অবিক্রীত গরু ফেরত নিয়ে গেছেন। তাদের কান্না দেখেছি। কয়েকটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। কিছু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। কয়েকটি ঘটনা ছাড়া সবাই নির্বিঘ্নে গ্রামে গেছে এবং ফেরত আসছে। মারামারি-হানাহানির কোনও খবর মিডিয়ায় আসেনি। ঈদের জামাত নিয়ে আগে যে শঙ্কা ছিল, সেই আশঙ্কাও এবার ছিল না। শেখ হাসিনা সরকারের জন্য ঈদের জামাতগুলো শান্তিপূর্ণ হচ্ছে। এর দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে সরকার জঙ্গি ও সন্ত্রাস মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে।’
নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রসঙ্গে হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আমি যে চিঠি লিখেছি তার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অবশ্য এরই মধ্যে ঈদুল আজহার ছুটি হয়ে গেছে। আজ অফিস খুলেছে। আমি আমার তদবির অব্যাহত রেখেছি। আশা করছি হামলাকারীরা ধরা পড়বে।’








