কোটা সংস্কার রিপোর্ট পর্যালোচনা করছে সচিব কমিটি

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৬ আগস্ট ২০১৮, ১৮:১২আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০১৮, ২০:২২

কোটা সংস্কার রিপোর্ট পর্যালোচনা করছে সচিব কমিটি সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার বা বাতিল সংক্রান্ত বিষয়ে দেশ-বিদেশের আরও রিপোর্ট পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল হওয়ায় কমিটি রিপোর্টগুলো অধিকতর পর্যালোচনা করছে। এরপরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। রবিবার (২৬ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের কক্ষে কোটা পর্যালোচনা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (বিধি) ও কমিটির মুখপাত্র আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন।

যুগ্ম সচিব জানান, আমরা কংক্রিট কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। কাজটি দ্রুত শেষ করতেই আমরা পরপর কয়েকটি বৈঠক করেছি। অ্যাটর্নি জেনারেলের রিপোর্ট পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে মুখপাত্র বলেন, সবকিছু তো পাইনি। যা পেয়েছি, তাই পর্যালোচনা করছি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ কিছুই হয়নি। আমরা আলোচনা করছি। একটু সময় লাগবে।’ অন্যদিকে কমিটির সদস্য ও সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সচিব আকতারী মমতাজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।’

জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘সময় লাগবে। অনেকদিক বিচেনায় আনতে হচ্ছে। ধৈর্য ধরুন।’

প্রসঙ্গত, গত ১৩ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম বলেছিলেন, ‘কোটা নিয়ে সুপারিশ প্রায় চূড়ান্ত। আমরা মেধাকে প্রাধান্য দিয়ে কোটা উঠিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করব। তবে আদালতের একটা রায় রয়েছে, মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা সংরক্ষণ করতে হবে। এ ব্যাপারে আদালতের অভিমত চাইবো। আদালতের অভিমতের আলোকেই এ সংক্রান্ত সুপারিশ থাকবে।

উল্লেখ্য, কোটা সংস্কার ইস্যুতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২ জুলাই কোটা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে তা সংস্কার বা বাতিলের বিষয়ে সুপারিশ দিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করে সরকার। কমিটিকে ১৫ কর্ম দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। ৮ জুলাই প্রথম সভা করে কমিটি। পরে কমিটির মেয়াদ আরও ৯০ কার্যদিবস (৩ মাস) বাড়ানো হয়।

বর্তমানে সরকারি চাকরিতে সংরক্ষিত কোটা ৫৬ শতাংশ। বাকি ৪৪ শতাংশ নেওয়া হয় মেধার ভিত্তিতে। বিসিএসে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৩০, জেলা কোটায় ১০, নারী কোটায় ১০ ও উপজাতি কোটায় ৫ শতাংশ চাকরি সংরক্ষণ আছে। এই ৫৫ শতাংশ কোটায় পূরণযোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সে ক্ষেত্রে ১ শতাংশ পদে প্রতিবন্ধীদের নিয়োগের বিধান রয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে কোটা পর্যালোচনা কমিটির সদস্য হিসেবে আছেন আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহম্মদ, অর্থ বিভাগের সচিব মুসলিম চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব অপরূপ চৌধুরী, সরকারি কর্ম কমিশনের সচিব আকতারী মমতাজ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব সাজ্জাদুল হাসান।

/এসআই/এমএনএইচ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বাজেটে বরাদ্দ বেড়েছে যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নের
বাজেটে বরাদ্দ বেড়েছে যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নের
৪ বছরের মধ্যেই ১.৫ ডিগ্রি উষ্ণতার সীমা ছাড়াতে পারে বিশ্ব
৪ বছরের মধ্যেই ১.৫ ডিগ্রি উষ্ণতার সীমা ছাড়াতে পারে বিশ্ব
কবিতায় হেমন্তের ঘ্রাণ ।। পর্ব—৪
পোলিশ আন্তর্জাতিক কবিতা উৎসবকবিতায় হেমন্তের ঘ্রাণ ।। পর্ব—৪
ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা 
ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা 
সর্বাধিক পঠিত
প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে তুলে নেওয়া হলো সেই সড়কের ইট 
প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে তুলে নেওয়া হলো সেই সড়কের ইট 
সীমান্তে আটকে থাকা বৃদ্ধের আছে আইডি কার্ড, চিনতে পেরেছে পরিবার
সীমান্তে আটকে থাকা বৃদ্ধের আছে আইডি কার্ড, চিনতে পেরেছে পরিবার
বিএসএফের পুশইনের পর সীমান্তে আটকে থাকা বৃদ্ধের পরিচয় মিলেছে
বিএসএফের পুশইনের পর সীমান্তে আটকে থাকা বৃদ্ধের পরিচয় মিলেছে
লাশের গোপনাঙ্গ নিয়ে মন্তব্য করে তোপের মুখে নারী চিকিৎসক
লাশের গোপনাঙ্গ নিয়ে মন্তব্য করে তোপের মুখে নারী চিকিৎসক
৫৪ কেজিতে এক মণের দিন শেষ
৫৪ কেজিতে এক মণের দিন শেষ