পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল বলেছেন, বিশ্ব অতীত থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে এবং এই তথাকথিত ‘বাণিজ্য যুদ্ধ’ প্রতিহত করবে, যাতে এটি বেশি দিন স্থায়ী হতে না পারে। এর পাশাপাশি এই অঞ্চলের সব দেশকে বাণিজ্য যুদ্ধের পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন হয়ে দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার বাণিজ্য পরিধি বৃদ্ধির পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
দিল্লিভিত্তিক থিংকট্যাংক ইন্ডিয়ান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে তৃতীয়বারের মতো দুই দিনব্যাপী ভারতীয় মহাসাগর সম্মেলনে এসব কথা বলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা গাজী তৌহিদুল ইসলামের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘এতে বিশ্বায়নের অস্তিত্ব টিকে থাকবে। আমাদের অবশ্যই একসঙ্গে চলার নীতি অনুসরণ করতে হবে। কেননা আপনি যদি দ্রুত চলেন তবে আপনাকে একাই চলতে হবে, আর যদি সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে চলতে চান তবে অবশ্যই আপনাকে একসঙ্গে চলতে হবে।’
৬০টির বেশি দেশের সরকারি-বেসরকারি বিশিষ্টজনেরা ‘ভারতীয় মহাসাগর সম্মেলন-২০১৮’-এ সম্মেলনে অংশ নেন। গত ২৭ ও ২৮ আগস্ট (সোম ও মঙ্গলবার) ভিয়েতনামের হ্যানয়ে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে মন্ত্রীপর্যায়ের সেশনে পরিকল্পনামন্ত্রী বক্তব্য দেন। এই সেশনে শ্রীলঙ্কার যুবমন্ত্রী সাগালা বাতানায়েকে, মরিশাসাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিতানাহ লুচিমিনারাইডো ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশমন্ত্রী থানি বিন আহমেদ আল-জিউওদি বক্তব্য দেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, “যখন বিশ্ব একটি বিশ্বায়নবিরুদ্ধ তথাকথিত ‘বাণিজ্য যুদ্ধ’-এর হুমকির মুখে, এমন এক সময়ে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো নিয়ে এ সুন্দর সম্মেলন আয়োজনের জন্য ভিয়েতনাম সরকারসহ ইন্ডিয়ান ফাউন্ডেশন অবশ্যই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।”
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ১৯২৯ সালের স্মুথ হলির রক্ষণশীল ট্যারিফ পদ্ধতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘যেখানে ২০ হাজারের বেশি দ্রব্যের ওপর আমেরিকার কৃষি ও ব্যবসাকে রক্ষার জন্য শতকরা ৫০ ভাগের বেশি শুল্ক আরোপ করা হয়। পরিনামে এটি তখন বিশ্ববাণিজ্যকে ৬৬ শতাংশ সংকুচিত করে সারাবিশ্বে মহামন্দা সৃষ্টি করে।’
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘যখন আমরা একতা ও পারস্পারিক সহযোগিতার কথা বলছি ঠিক তখন বাংলাদেশ বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার কর্তৃক সৃষ্ট রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু নামক গুরুতর সমস্যায় পর্যবষিত।’
তিনি সব অংশগ্রহণকারী দেশের প্রতিনিধিদের আন্তরিকভাবে অনুরোধ করেন, তারা অবশ্যই অন্যায়ের প্রতিবাদ করবেন যাতে রোহিঙ্গারা সম্মানের সঙ্গে তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে দ্রুত ফিরে যেতে পারে।
আ হ ম মুস্তফা কামাল আরও বলেন, ‘ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল অর্থনৈতিক, সংস্কৃতি ও সামাজিকসহ নানাভাবে অত্যন্ত সমৃদ্ধশালী। কিন্তু এই সম্পদ তখনই প্রকৃত সম্পদে পরিণত হবে যখন সম্পদের যথার্থ ন্যায়সঙ্গত ও দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার নিশ্চিত হবে, যদিও এটি একটি কঠিন কাজ।’
এক্ষেত্রে ভারতের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ড. এ পি জে আব্দুল কালামকে উদ্ধৃত করেন, ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহ মহাসাগর ও তার প্রমত্তা ঢেউ সৃষ্টি করেছেন, পাশাপাশি তিনি মানুষের কল্যাণে তাকে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন সেই মহাসমুদ্র ও ঢেউকে জয় করার জন্য।’
পরিকল্পনামন্ত্রী অংশগ্রহণকারী সব দেশের সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই যে আমরা ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলবাসী সবার স্বার্থে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে সব নিয়মকানুন মেনেই ন্যায়সঙ্গতভাবে সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবো।’








