ইলেকট্রিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) যুক্ত করে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনীর খসড়া বিল চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ (সোমবার, ৩ সেপ্টেম্বর) ভেটিংয়ের জন্য এটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। ইসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, রবিবার জন্ম অষ্টামী উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকলেও কমিশনের কর্মকর্তারা অফিস করেছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ আগস্ট) কমিশন সভায় অনুমোদিত আরপিও সংশোধনীটি বিল আকারে তৈরিসহ যাবতীয় দাফতরিক কাজ সম্পন্ন করেছে ইসি।
প্রসঙ্গত, ইভিএমসহ কয়েকটি বিষয়ে সংশোধনীর প্রস্তাব করে বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন আরপিও সংশোধনীর খসড়া প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। ৫ জন নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে মাহবুব তালুকদার ইভিএম যুক্ত করে আরপিও সংশোধনীর প্রস্তাবে বিরোধিতা করে নোট অব ডিসেন্ট দেন। একইসঙ্গে ওইদিন তিনি কমিশন সভা বর্জনও করেন। পরে বিকালে তার নোট অব ডিসেন্ট দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন।
এদিকে, সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা আরপিও সংশোধনীর প্রস্তাব অনুমোদনের কারণ ব্যাখ্যা করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘আরপিওতে ইভিএম যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হলেও একাদশ জাতীয় সংসদে এটি ব্যবহার হবে কিনা, সেই সিদ্ধান্ত কমিশন এখনও নেয়নি। পরিবেশ পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।’
ভেটিংয়ের জন্য পাঠানোর বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা সোমবার সংশোধনী প্রস্তাবটি ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করছি এটা সম্ভব হবে।’
অবশ্য, সোমবার আইনমন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য গেলেও এদিন মন্ত্রিসভায় উত্থাপনের সম্ভাবনা খুবই কম। মন্ত্রিসভার আগামী বৈঠকে এটি অনুমোদনের জন্য উঠতে পারে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেন, ‘আমরা এখনও আরপিও সংশোধনীর খসড়া প্রস্তাব পাইনি। এটা পাওয়ার পর পর্যালোচন করে দেখা যাবে।’
আরপিওটি ভেটিংয়ের পর তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। সেখানে অনুমোদন হলে তা বিল আকারে সংসদে পেশ হবে। পরে সংসদীয় কমিটি হয়ে তা পাসের মাধ্যমে আইনে পরিণত হবে।
আগামী ৯ সেপ্টেম্বর চলতি দশম সংসদের ২২তম অধিবেশন শুরু হবে। এটি হবে চলতি সংসদের শেষ অধিবেশন। মাঝখানে কিছুদিন বিরতি দিয়ে এ অধিবেশনটি অক্টোবর পর্যন্ত চলতে পারে।








