হোটেল রেস্তোরাঁসহ ১৩ প্রতিষ্ঠানে ইএফডি মেশিন ব্যবহার বাধ্যতামূলক

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০১:২৯, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৫৭, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০১৮

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, এনবিআরমূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট ফাঁকি বন্ধে ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি) মেশিন চালু করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ, ফাস্টফুড শপসহ ১৩টি খাতে এই মেশিন ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকা এবং ১ ডিসেম্বর থেকে সব জেলা শহরে আধুনিক এই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করতে হবে। গত ২৯ আগস্ট সরকার এ ব্যাপারে একটি গেজেট প্রকাশ করেছে।

বর্তমানে এসব খাতে ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্টার বা ইসিআর ব্যবহার হয়। তবে বাধ্যতামূলক ছিল না। এখন তার পরিবর্তে উল্লিখিত খাতসমূহের ব্যবসায়ীরা পণ্য ও সেবা কেনাবেচায় ইএফডি ব্যবহার করবেন। এনবিআর বলছে, ইএফডি হচ্ছে অত্যাধুনিক এক ধরনের মেশিন বা হিসাব যন্ত্র। ইসিআরের উন্নত সংস্করণ। এটি ব্যবহার করলে এসব খাতে পণ্য ও সেবা বেচাকেনায় স্বচ্ছতা আসবে এবং ভ্যাট ফাঁকি কমবে।
যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ইএফডি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, সেগুলো হলো–আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ফাস্টফুড শপ, মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, আসবাবপত্র বিক্রয় কেন্দ্র, পোশাক বিক্রির কেন্দ্র/বুটিক শপ, বিউটি পার্লার, ইলেকট্রনিক/ইলেকট্রিক্যাল গৃহস্থালি সামগ্রীর বিক্রয় কেন্দ্র, কমিউনিটি সেন্টার, অভিজাত শপিং সেন্টারের অন্তর্ভুক্ত সব ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, জেনারেল স্টোর/ সুপারশপ, বড় ও মাঝারি ব্যবসায় (পাইকারি ও খুচরা) প্রতিষ্ঠান, স্বর্ণকার ও রৌপ্যকার এবং স্বর্ণ-রৌপ্যের দোকানদার এবং স্বর্ণ পাইকারি।
এর আগে এনবিআর থেকে ভ্যাট কমিশনারদের নিজ নিজ কমিশনারেটের অধীনে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে ইএফডি মেশিন স্থাপন বা প্রতিস্থাপনে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এনবিআর বলছে, নতুন এই যন্ত্র ব্যবহার না করা হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হবে। জরিমানার পরিমাণ ২০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা। বিগত ২০০৯ সাল থেকে প্রথমবারের মতো সেবার বিভিন্ন খাতে ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্টার বা ইসিআর মেশিন চালু করা হলেও ব্যবসায়ীদের বিরোধিতার কারণে তা সফল হয়নি।
এনবিআর সূত্র জানায়, রাজধানী ঢাকাসহ সিটি করপোরেশন ও দেশব্যাপী জেলা শহরে উল্লিখিত খাতসমূহে বিশেষায়িত এই মেশিন ব্যবহার করা হবে। এতে লক্ষাধিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান নতুন এই প্রযুক্তির আওতায় আসবে।

প্রসঙ্গত, ভ্যাট ফাঁকি বন্ধে ২০০৮ সালের ১৫ মে ১১টি সেবা ও ব্যবসা খাতে ইসিআর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে এনবিআর একটি আদেশ জারি করেছিল। তবে কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। নতুন নির্দেশনায় ১৩টি সেবা ও ব্যবসা খাতে ইএফডি মেশিন বসানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, ইএফডি মেশিন সরাসরি ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। অর্থাৎ চাইলেই ব্যবসায়ীরা বিক্রয়ের তথ্য গোপন করতে পারবেন না। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিদিনকার বেচাবিক্রির রেকর্ড সরাসরি এনবিআরের সার্ভারে চলে যাবে। আর নতুন মেশিন টেম্পারিংও করা যাবে না। মেশিন টেম্পারিং করলে তার তথ্যও ঘরে বসেই পেয়ে যাবেন ভ্যাট কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশে খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে বছরে মূল্য সংযোজনের পরিমাণ দুই লাখ কোটি টাকা। এরমধ্যে ভ্যাটযোগ্য প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পাঁচ শতাংশ হারে আদায় করা গেলেও অন্তত চার হাজার কোটি টাকা বাড়তি রাজস্ব আদায় হওয়ার কথা। কিন্তু এসব খাত থেকে বর্তমানে আদায় হয় ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা।

/জিএম/আইএ/এমওএফ/

লাইভ

টপ