তথ্য মন্ত্রণালয় নেওয়ার প্রস্তাব পেয়েছিলেন বলে জানালেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিতে চেয়েছিলেন, আমি আগ্রহ দেখাইনি।’ মঙ্গলবার (০৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘‘২০১১ সালের ২৮ নভেম্বর মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছি। তখনও আমাদের পোর্টফোলিও ঠিক হয়নি। প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেন, ‘আমি তো তোমাকে ইনফরমেশন মিনিস্ট্রি দিতে চাই। তোমার কী মত।’ ওইদিন বলেছি, কয়েকদিন পর তো ইলেকশন। আপনি আমাকে এমন একটি দায়িত্ব দিন, যেখানে ডেভেলপমেন্ট করা যায়, যে ডেভেলপমেন্ট মানুষের কাজে আসে এবং তা তাদের দেখানো যায়। ইনফরমেশন তো বক্তৃতা করা। তা তো আমি রাজনৈতিক নেতা হিসেবে করেই যাচ্ছি। ওইদিন রাতে চলে এলাম। পরদিন খুব ভোরে প্রধানমন্ত্রী আমাকে রেড ফোনে কল দিয়ে বললেন, ‘তুমি তো ইনফরমেশন নিতে চাচ্ছো না, তাহলে কমিউনিকেশন পারবে?’ আমি বললাম, আপনার ছায়া থাকলে পারবো। আমি চেষ্টা করবো। তিনি আমাকে দায়িত্ব দিলেন। এরপর দিনই (০৫ ডিসেম্বর) আমি মন্ত্রী হিসেবে রাস্তায় নামি। সেদিন ছিল খুব কুয়াশা। সেই থেকেই তো আমি রাস্তায় আছি।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘একসময় ছিল, যখন বলা হতো, যদি মরতে চাও, তাহলে আরিচা সড়কে যাও। আজ কিন্তু আরিচা সড়কে দুর্ঘটনা নেই। মাত্র ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তাগুলো সোজা করেছি। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মাত্র তিনটি ব্রিজের কাজ শেষ হলে ওখানে আর কোনও ঝামেলা থাকবে না।’
সড়কে ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ তিন চাকার বাহন সম্পর্কে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের ২২টি মহাসড়কে তিন চাকার বাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করেছি, তা বলবো না, কোনোটায় ৯০ শতাংশ, কোনোটায় ৮০ শতাংশ, কোনোটায় ৭০ শতাংশ, আবার কোনোটায় ৬০ শতাংশ সাকসেস হয়েছি। পুরোপুরি সাকসেসফুল হওয়া যেতো। যদি জনপ্রতিনিধিরা সহায়তা করতো। আমাদের দেশের বহু পলিটিশিয়ান এর পেছনে রয়েছেন। আমরা অর্ডার দেই, এগুলো চলবে না। আর অনেক জনপ্রতিনিধি রয়েছেন, তারা এসব ছোট ছোট যানবাহনকে মহাসড়কে চলতে দেন।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এজন্যই আমি মাঝে মাঝে বলি, আমাদের দেশের পলিটিশিয়ানরা যদি ঠিক হতো, তাহলে আমাদের দেশের অনেক কিছুই ঠিক হতো।’
মোটরসাইকেল বিষয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘মোটরসাইকেল এগুলো এখন নতুন উপদ্রব। রাস্তায় মোটরসাইকেল মূর্তিমান আতঙ্ক।’ তিনি বলেন, ‘একসময় এই মহনগরীতে কেউ হেলমেট ব্যবহার করতো না। বহু কষ্টে এর পরিবর্তন হয়েছে। রাস্তায় যখন দেখি সিগন্যালে সারিবদ্ধ মোটরসাইকেলের প্রতিটি মোটরসাইকেলে দুই জন করে আরোহী, প্রতিটি আরোহীর মাথায় হেলমেট আছে। আগে একজনের মাথায় হেলমেট থাকতো। এখন একটি মোটরসাইকেলের দুই জন আরোহীর মাথায়ই হেলমেট আছে। এখন ঢাকায় ৫০ শতাংশ মোটরসাইলের দুই জন আরোহী দুই জনই হেলমেট ব্যবহার করছেন। কাজেই উন্নতি হয়নি তা বলা যাবে না। এ দৃশ্য দেখতে আমার খুব ভালো লাগে। মনটা ভরে যায়। কিন্তু কিছুদূর গিয়ে দেখি, ৫০/৬০টি মোটরসাইকেলের সারি। এরা সবাই দিগ্বিজয়ী আলেকজান্ডার। রাস্তায় যখন দেখবেন, একটি মোটরসাইকেলে তিনজন আরোহী, কারও মাথায় হেলমেট নেই, তখন বুঝবেন এরা পলিটিশিয়ান। এরা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এরা কিছুই কেয়ার করে না। তাই তো আমি বলি, আমার দেশের পলিটিক্সে যদি শৃঙ্খলা ফেরানো যেতো, তাহলে অনেক কিছুই পরিবর্তন হতো। কারণ আমিও তো রাজনীতি করি।’
সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘রাস্তায় সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যর সংবাদ যখন টিভির স্ক্রলে দেখি মনটা খারাপ হয়ে যায়। মৃত্যু আমাকেও আলোড়িত করে। মন্ত্রী হলেও আমরাও তো মানুষ। কেউ কথা শোনে না। ঢাকা-চট্টগাম মহাসড়কে ৩৬টি ফুটওভার ব্রিজ করেছি। কিন্তু কোনও কাজে আসে না। কেউ কথা রাখে না। আমাদের মানসিকতা ও মননশীলতার পরিবর্তন না হলে কোনও উন্নয়নই সুফল বয়ে আনবে না বলেও জানান মন্ত্রী।








