জাতিসংঘে ‘রোহিঙ্গা ইস্যু’র সমাধানে চাপ দেবে ঢাকা

Send
শেখ শাহরিয়ার জামান
প্রকাশিত : ২৩:৫৮, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৭, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৮






ফাইল ছবিরোহিঙ্গা ইস্যুর সঠিক, শান্তিপূর্ণ ও দ্রুত সমাধানে জাতিসংঘের বিভিন্ন ফোরামে পুরো সেপ্টেম্বর জুড়ে কাজ করবে ঢাকা। জেনেভাতে চলমান মানবাধিকার কাউন্সিলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া মাসের শেষদিকে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে অন্য দেশগুলোর সাথে মিলে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগের সব ধরনের প্রস্তুতিও নিয়ে রাখছে সরকার।

একজন সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, ১৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন মানবাধিকার কাউন্সিলে মিয়ানমারের মানবাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশ করবে। এছাড়া অন্য দেশগুলোকে সাথে নিয়ে ওইদিনই রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আরেকটি সাইডলাইন বৈঠকের আয়োজনের চেষ্টা করছে সরকার।

তিনি বলেন, এই বৈঠকের লক্ষ্য হবে রোহিঙ্গা সমস্যার মূল কারণ অনুসন্ধান এবং সমাধানের উপায় খুঁজে বের করা। আমরা বলার চেষ্টা করবো রোহিঙ্গাদের ওপর যে নির্যাতন চালানো হচ্ছে সেটি তাদের জাতীয় সত্তা ও ধর্মের কারণে করা হচ্ছে। এটি প্রমাণ করা গেলে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধি পাবে।

তিনি আরও জানান, অর্গানাইজেশন ফর ইসলামিক কোঅপারেশন এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন পৃথকভাবে রোহিঙ্গা বিষয়ক দুটি রেজ্যুলেশন মানবাধিকার কাউন্সিলে জমা দেবে। আশা করা হচ্ছে আলোচনার পরে সম্মিলিত একটি রেজ্যুলেশন গৃহীত হবে।

তিনি বলেন, এই রেজ্যুলেশনে একটি মেকানিজম অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে। যার মাধ্যমে জাতিসংঘ মিয়ানমারের মানবাধিকার লংঘন তদন্ত করে দেখবে। আর এটি নতুন কোনও ধারণা নয়। কারণ জাতিসংঘ সিরিয়াতে মানবাধিকার লঙ্ঘন বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি ইন্টারন্যাশনাল ইমপার্শিয়াল অ্যান্ড ইন্ডিপেন্ডেন্ট মেকানিজম প্রতিষ্ঠা করেছে।

অন্য আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, গতবারের মতো এবারেও নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যে রোহিঙ্গা ইস্যুটি সবচেয়ে গুরুত্ব পাবে। আশা করা যাচ্ছে ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি বক্তব্য রাখবেন।

তিনি আরও বলেন, গতবারের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী পাচঁ-দফা প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু এবারে পরিস্থিতির অনেক পরিবর্তন হয়েছে। রাখাইনে সহিংসতা বন্ধ হয়ে গেছে এবং বাংলাদেশ ও মিয়ানমার প্রত্যবাসন সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

ধারণা করা হচ্ছে, এবার প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ‘প্রত্যাবাসন এবং দায়বদ্ধতা’র বিষয়টি প্রাধান্য পাবে। এছাড়া রোহিঙ্গা ইস্যুর সুষ্ঠু সমাধানে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব নেতাদের সাথেও কথা বলবেন।

এস্তোনিয়ার প্রেসিডেন্ট, নেদারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী, জাতিসংঘ মহাসচিব এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রধানদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কথা রয়েছে।

আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এবার জাতিসংঘে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি গেলে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে এ বছরের চতুর্থ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

 

/এসএসজেড/টিটি/

লাইভ

টপ