আজ পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী

Send
বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
প্রকাশিত : ০১:৪৭, অক্টোবর ১৪, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৫৯, অক্টোবর ১৪, ২০১৮

শেখ হাসিনাদেশের বৃহত্তম অবকাঠামো পদ্মা সেতু প্রকল্পের অগ্রগতি এবং এর রেল সংযোগের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করতে আজ পদ্মা সেতু এলাকায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সূত্র বাসস’কে জানায়, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বহু প্রতীক্ষিত মেগা প্রকল্প পদ্মা সেতুর কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করতে রবিবার মুন্সীগঞ্জের মাওয়া, শরীয়তপুরের জাজিরা ও মাদারীপুরের শিবচর এলাকায় যাবেন।’

সূত্র জানায়, পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী ‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ নির্মাণ প্রকল্পের’ আওতায় ঢাকার সাথে যশোরের রেল লিংক রোডের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করবেন।
প্রধানমন্ত্রী বেলা ১১টার দিকে প্রথমে মাওয়ায় কাজের অগ্রগতি দেখবেন। এরপর ঢাকা-মাওয়া ও পাচ্চর-ভাঙ্গা এন-৮ মহাসড়কের কাজের অগ্রগতি দেখবেন এবং মাওয়া সাইডে রেললাইন লিংকের কাজ উদ্বোধন করবেন।

এরপর স্থায়ী নদীশাসন কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। মাওয়ার দিকের সেতুর সামগ্রিক কাজের অগ্রগতিও পরিদর্শন করবেন তিনি। বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে মাওয়া গোলচত্বরে এক সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন তিনি। রবিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী জাজিরা পয়েন্টে সেতুর কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করবেন। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিবচরে ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী কাঠালবাড়ি ফেরিঘাটে জনসমাবেশে ভাষণ দেবেন।

বাসস শরীয়তপুর সংবাদদাতা জানান, প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শন উপলক্ষে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শুক্রবার জাজিরার নাওডোবা এলাকা পরিদর্শন করেন। ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শনিবার পদ্মা সেতুর কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে আসার কথা ছিল। কিন্তু বিরূপ আবহাওয়ার কারণে তা পরিবর্তন করে রোববার নির্ধারণ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুর উভয় পাশে ৬০ ভাগ কাজের অগ্রগতির ফলক উন্মোচন করবেন। জাজিরা পয়েন্টে ৫টি এবং মাওয়া পয়েন্টে ১টি স্প্যান বসানো হয়েছে। আরও ৫টি স্প্যান বসানোর কাজ চলছে।

রেল মন্ত্রণালয় সূত্র থেকে জানানো হয়, ‘পদ্মা ব্রিজ রেল লিংক কনস্ট্রাকশন প্রজেক্ট’-এর প্রথম পর্যায়ের কাজ জাজিরা ও শিবচর হয়ে মাওয়া ও ভাঙ্গার মধ্যে রেলসংযোগ স্থাপন করবে। আর পদ্মা বহুমুখী সেতুর মাধ্যমে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, নড়াইল ও যশোরের মধ্যে বৃহত্তর সংযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে।

চীন সরকার মনোনীত নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লি. চীন জিটুজি পদ্ধতির আওতায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ ব্যাপারে চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে ২৬৬৭ দশমিক ৯৪ মিলিয়ন ডলারের একটি ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ২৩ কিলোমিটার এলিভেটেড সেতুপথ নির্মিত হবে। এই সেতুপথে একাধিক লিফটসহ দুটি প্লাটফর্ম, একটি মেইন লাইন ও দুটি লুপ লাইন নির্মাণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর শরীয়তপুরের জাজিরা ও মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় মূল সেতু নির্মাণ ও রিভার ট্রেইনিং কাজ উদ্বোধন করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নয়া দিগন্তের সূচনা হবে এবং দক্ষিণাঞ্চলের ১৯টি জেলার প্রায় ৬ কোটি মানুষের জীবনযাত্রায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। শুধু তা-ই নয়, রাজধানী ঢাকাসহ সমগ্র দেশের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে।
তারা আরও জানান, এর মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাবাসীর দীর্ঘ ভোগান্তি লাঘব হবে। দেশের অন্য প্রান্তে যাতায়াতের ক্ষেত্রে তাদের যাত্রার সময় দুই থেকে তিন ঘণ্টা কমে যাবে।

কংক্রিট ও ইস্পাত কাঠামোয় তৈরি দুই স্তরের পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে চলবে যানবাহন আর নিচ দিয়ে চলবে রেল। সরকার ৩০ হাজার কোটি টাকার নিজস্ব তহবিলে দেশের সর্ববৃহৎ ‘পদ্মা সেতু’ নির্মাণ করছে। মূল সেতু, নদীশাসন, দুটি সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণসহ ৫ ভাগে সম্পন্ন হচ্ছে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ। এই সেতুতে থাকবে মোট ৪২টি পিলার। এগুলোর প্রতিটি ৬টি পাইলের ওপর দণ্ডায়মান থাকবে। পিলারগুলোর ওপরে বসানো হবে ইস্পাতের স্প্যান। সেতুতে মোট ৪১টি স্প্যান বসবে।

মূল সেতু নির্মাণ করছে চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন। নদীশাসন কাজে নিয়োগ করা হয়েছে চীনের সিনোহাইড্রো করপোরেশনকে এবং দুটি সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে বাংলাদেশের আবদুল মোমেন লি.। এই সেতুর নির্মাণকাজ তদারক করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বুয়েট ও কোরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে করপোরেশন অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস। এই সেতু নির্মাণের ফলে দেশের বাণিজ্য, উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র: বাসস

/এমএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ