৮ দফা দাবিতে রাজধানী ঢাকায় গণপরিবহন ধর্মঘট চললেও নগরজুড়ে তীব্র যানজট দেখা গেছে। সকাল থেকে সরকারি মালিকানাধীন বিআরটিসি’র কিছু সংখ্যক বাস ছাড়া কোনো গণপরিবহন রাস্তায় দেখা না গেলেও ব্যক্তিগত গাড়ি এবং রাইড শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে চলাচলকারী গাড়ি, মোটরসাইকেল ও সিএনজি-অটোরিকশাসহ অন্যান্য পরিবহনের চাপে সড়কজুড়ে তীব্র যানজট দেখা গেছে। এতে গন্তব্যে পৌঁছতে বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের।
নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কে যেসব যানবাহন চলছে তার বেশিরভাগই রাইড শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে চলাচলকারী পরিবহন। গণপরিবহন না পেয়ে সাধারণ মানুষকে এসব অ্যাপসভিত্তিক পরিবহনে উঠতে বাধ্য হতে হচ্ছে। সে কারণে অধিকাংশ ব্যক্তিগত গাড়ির চালকরা রাস্তায় নেমে পড়েছেন।
রাজধানীর মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে কথা হয় প্রাইভেটকার চালক রমজান আলীর সঙ্গে। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমার স্মার্ট ফোনে উবারের একটি অ্যাপস ডাউনলোড করা আছে। মাঝে মধ্যে অফিসের কাজ শেষে এর মাধ্যমে রাইড শেয়ারিং করতাম। কল আসতো অনেক কম। কিন্তু আজ সকাল থেকে অনেক বেশি কল আসছে। সে কারণে রাস্তায় রয়েছি। তিনি জানান, প্রাইভেট কারের মধ্যে অধিকাংশই ব্যক্তিগত গাড়ি।
গণপরিবহন না পাওয়া আশঙ্কায় সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মিনহাজ উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রতিদিন বাসে করেই অফিসে যাই। কিন্তু আজ কোনও বাস পাওয়া যাবে না জেনেই উবারের মাধ্যমে একটি মাইক্রোবাস ডাকি। তাতে করেই অফিসে এসেছি।
এদিকে গণপরিবহন শূন্যতায় অধিকাংশ রাইড শেয়ারকারীরা অ্যাপসের মাধ্যমে না গিয়ে চুক্তিভিত্তিকভাবে গন্তব্যে যাচ্ছে। এতে সাধারণ যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রাসেল উদ্দিন নামে একজন যাত্রী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বাসা থেকে নেমেই পাঠাওয়ের মাধ্যমে একটি বাইক ডাকি। কিন্তু রাইডার এসে জানান, তিনি অ্যাপসের মাধ্যমে যেতে আগ্রহী না। উত্তরা যেতে অ্যাপসে তার ভাড়া এসেছে ১৩৩ টাকা। কিন্তু তাকে ২০০টাকা দিতে হবে। পরে বাধ্য হয়েই ২০০টাকার চুক্তিতে উত্তরা যাই।
অপরদিকে সকাল থেকে সরকার মালিকানাধীন বাংলাদেশ রোড় ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের (বিআরটিসি) কিছু গাড়ি দেখা গেলেও কোনো গণপরিবহন চোখে পড়ছে না। এরপরেও নগরজুড়ে তীব্র যানজট দেখা গেছে। সকাল থেকে কাকলী, বনানী, মহাখালী, মহাখালী ফ্লাইওভার, তেজগাঁও, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, ফার্মগেট, শাহবাগ, পল্টন গুলিস্তান, রাজারবাগ, মালিবাগ ও রামপুরাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে অন্যদিনের মতোই সড়কে তীব্র যানজট রয়েছে। তবে যানজট সৃষ্টিকরা অধিকাংশ পরিবহনই ব্যক্তিগত গাড়ি, রিকশা, সিএনজি ও মটরসাইকেল।
এদিকে শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে সকাল থেকে নগরীর মহাখালী, গাবতলী, যাত্রাবাড়ী, মিরপুর ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে আন্তঃনগরসহ দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। স্টেশনে আসা সাধারণ যাত্রীরা পড়েছেন বিপাকে।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদে সদ্য পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনসহ সাত দফা দাবিতে পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকা ধর্মঘট শুরু হয়েছিল। ওই সময় ৯ অক্টোবর, বিকাল ৪টায় সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের আশ্বাসে ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছিলেন ট্রাক পরিবহন শ্রমিকরা। কিন্তু শুক্রবার (২৬ অক্টোবর) কেরানীগঞ্জে ট্রাকচালক-শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক শ্রমিক নিহত হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবার একই দাবি নিয়ে ফুঁসে উঠেছে পরিবহন শ্রমিকরা। এরপরই এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে তারা।








