অবশেষে পূর্বাচল লিংক রোডের দুপাশে খাল খনন হচ্ছে

Send
শফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত : ০৭:৫০, নভেম্বর ০৬, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:১২, নভেম্বর ০৬, ২০১৮

রাজউক

দীর্ঘদিন পর রাজধানী ঢাকার অদূরে খিলক্ষেতে অবস্থিত পূর্বাচল লিংক রোডের দুই পাশে কুড়িল থেকে বোয়ালিয়া পর্যন্ত একশ ফুট প্রশস্ত খাল খনন করা হচ্ছে। এর ফলে বর্ষাকালে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর, ডিওএইচএস, বারিধারা, ক্যান্টনমেন্ট এবং বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব হবে। একই সঙ্গে খাল উন্নয়ন, রাজউকের ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) অনুযায়ী পানি সংরক্ষণ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য খাল সংরক্ষণ, জলাবদ্ধতা নিরসনের মাধ্যমে সংলগ্ন এলাকার পরিবেশ উন্নয়ন, নতুন কালভার্ট এবং তীর রক্ষার মাধ্যমে বিদ্যমান অবকাঠামোর উন্নয়ন সম্ভব হবে।

গত ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে ‘‘পূর্বাচল লিংক রোডের উভয় পার্শ্বে (কুড়িল হতে বোয়ালিয়া পর্যন্ত) ১০০ ফুট প্রশস্ত খাল খনন ও উন্নয়ন (১ম সংশোধিত)’’ প্রকল্প নামে একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ৩২৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নে এই ব্যয় সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে বলে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ২০০৪ সালে ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) প্রণয়ন করে, যা ২০১০ সালে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। সেখানে কুড়িল হতে বালু নদী পর্যন্ত দুটি ১০০ ফুট প্রশস্ত খাল দেখানো আছে। বর্তমানে এ খাল দুটি যথাযথভাবে কাজ করছে না। ফলে বর্ষাকালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর, বারিধারা, ক্যান্টনমেন্ট এবং বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকার জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এ অবস্থা হতে উত্তরণের জন্য কুড়িল হতে বালু নদী পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে ১০০ ফুট খাল খনন ও উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘‘পূর্বাচল লিংক রোডের উভয় পার্শ্বে (কুড়িল হতে বোয়ালিয়া পর্যন্ত) ১০০ ফুট প্রশস্ত খাল খনন ও উন্নয়ন (১ম সংশোধিত)’’ প্রকল্পটি ২০১৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর প্রথমবার একনেকে অনুমোদিত হয়। তখন প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছিলো ৫ হাজার ১৪৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয় হতে এর বিশেষ সংশোধনী এনে ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ৫ হাজার ২৮৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় ২০১৮ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এরপর প্রকল্পটি অনুমোদিত প্রকল্পভুক্ত কাজ বালু নদী অতিক্রম করে কাঞ্চন (কাঞ্চন ব্রিজ) পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয় এবং প্রকল্পভুক্ত কাজের পরিধি বাড়ানো হয়; সঙ্গে নতুন নতুন রাস্তা ও খাল খনন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। এ ছাড়াও সংলগ্ন ৩০০ ফুট প্রশস্ত সড়কটিকে এক্সপ্রেসওয়ে আকারে ৮ লেনে সম্প্রসারণ, সার্ভিস রোড নির্মাণ, নতুন করে অতিরিক্ত ২২০ দশমিক ৮৫ একর জমি অধিগ্রহণ, পাম্প হাউজ নির্মাণ, ডাইক বাঁধ স্থাপন ইত্যাদি কারণে প্রকল্পটির ব্যয় বাড়িয়ে ২২ হাজার ৩৭৪ কোটি ৬ লাখ টাকায় সংশোধনের প্রস্তাব করা হলে চলতি বছরের ১২ জুন তারিখে এর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সূত্র আরও জানায়, পিইসি সভায় মূল প্রকল্পটির সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সম্পর্কিত এবং কুড়িল হতে বোয়ালিয়া পর্যন্ত এলাকায় সীমাবদ্ধ রেখে শুধু আগামী ২০১৯ সালের ৩০ জুনের মধ্যে সমাপ্তিযোগ্য কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করে আরডিপিপি পুনর্গঠন করতে হবে এবং অপরাপর প্রস্তাবিত কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করে নতুন আকারে একটি প্রকল্প প্রণয়ন করা যেতে পারে মর্মে সুপারিশ পেশ করা হয়। এই সুপারিশসহ প্রকল্পটির ওপর পুনরায় পিইসি সভা করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সিদ্ধান্তের আলোকে আরডিপিপি ১৬ হাজার ৬৪৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে পুনর্গঠন করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠায়। পরবর্তীতে গত ২১ অক্টোবর এই প্রস্তাবের উপর পুনরায় পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। পিইসি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকল্পটির ডিপিপি পুনর্গঠন করা হয়েছে। পুনর্গঠিত প্রকল্প ব্যয় ১৪ হাজার ৩২৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ধরে ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের টার্গেট ধরা হয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গণপূর্ত ও গৃহায়নমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বাংলা ট্রিবিউকে জানিয়েছেন, অনেক পথ পেরিয়ে একনেক প্রকল্পটি অনুমোদন দিয়েছে। প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন হলে বিমানবন্দর সংলগ্ন আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা থাকবে না। একই সঙ্গে পূর্বাচল লিংক রোডের উভয় পাশের খাল পরিবেশের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেবে কয়েকগুণ।

তিনি জানান, বর্ষাকালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর, ডিওএইচএস, বারিধারা, ক্যান্টনমেন্ট, এবং বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য খাল উন্নয়ন, ড্যাপ অনুযায়ী পানি সংরক্ষণ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য খাল সংরক্ষণ, জলাবদ্ধতা নিরসনের মাধ্যমে সংলগ্ন এলাকার পরিবেশ উন্নয়ন এবং নতুন কালভার্ট এবং তীর রক্ষার মাধ্যমে বিদ্যমান অবকাঠামোর উন্নয়ন সম্ভব হবে।। 

প্রকল্প প্রস্তাবনায় জানা গেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নে ১৪৫ দশমিক ২৬ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। মাটি খনন, কাদা মাটি অপসারণ ও মাটি ভরাট করা হবে প্রয়োজন মতো। স্লুইস গেট নির্মাণ করা হবে। প্রকল্প এলাকায় থাকবে আরবরিকালচার, আর্চ ব্রিজ, কালভার্ট, আন্ডারপাস নির্মাণসহ নিকুঞ্জ লেক উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন করা হবে।

 

/এসআই /এএইচ/

লাইভ

টপ