বেবিচককে ৫ শতাংশ মুনাফার ভাগসহ গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং লাইসেন্স ফির হার অনুমোদন

Send
চৌধুরী আকবর হোসেন
প্রকাশিত : ০৩:০৪, ডিসেম্বর ০৯, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ০৩:১০, ডিসেম্বর ০৯, ২০১৮

বিমানবন্দরদেশের সকল বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা আসছে লাইসেন্সিংয়ের আওতায়। এজন্য আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের পরিশোধিত মূলধন, লাইসেন্স ফির হার নির্ধারণ করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। তিন ক্যাটাগরিতে লাইসেন্স প্রদানের বিধান রেখে জারি করা হয়েছে প্রজ্ঞাপন। লাইসেন্স ফি ছাড়াও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে মাসিক রাজস্ব আয়ের ৫ শতাংশ দিতে হবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক)।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত বছর থেকে শুরু হয়েছে দেশের সকল বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা রেগুলেশনের আওতায় আনার উদ্যোগ। এজন্য তিন ক্যাটাগরির লাইসেন্স দেওয়ার বিধান রেখে নীতিমালার খসড়াও তৈরি করা হয়। এছাড়া, আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের পরিশোধিত মূলধন, ক্যাটাগরি অনুযায়ী লাইসেন্স ফির হার চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন ২৯ নভেম্বর জারি করা হয়। ‘এ’- ক্যাটাগরিতে একটি প্রতিষ্ঠান দেশের সব বিমানবন্দরে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের হ্যান্ডলিং করতে পারবে।

এক্ষেত্রে ‘এ’-ক্যাটাগরিতে আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন হতে হবে ২০০ কোটি টাকা। ‘বি’- ক্যাটাগরিতে ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন হতে হবে ৫০ কোটি টাকা। ‘বি’-ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠান শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ রুটে পরিচালিত বিমানবন্দরগুলোতে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দিতে পারবে। অন্যদিকে বাংলাদেশি এয়ারলাইন্সগুলো তাদের নিজস্ব ফ্লাইটের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং করতে পারবে, এজন্য ‘সি’- ক্যাটাগরিতে লাইসেন্স নিতে হবে। এক্ষেত্রে এয়ার অপারেটর সার্টিফিকেটে প্রদত্ত শর্ত মানতে হবে এয়ারলাইন্সগুলোর। বর্তমানে দেশি এয়ারলাইন্সগুলো নিজস্ব ফ্লাইটের গ্রাউন্ড সার্ভিস করে আসছে।

তিন ক্যাটাগরির লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। ‘এ’ ক্যাটাগরিতে শাহাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য লাইসেন্স ইস্যু ফি ১০ কোটি টাকা, নবায়ন ফি ৫ কোটি টাকা। একই ক্যাটাগরিতে সিলেটের ওসমানী, চট্টগ্রামের শাহ আমানত ও কক্সবাজার বিমানবন্দরের জন্য লাইসেন্স ইস্যু ফি ৪ কোটি টাকা, নবায়ন ফি ১ কোটি ৫০ লাখ  টাকা। অন্যান্য বিমানবন্দরের জন্য লাইসেন্স ইস্যু ফি ৩০ লাখ টাকা, নবায়ন ফি ১৫ লাখ টাকা। এছাড়াও  প্রতিটি ক্ষেত্রেই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে মাসিক ৫ শতাংশ হারে রাজস্ব আয়ের ভাগ দিতে হবে।

‘বি’- ক্যাটাগরির ক্ষেত্রে ঢাকার শাহাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য লাইসেন্স ইস্যু ফি ৫ কোটি টাকা, নবায়ন ফি ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। একই ক্যাটাগরিতে সিলেটের ওসমানী, চট্টগ্রামের শাহ আমানত ও কক্সবাজার বিমানবন্দরের জন্য লাইসেন্স ইস্যু ফি ২ কোটি টাকা, নবায়ন ফি ১ কোটি লাখ টাকা। দেশের অন্যান্য বিমানবন্দরের জন্য লাইসেন্স ইস্যু ফি ১৫ লাখ টাকা, নবায়ন ফি ৫ লাখ টাকা। এই ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠানকেও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে মাসিক ৫ শতাংশ রাজস্ব আয়ের ভাগ দিতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিশোধিত মূলধনের ৫ শতাংশ হারে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কাছে সিকিউরিটি ডিপোজিট ব্যাংক গ্যারান্টি হিসেবে জমা দিতে হবে। 

প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠার পর থেকেই যাত্রী পরিবহন ছাড়াও দেশের বিমানবন্দরগুলোর গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা এককভাবে দিয়ে যাচ্ছে। তবে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবার মান নিয়ে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অন্যদিকে দেশি এয়ারলাইন্সগুলো নিজেদের ফ্লাইটের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং নিজেরাই করছে। যদিও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লাইসেন্স ফি ১০ লাখ টাকা ও নবায়ন ফি ৫ লাখ করার প্রস্তাব করেছিল। বিমানের জন্য মাসিক রাজস্ব ফি ও জামানত মওকুফের বিধানও চেয়েছিল বিমান।

সূত্র জানায়, নীতিমালা অনুসারে প্রতিবছর লাইসেন্স পাওয়া গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবার মানের অডিট করবে বেবিচক। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট দ্বারা নিরীক্ষা করে বেবিচকের কাছে জমা দিতে হবে। এছাড়া, বেবিচকের অনুমতি ছাড়া কোনও যন্ত্রপাতি বেচাকেনা করতে পারবে না গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং প্রতিষ্ঠান। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং প্রতিষ্ঠানের কোনও শ্রমিক ইউনিয়ন, সংস্থা বা কোনও সংগঠন করা যাবে না।

এ প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর মোস্তাফিজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবার মান বৃদ্ধির জন্য লাইসেন্সের আওতায় আনা হচ্ছে। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।’

 

/এমএএ/

লাইভ

টপ