ভোটের জন্য প্রস্তুত ইসি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:৫৬, ডিসেম্বর ২৮, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:২৪, ডিসেম্বর ২৮, ২০১৮

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৬১০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন ৬ লাখ ৮ হাজার ও বাকি ৬৮ হাজার ৬১০ জন কেন্দ্রের বাইরে স্ট্রাইকিং ফোর্স, মোবাইল টিমসহ অন্যান্য দায়িত্ব পালন করবেন।

শুক্রবার (২৮ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি তুলে ধরে এ তথ্য জানান।

নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে ভোট হচ্ছে। এই ভোটের জন্য স্ব স্ব জেলা ও উপজেলায় নির্বাচনি সামগ্রী পৌঁছে গেছে। শুক্রবার রাতেই কেন্দ্রভিত্তিক ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনি সামগ্রী পৃথক করবেন।  শনিবার (২৯ ডিসেম্বর) সকাল ১০ প্রিজাইডিং অফিসারদের কাছে এগুলো হস্তান্তর করা হবে। প্রিজাইডিং অফিসারা পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশকে নিয়ে কেন্দ্রে যাবেন। সন্ধ্যার আগে তারা কেন্দ্রে পৌঁছে রাতে সেখানেই অবস্থান করবেন। ৩০ ডিসেম্বর সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরু হবে।’

ইসি সচিব বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের অধীনে প্রায় সাত লাখের কাছাকাছি নিরাপত্তা বাহিনী ও সাত লাখের মতো সিভিলিয়ান অফিসার নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া, পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকসহ আরও এক লাখ মানুষ থাকবে। এই ১৫ লাখ লোক নির্বাচনি কাজে নিয়োজিত থাকবেন। সবার কাজ হবে সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠান। আমরা আশা করবো, শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন হবে।’

পোলিং এজেন্ট সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘যে প্রার্থী যাকে পোলিং এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ করবেন, তিনি ভোটের দিন প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে তার নিয়োগপত্রটি পৌঁছে দিলেই চলবে।’

পোলিং এজেন্টের তালিকা ধরে হয়রানির অভিযোগ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘এটি রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দেওয়ার কথা নয়। দু-একটি জায়গায় এটি বিচ্ছিন্নভাবে হতে পারে। কিন্তু এটা হওয়ার কথা নয়। কমিশন থেকে এ ধরনের কোনও নির্দেশনা নেই। কোথাও হয়ে থাকলে আমরা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারকে এটি অবহিত করবো। সচিব হিসেবে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কেউ কোনও অভিযোগ  করেননি।’

ইসি সচিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৬ লাখ ৮ হাজার সদস্য। এর মধ্যে পুলিশ এক লাখ ২১ হাজার, আনসার চার লাখ ৪৬ হাজার, গ্রাম পুলিশ ৪১ হাজার।

নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত অন্যান্য বাহিনীর মধ্যে রয়েছে— সেনাবাহিনী ৩৮৯টি উপজেলায় ৪১৪ প্লাটুনে বিভক্ত করে ১২ হাজার ৪২০ জন, নৌবাহিনী ১৮ উপজেলায় ৪৮ প্লাটুন (১৪৪০ জন), কোস্ট গার্ড ১৮ উপজেলায় ৪৮ প্লাটুন (১২৬০জন), বিজিবি ৯৮৩ প্লাটুন (২৯৪৯০ জন), র‌্যাব ৬০০ প্লাটুন (১৮ হাজার) এবং মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স দুই হাজার প্লাটুন (প্রায় ৬৫ হাজার)।

এছাড়া, নির্বাচনে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৬৪০ জন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এক হাজার ৩২৮ জন (এর মধ্যে ৬৫২ জন আচরণ বিধি প্রতিপালনের জন্য) দায়িত্ব পালন করছেন।

এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১০ কোটি ৪২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ কোটি ২৫ লাখ ৭২ হাজার ৩৬৫ জন, মহিলা ভোটার ৫ কোটি ১৬ লাখ ৬৬ হাজার ৩১২ জন। নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র ৪০ হাজার ১৮৩টি, ভোট কক্ষ ২০ লাখ ৭৩১২টি। অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল ৩৯টি (নিবন্ধিত সবগুলো)। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এক হাজার ৮৬১ জন। রাজনৈতিক দলের প্রার্থী এক হাজার ৭৩৩ জন। স্বতন্ত্র প্রার্থী ১২৮ জন।

দেশি পর্যবেক্ষক ৮১ সংস্থার ২৫ হাজার ৯০০ জন, বিদেশি পর্যবেক্ষক ৩৮ জন, কূটনীতিক ও বিদেশি মিশনের কর্মকর্তা ৬৪ জন এবং বিদেশি মিশনে কর্মরত বাংলাদেশি ৬১ জন। এছাড়া, শতাধিক বিদেশি সাংবাদিক নির্বাচন কাভার করবেন।

ফলাফল ঘোষণা

নির্বাচনে ফলাফল ঘোষণার বিষয়ে ইসির অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান জানান, ফলাফল কেন্দ্রেই গণনা করা হবে। প্রিজাইডিং অফিসার ফলাফল গণনার পর উপস্থিত পোলিং এজেন্টদের কাছে হস্তান্তর করবেন। এরপর তিনি ফলাফল ও মালামাল সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের কার্যালয়ে এসে লিখিতভাবে জমা দেবেন। সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার সেই ফলাফল রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠাবেন। পরে রিটার্নিং অফিসাররা আরএমএস -এর মাধ্যমে (ইসির ইন্টারন্যাল সাইট) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠাবেন।

তিনি জানান, সচিবালয়ে ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে ৮টি বিভাগের জন্য ৮টি মনিটর থাকবে। সেগুলো আমরা মনিটরে দেখাবো। এই ৮টি বিভাগকে একত্র করে একটি মনিটরে দেখানো হবে।  আরও একটি মনিটর থাকবে রাজনৈতিক দলভিত্তিক। এই ১০টি মনিটরের মাধ্যমে ফলাফল দেখানো হবে। ওখানে একটি মঞ্চ থাকবে, সেখান থেকে ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণাও করা হবে।

 

/ইএইচএস/এপিএইচ/

লাইভ

টপ