যা নিয়ে যাত্রা শুরু নতুন সরকারের

Send
শফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত : ১৬:৩৯, জানুয়ারি ০৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:২৫, জানুয়ারি ০৫, ২০১৯


সরকারের মেগা প্রকল্পসবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সোমবার (৭ জানুয়ারি) শপথ গ্রহণ করবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে দেশকে উন্নতির পথে আরও এগিয়ে নেবে এমনটাই বিশ্বাস সবার। শেখ হাসিনা চতুর্থবারের মতো যখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন তখন বাংলাদেশের (মোট দেশজ উৎপাদন) জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। আর বর্তমানে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৭৫২ মার্কিন ডলার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত (৫ ডিসেম্বর) এক নোটে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, গত ১০ বছরের উন্নয়নের সূচক তৈরি করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। সরকার সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন নতুন সরকারের নেতৃত্বে আগামী ৫ বছরের উন্নয়নের এসব সূচক আরও এগিয়ে যাবে। যা বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার ক্ষেত্রে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

নতুন সরকার যখন দায়িত্বভার গ্রহণ করতে যাচ্ছে তখন বাংলাদেশের দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করা মানুষের হার মাত্র ২১ দশমিক ৮ শতাংশ। বাংলাদেশের রফতানি আয় বর্তমানে ৩৬ হাজার ৬৬৮ দশমিক ১৭ শতাংশ। ২০০৮ সালে এর পরিমাণ ছিল ১৫ হাজার ৫৬৫ মার্কিন ডলার।

নতুন সরকার যখন দায়িত্ব নিচ্ছে, তখন বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ হাজার ৯২৩ দশমিক ৫৭ মার্কিন ডলার। বর্তমানে দেশে মোট খাদ্যশষ্য উৎপাদন হয় ৪১৩ কোটি ২৫ লাখ মেট্রিক টন। দেশে বর্তমানে মাছ উৎপাদন হচ্ছে ৪১ দশমিক ৩৪ লাখ মেট্রিক টন। আর বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২০ হাজার ১৩৩ মেগাওয়াট। দেশে বর্তমানে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ১১ হাজার ৬২৩ মেগাওয়াট।

সূত্র জানায়, দেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠি ৯০ শতাংশ। দেশে বর্তমানে মোবাইলফোনের গ্রাহক সংখ্যা ১৫ কোটি ৫৮ লাখ। নতুন সরকার যখন দায়িত্বভার নিচ্ছে তখন বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ু ৭২ বছর। বাংলাদেশে বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭৩ শতাংশ। বাংলাদেশে বর্তমানে শিশুমৃত্যু হার প্রতি হাজারে ২৮ জন।

সূত্রমতে, বর্তমানে দেশে প্রতি ২ হাজার ৩৯ জন মানুষের জন্য একজন চিকিৎসক রয়েছেন। বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বনিম্ন ভাতার পরিমাণ ১০ হাজার টাকা। দেশে বর্তমানে বয়স্ক ভাতা পাওয়া উপকারভোগীর সংখ্যা ৩৫ লাখ। বর্তমানে দেশে বয়স্কভাতার জন্য সরকারি বরাদ্দের পরিমাণ ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা। দেশে বর্তমানে অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা প্রতি এক লাখে পান ৮ দশমিক ২৫ জন মানুষ।

অথচ ১৯৯৬ সালের পর গত ১০ বছর আগে ২০০৮ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যখন দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠন করেছিল তখন দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ২১ শতাংশ। ২০০৮ সালে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ছিল ৫৯৯ মার্কিন ডলার। সে সময় বাংলাদেশের দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করা মানুষের হার ছিল ৪০ শতাংশ। ২০০৮ সালে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৩৩৫ মার্কিন ডলার।

২০০৮ সালে খাদ্য উৎপাদন ছিল ৩১১ কোটি ২১ লাখ মেট্রিক টন। ২০০৮ সালে মাছ উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ২৫ দশমিক ৬৫ লাখ মেট্রিক টন। ২০০৮ সালে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ছিল ৫ হাজার ২৬২ মেগাওয়াট। ২০০৮ সালে দেশে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ৪ হাজার ১৩০ মেগাওয়াট।

সূত্র আরও জানায়, ২০০৮ সালে দেশে বিদ্যুৎ সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠি ছিল ৪৩ শতাংশ। সে সময় দেশে মোবাইলফোনের গ্রাহক সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৫০ লাখ। তখন বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ু ছিল ৬৪ বছর ৪ মাস। ওই সময় সাক্ষরতার হার ছিল ৫২ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০০৮ সালে প্রতিহাজারে বাংলাদেশে শিশুমৃত্যুহার ছিল ৪৫ জন।

২০০৮ সালে প্রতি ৩ হাজার ৩৫৩ জন নাগরিকের জন্য একজন চিকিৎসক ছিলেন। তখন মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বনিম্ন ভাতার পরিমাণ ছিল মাত্র ৬০০ টাকা। আর বয়স্কভাতা পাওয়া উপকারভোগীর সংখ্যা ছিল ১৭ লাখ। সে সময় দেশে বয়স্কভাতার জন্য সরকারি বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৪৪৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। আর অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা প্রতি এক লাখে পেতেন মাত্র ২ জন।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (৩ জানুয়ারি) সরকার গঠনের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। বৃহস্পতিবার সকালে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর বিকালে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি তাকে এ আমন্ত্রণ জানান। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী (৭ জানুয়ারি) সোমবার বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন আওয়ামী লীগের সভাপতি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোহম্মদ শফিউল আলম।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তার টানা তৃতীয়বারের মতো শপথগ্রহণ হলেও স্বাধীন বাংলাদেশে তিনিই একমাত্র নেতা যিনি চারবার এই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করবেন বলে জানিয়েছেন দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতা।

এই মেয়াদে কী নিয়ে যাত্রা শুরু করবে শেখ হাসিনার নতুন সরকার জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সরকারের উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রাখতে দেশের জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছে। সরকার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে চেষ্টা করবে। চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পুরোপুরি শেষ হলে বাংলাদেশ হবে বিস্ময়কর উন্নয়নের অনন্য এক বাংলাদেশ। যা বিশ্বে হবে অনন্য মডেল।

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা ধরেছিলাম ২০৩০ সাল নাগাদ দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করা যাবে। কিন্তু এখন দেখছি ২০৩০ সাল লাগবে না, আগামী ৫ বছরেই দেশ দারিদ্র্যমুক্ত হবে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা জরুরি। এই বিষয়টি দেশের মানুষ এবার বুঝেছে। দেশের মানুষ বুঝেছে শেখ হাসিনা মানেই উন্নয়ন। শেখ হাসিনা ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়।’

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে আমরা আগামী পাঁচ বছরে এতো উন্নয়ন করবো যা এ দেশের মানুষ কল্পনা করেনি। নির্বাচনের কারণে আশঙ্কা ছিল, ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি বাড়বে, কিন্তু বাড়েনি। আগামীতে মুল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ দেশের সবচেয়ে সফল মানুষ।

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে আমরা আগামী পাঁচ বছরে এতো উন্নয়ন করবো যা এ দেশের মানুষ কল্পনা করেনি। নির্বাচনের কারণে আশঙ্কা ছিল, ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি বাড়বে, কিন্তু বাড়েনি। আগামীতে মুল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ দেশের সবচেয়ে সফল মানুষ।’

/এসআই/টিটি/

লাইভ

টপ